নতুন পদ্ধতিতে পরীক্ষা শুরুর পর কেটে গেছে সংশয়

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ এসএসসি পরীক্ষায় পদ্ধতিগত পরিবর্তনকে স্বাভাবিকভাবে নিয়েছে পরীক্ষার্থীরা। পরীক্ষার প্রথমে বহু নির্বাচনী ও পরে সৃজনশীল পরীক্ষা নেয়া নিয়ে আতংকিত ছিল পরীক্ষার্থীরা। তবে পরীক্ষা শুরুর পর আতংক কেটে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে উভয় পদ্ধতির উত্তর দিয়েছে বলে পরীক্ষার্থীরা জানিয়েছেন।
এর আগে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নতুন এই পদ্ধতিতে পরীক্ষা না দেয়ার ফলে অনেকের মধ্যে নানা সংশয় ছিল। কিন্তু বাংলা ১ম পত্র দিতে এসে সেই ভয় কেটে গেছে। তারা জানান, এই পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে তাদের ফলাফলও আশানুরূপ হবে। এদিকে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান একই কথা। নতুন এই পদ্ধতি নিয়ে তাদের মধ্যে কম সংশয় ছিল না। সন্তানদের ভাল ফলাফলের জন্য তারা তাদের সাধ্যমত চেষ্টা করে গেছেন। শিক্ষকদের পাশাপাশি তারাও সন্তানদের এই পদ্ধতিতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করেছেন। তারা জানান, নকল মুক্ত পরীক্ষা দিতে পারলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধা আরও বিকশিত হবে। সেক্ষেত্রে দেশ ও জাতির মানব সম্পদের উন্নয়ন হবে। নতুন এই পদ্ধতি সম্পর্কে এসএসসি পরীক্ষার্থী ফারজানা আক্তার জানান, পূর্বে যে কোন পরীক্ষায় প্রথমত সৃজনশীল পরীক্ষা আগে নেয়া হত। পরবর্তীতে নেয়া হত বহুনির্বাচনী। কিন্তু বর্তমানের নিয়ম অনুয়ায়ী ৪০ নম্বরের বহুনির্বাচনী পরীক্ষা শুরুতে এবং ৬০ নম্বরের সৃজনশীল পরীক্ষা পরে নেয়া হবে। নতুন এই পদ্ধতি নিয়ে প্রথমদিকে ভয় থাকলেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পর সেটা কেটে গেছে। যার ফলে তারা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরীক্ষা দিয়েছে। নকল মুক্ত পরীক্ষার বিষয়ে এই শিক্ষার্থী বলেন, কিছু অসদুপায় অবলম্বনকারী শিক্ষার্থদের কারণে পুরো শিক্ষার্থীদের এই দায়ভার গ্রহণ করতে হবে। এ সময় তিনি এই পদ্ধতিকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এই পদ্ধতি আরও সম্প্রসারিত হলে নকলমুক্ত পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত হবে। এছাড়াও এই দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে বর্তমান এই তরুণ প্রজন্মই ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষা গ্রহণের নতুন এই পদ্ধতিকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন শিক্ষকরাও। তারা জানান, শিক্ষার্থীরা ভাল ফলাফল করুক সেটা আমরা সব সময় চাই। কিন্তু নকল করে পরীক্ষা দিয়ে ভাল ফলাফল করুক এটা আমরা চাইনা। কারণ নকলযুক্ত পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। তাই পরীক্ষা গ্রহণে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে নিয়ে আনতে সরকারের এই নতুন পদক্ষেপ আরও দীর্ঘায়িত হবে এই কামনাই করছি। এদিকে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ শাহ আলমগীর জানান, পরীক্ষা গ্রহণে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গবেষকদের মতামত অনুযায়ী এই পদ্ধতি পরিবর্তন করেছে। কারণ বিগত বছরগুলোতে সৃজনশীল আগে হওয়ার কারণে বহুনির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হলের বাহিরে পাচারের অভিযোগ প্রায়শই পাওয়া যেত। তাই সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণের এই পদ্ধতি। তিনি বলেন, প্রথমেই এই পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও, পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পর এই ক্ষোভ কেটে গেছে। তিনি বলেন, পরীক্ষার শুরুতে শিক্ষার্থীদের মনযোগ ভাল থাকে। যার ফলে এই পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। এছাড়াও এই পদ্ধতিতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পর শিক্ষার্থীরা আরও ভাল ফলাফল অর্জন করবে।