নগরীর ২৪নং ওয়ার্ডে দুটি গরুর হাট নিয়ে দুই গ্রুপ মুখোমুখি

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর ২৪ নং ওয়ার্ডে একই স্থানে দুটি গরুর হাটের অনুমোদন দিয়েছে বিসিসি। মাত্র আধা কিলোমিটার জায়গার মধ্যে এই দুটি হাট নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপ। এ নিয়ে যে কোন সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকা করছে স্থানীয়রা।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের হাট বাজার শাখা সূত্রে জানা গেছে, কোরবানী উপলক্ষে এবার নগরীতে স্থানী-অস্থায়ী মিলিয়ে ৯টি হাটের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে ২৪ ও ২৫ নং ওয়ার্ডে তিনটি অস্থায়ী হাট রয়েছে। যে কারনে তিনটি হাটে গরু নামানো নিয়ে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে ২৪ নং ওয়ার্ডে রূপাতলী বাস টার্মিনাল থেকে দপদপিয়া সড়কে দুটি হাটের অনুমোদন দিয়েছে বিসিসি। এর মধ্যে একটি সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলের সামনে মুক্তিযোদ্ধা সড়কে এবং অপরটি আধা কিলোমিটারেরও কম দুরত্বে মোল্লা বাড়ি মাদ্রাসার পাশে বালুর মাঠে। এ দুটি হাটই পরিচালনা করবেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। তবে এ দুটি হাটের মধ্যে একটি হাটের অনুমোদন এই প্রথমবার দেয়া হলেও অপর হাটটি বরিশালের সর্ববৃহৎ হাট হিসেবে ইতিপূর্বে পরিচিতি লাভ করেছে।
বিসিসি’র ২৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও মোল্লা বাড়ি মাদ্রাসা সংলগ্ন বালুর মাঠের কোরবানীর পশুর হাটের ইজারাদার নাজমুল হুদা জানান, একই স্থানে বিসিসি কি কারনে দুটি হাটের অনুমোদন দিলো তা বোধগম্য নয়। মাত্র আধা কিলোমিটার কম দুরুত্বের স্থানে কামাল আহম্মেদ নামে অপর এক ব্যক্তিকে হাটের ইজারা দেয়া হয়েছে। নামে কামাল আহম্মেদ থাকলেও এর নেতৃত্বে আছেন আ’লীগ নেতা মো. আনিস শরিফ ওরফে আনিস মোহুরী।
তিনি বলেন, নিয়ম উপেক্ষা করে মহাসড়কের পাশে ঐ হাটের ইজারা দিয়েছে বিসিসি। যে কারনে বরিশালের মধ্যে সর্ববৃহৎ আমাদের এই হাটে বেপারীরা গরু নিয়ে আসতে বাঁধার সম্মুখীন হবে। তাছাড়া আমরা বেপারীদের আমাদের হাটে গরু নামাতে গেলে তাতে মুক্তিযোদ্ধা সড়কের হাটের ইজারাদাররা বাঁধা দিবে। এ নিয়ে টানা হেচড়া এবং বড় ধরনের রক্তপাতও ঘটতে পারে বলে আশংকা করেন তিনি।
তবে বিষয়টি নিয়ে কামাল এবং আনিছ শরিফ’র সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে হাটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজন জানিয়েছেন, আনুমতি নিয়েই হাট বসিয়েছি। বেপারীরা যেখানে সুযোগ সুবিধা ভালো পাবে সেই হাটেই যাবে। এখানে বাঁধা দেয়ার কিছু নেই।
এদিকে বিসিসি সূত্র জানায়, সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলের সামনে বিসিসি’র নিয়ন্ত্রণে একটি স্থায়ী হাট ছিলো। যা ইজারা দিয়ে বিসিসি রাজস্ব আদায় করতো। কিন্তু আনিস শরীফের করা জমির মালিকানা নিয়ে মামলার কারনে গরুর স্থায়ী হাটের ইজারা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে বিসিসি। তবে এ বছর একই স্থানে ক্ষমতাসীন দলের দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি গরুর হাট নিয়ে নতুন করে বিরোধ এবং রক্তপাতের আশংকা করছে স্থানীয়রা।