নগরীর ৩৪টি ও জেলায় ৫২৯টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে

সিদ্দিকুর রহমান আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শুভ মহালয়া। ঐদিন থেকে শুরু হবে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজার আনুষ্ঠানিকতা। এই বছর মহানগরী এলাকাসহ বরিশাল জেলায় সর্বমোট ৫শত ৬৩ টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। যার মধ্যে বরিশাল মহানগর এলাকায় ৩৪ টি এবং বাকি ৫২৯ টি জেলার উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে দেবী দুর্গার এই আগমনী বার্তায় বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে জেলায় ও মহানগরী এলাকায় উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে। এদিকে এরই মধ্যে নগরীর মন্দির গুলোর পূজামন্ডপগুলোতে প্রতিমা ও মন্ডপ তৈরির কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। গতকাল শনিবার নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন, সদররোড, ফলপট্টি, কাটপট্টি, কালিবাড়ী, কাউনিয়া এলাকায় বিভিন্ন মন্দিরের মন্ডপগুলো ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। মন্দিরে মন্দিরে এখন চলছে দেবী প্রতিমার উপর কাদামাটির প্রলেপের কাজ। যার ফলে পরবর্তীতে প্রতিমার ওপর রং-তুলির আঁচড়ে দশভুজা দেবী ষষ্ঠীর দিন পাবেন জীবন্ত রূপ। দেবী সেজে উঠবেন অপরূপ সাজে। শঙ্খ, উলুধ্বনি আর মঙ্গল সংগীতে দেবী দুর্গাকে বরণ করে নেবে সনাতন ধর্মাম্বলী ভক্তরা। জাতির মঙ্গল কামনায় সব অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রতি বছর মহালয়ার দিন দেবী দুর্গা শ্বশুরালয় থেকে পিতৃগৃহে চলে আসেন। আসুরিক শক্তির বিনাশ আর পার্থিব শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি লাভের জন্য হিন্দু সম্প্রদায় যুগ যুগ ধরে মা দুর্গার আরাধনা করে আসছে। এ বছর উৎসব উপলক্ষে করা হচ্ছে ব্যাপক আয়োজন।

নগরীর রামকৃষ্ণ মিশনের শারদীয় দূর্গা পূজা মন্ডপের সাধারণ সম্পাদক মহারাজ বিজিতাত্মানন্দ জানান, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শুভ মহালয়া অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুর্গা পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এবছর দেবী দুর্গা ঘোটকে (ঘোড়া) আগমন এবং ঘোটকেই (ঘোড়া) গমন করবেন। তিনি জানান, আগামী ৭ অক্টোবর থেকে শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল পুজা শুরু হয়ে ১১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মাধ্যমে এই দুর্গা উৎসব শেষ হবে। তিনি আরো জানান, দুর্গা পূজাকে ঘিরে এবারের আয়োজনের মধ্যে রয়েছে ০৭ অক্টোবর বেদীর ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ, ০৮ অক্টোম্বর সপ্তমীতে সকালে মহাসপ্তমী পূজা, ০৯ অক্টোবর সকালে দেবীর মহাষ্টমী পূজা আরম্ভ, রাত ১১টা থেকে ১১টা ৫২ মিনিটে সন্ধি পূজা, ১০ অক্টোবর পূর্বাহ্নে দেবীর মহানবমী পূজা সমাপন ও ১১ অক্টোবর সকাল ৯টা ৫৩মিনিটে দশমী পূজা আরম্ভ এবং সন্ধ্যা ৬ টা ৬মিনিটে পূজা সমাপন ও রাতে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হবে। এদিকে মহারাজ বিজিতাত্মানন্দ জানান, দেশব্যাপী জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলার ফলে একটু ভয়ভীতির মধ্যেই কাজ করা হচ্ছে। তারপরেও পুলিশ প্রশাসন এবং ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল জনসাধারনের সহযোগীতা শারদীয় দুর্গা পূজা সুষ্ঠু ও সুন্দর ভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে ফলপট্টি মহানগর দুর্গাপূজা মন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজে নিয়োজিত ফরিদপুরের রাজবাড়ীর নিতাই পাল জানান, বিগত ২০ দিন আগে থেকে এই প্রতিমা তৈরির কাজ শূরু হয়েছে। বর্তমানে দেবী প্রতিমার উপর কাদামাটির প্রলেপের কাজ চলছে। এছাড়াও আগামী ৬ অক্টোবরের মধ্যেই প্রতিমার ওপর রং-তুলির শেষ আঁচড়ের মধ্যে দিয়ে কাজ শেষ হবে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বরিশাল মহানগর ও জেলা শাখার পক্ষে মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের দপ্তর সম্পাদক স্বপন কর জানিয়েছেন, এই বছর মহানগর এলাকায় ৩৪ টি পূজা মন্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও মহানগরীর বাহিরের উপজেলা গুলোতে ৫২৯ টি পূজা মন্ডপে এই পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জানান এই বছর মহানগরী এলাকায় শারদীয় দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে এমন মন্ডপগুলোর মধ্যে রয়েছে, আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সড়কে শ্রী শ্রী শংকর মঠ, শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ মিশন, শ্রী শ্রী কালী মাতার মন্দির, ঝাউতলা ২য় গলি শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির, অমৃত লাল দে সড়কে শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির কারিকর বিড়ি, কালীবাড়ি সড়কে পাষানময়ী কালী মাতার মন্দির, সদর রোডে জগন্নাথ দেবের মন্দির, কাটপট্টি রোডে চার্চ ওয়ার্ড মন্দির, নিয়োগী প্রাঙ্গন মন্দির, ফলপট্টি মহানগর দুর্গাপূজা মন্ডপ, বাজার রোডে বড় কালিবাড়ী মন্দির, রাধা গোবিন্দ জিউর মন্দির, দপ্তর খানা রোডে দপ্তর খানা দুর্গা মন্দির, ভাটিখানা সড়কে ভাটিখানা পূজা মন্ডপ, কাউনিয়া প্রধান সড়কে লোকনাথ বাবার মন্দির, অপরাজিতা কুঞ্জ আশ্রম, অমৃতলালদে সড়কে অষ্টকোনা লোকনাথ বাবার মন্দির, টিয়াখালী ঠাকুরবাড়ি দুর্গা মন্দির, বিশ্বাসবাড়ী দুর্গা মন্দির, মহাশ্মশান কাউনিয়া দেবীবরণ পূজা কমিটি, জানকি সিংহ হরিজন কলোনিতে রাধাকৃষ্ণ ও মহামায়া মন্দির, চকবাজার এলাকায় মদনমোহন জিউর মন্দির, জিয়া সড়কে শ্রী শ্রী জয় ও কামেশ্বরী মন্দির, বগুড়া রোডে শ্রী শ্রী গৌড়িয় মঠ জয়শ্রী জীবসেবা, কাউনিয়া ব্রাঞ্চ রোডে সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির, শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ জিউর মন্দির, ২৭ নং ওয়ার্ডে সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির, পূর্ব স্বরোডের মরন দাসের কাঠের গোলা সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির, ২৩ নং ওয়ার্ড টিয়াখালী সার্বজনীন দূর্গা মন্দির। এছাড়াও ব্যক্তিগত ভাবে কাশিপুর ফিশারী রোডে স্বর্গীয় জুরান চন্দ্র মুখার্জী বাড়ি, অমৃত লাল দে সড়কে স্বর্গীয় হেমশংকর বিশ্বাস বাড়ি, শীতলাখোলা ঘোষ বাড়ী, সদর রোডের বণিক বাড়ী, কাউনিয়া ক্লাব রোডের সোম বাড়ি, কাউনিয়া প্রধান সড়কের কাজল করণ দাসের বাড়ী হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে পূজা কমিটির পক্ষ থেকে তিনি আরো জানান, দেশের বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ববর্তী বছর গুলোর তুলনায় এই বছর শারদীয় উৎসব দুর্গা পূজার মন্ডপ গুলোতে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা আরো কঠোর ভূমিকা পালন করবে।