নথুল্লাবাদে উচ্ছেদ অভিযান পথে বসতে পারে ১৭টি পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ অবশেষে উচ্ছেদ করা হলো নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় জেলা পরিষদের অবৈধ দখলীয় জমি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের নির্দেশে সেখানকার ১৭টি অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে দিয়েছে প্রশাসন। সেই সাথে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী কাহিম’র উপস্থিতিতে উচ্ছেদ পরবর্তী আদালতের রায়ের পক্ষে গন বিজ্ঞপ্তি নোটিশ টানিয়ে দিয়েছেন তারা।
এদিকে দীর্ঘ বছর পর নথুল্লাবাদে উচ্ছেদ উচ্ছেদ অভিযানের ফলে পথে বসার উপক্রম ঘটেছে ১৭টি পরিবারের। বুল্ড্রজার দিয়ে জমি উচ্ছেদ কালে সেখানকার ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী এবং তাদের স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে পরিবেশ। অসুস্থ হয়ে পড়তে দেখা গেছে বেশ কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত বৃদ্ধ ব্যবসায়ীদের।
ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-গুড়িয়ে দেয়া দোকানগুলো হলো, শিফা ক্রোকারিজ, খান কনফেকশনারী, এলাহী এন্টারপ্রাইজ, গুলবাগ বোডিং, সেঞ্চুরী হেয়ার কাটিং, ঘোষ মিষ্টান্ন ভান্ডার, ভাই
ভাই ক্লোথ অ্যান্ড টেইলাস, রাজলক্ষী মিষ্টান্ন ভান্ডার, আর্শীবাদ ক্রোকারিজ, শামীম হার্ডওয়ার, সবুজ ইলেকট্রনিক্স, জয় ষ্টোর্সসহ ১৭ টি।
আদালতের নাজির মো. জালাল আহম্মেদ জানান, নথুল্লাবাদ বাসষ্ট্যান্ডের পূর্ব পাশের জমিতে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে আসছিলো বরিশাল জেলা পরিষদ। কিন্তু জমির মধ্যে দশ শতকের মালিকনা দাবি করে আসছিলেন কামরুন্নার শিল্পী ও আব্দুস সালাম শামীম নামে স্থানীয় দুই বাসিন্দা।
এ ঘটনায় জেলা পরিষদ ও জমি মালিকানা দাবিদারদের সাথে দীর্ঘদিন আদালতে মামলাও চলছিলো। সর্বশেষ আদালত জমির মালিকানা দাবিদারদের পক্ষে রায় দিয়ে অবৈধ দোকানগুলো উচ্ছেদের আদেশ দেন।
জমির মালিক আ. ছালাম শামীম বলেন, কাশিপুরের বাঘিয়া মৌজার ৩২ নং জে এল এর ২০৬ নং খতিয়ানের (এসএ) ৪১০ ও ৪১১ নং দাগের মোট ১০ শতাংশ জমি তার ও তার বোন কামরুন্নাহার শিল্পির। কিন্তু এই জমি দীর্ঘদিন ধরে জেলা পরিষদ দখল করে তাতে প্রায় ১৭ টি দোকোন তুলে ভাড়া দিয়ে আসছিলো। এ নিয়ে দীর্ঘসময় ধরে জেলা পরিষদের সাথে তাদের মামলা চলে আসছে। ওই মামলায় গত ২৩ এপ্রিল আমাদের পক্ষে রায় হয়।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে আদালত জমি দখল মুক্ত এবং আমাদের পক্ষে গনবিজ্ঞপ্তি সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে দেয়। কিন্তু আদালতের দেয়া গনবিজ্ঞপ্তির পরেও জমি দখল মুক্ত করে দেয়নি জেলা প্রশাসক এবং সেখানকার ভাড়াটিয়া দখলদাররা। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী হাকিম মো. শফিউল্লাহ ও আদালতের নাজির মো. জালাল আহম্মেদ উপস্থিত থেকে পুলিশের সহযোগিতায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে দেন।
এদিকে জমিতে ভাড়াটিয়া মালিকরা অভিযোগ করেছেন, উচ্ছেদের পূর্বে তাদের কোন প্রকার নোটিশ দেয়া হয়নি। হঠাৎ করেই তারা উচ্ছেদ অভিযান চালায়। উচ্ছেদের আগে মালামাল সরাতে সময় সীমাবদ্ধতা থাকায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিসাধনের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশের কঠোরতায় ব্যর্থ হয় স্থানীয়রা। পরে বুল্ডেজার দিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে। এতে কোন রকমের মালামাল উদ্ধার করতে পারলেও লাখ লাখ টাকার খতি হয়েছে বলে দাবী জানান তারা।
স্থানীয় হাজী আব্দুল গনি মিয়ার পুত্র জানান, যেই জমিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে সেখানে তাদের মালিকানাধিন ৮টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আদালত যে ১০ শতাংশ’র পক্ষে রায় দিয়েছে সেই জমির সিমানার বাইরে তাদের ৮টি দোকান।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্ব দেয়া নির্বাহী হাকিম মো. শফিউল্লাহ’র সাথে কথা বলতে চাইলেও তিনি কোন প্রকার কথা শোনেন নি বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে তিনি আইনের সহযোগিতা এবং মামলা করবেন বলেও জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী হাকিম মো. শফিউল্লাহ জানান, রায় ঘোষণার পরপরই দখলদারদের দোকান এবং মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিতে নোটিশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা বিষয়টি আমলে নেয়নি। যে কারণে বুল্ডেজার দিয়ে অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কার জমি এবং কে মালিক সেটা আমার দেখার বিষয় না। আমি শুধুমাত্র আদালতের রায় বাস্তবায়ন করতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছি।
বরিশাল জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, নথুল্লাবাদ ব্রীজের পাশে আমাদের প্রায় এক একর জমি রয়েছে। ওই জমির পাশের দশ শতাংশ মালিকানা দাবি করে বহু বছর পূর্বে মামলা করেছিলো জনৈক আ. ছালাম শামীম, কামরুন্নাহার শেলী, কনা, ইউসুফ আলী ঘরামী ও মো. শহীদুল ইসলাম। ঐ মামলায় বাদীদের পক্ষে রায় দেয়া আদালত। যে কারনে আমাদের তোলা স্টলগুলো ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।
এদিকে দীর্ঘ বছর ব্যক্তি মালিকানাধিন জমিতে স্টল তুলে তা ভাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থের ভাগিদার হতে হলো সাধারন ব্যবসায়ীদের। যে দোকানগুলো অভিযান চালিয়ে ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে তার মধ্যে অনেকেরই শেষ সম্বল ছিলো দোকানটুকু। কিন্তু তা ভেঙ্গে দেয়ায় লাখ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি তাদের পরিবার নিয়ে পথে বসার উপক্রম ঘটেছে। আর সেই চিন্তায় অসহায় ব্যবসায়ীরা উচ্ছেদের সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। শেষ সম্বল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটুকু শেষ বারের মত রক্ষার চেষ্টায় আকুতি জানান অভিযানকারীদের নিকট। নারী এবং বৃদ্ধ ব্যক্তিদের প্রখর রোদের মধ্যে শেষ সম্বল রক্ষার আর্তনাদে অসুস্থ হয়ে পড়ার চিত্রও প্রত্যক্ষ করেছেন স্থানীয়রা। কিন্তু কারোর পক্ষেই কিছু করার ছিলোনা। এমনকি আদালতের রায়ের কাছে সিমাবদ্ধ থাকায় অভিযানকারীদেরও শুধু চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া কোন উপায় ছিলো না। তবে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের ঐ স্টলের পরবর্তীতে নগরীর অন্য কোথাও জেলা প্রশাসকের নিকট স্টল চেয়ে আবেদন জানাবেন বলেও জানিয়েছেন স্থানিয়রা।