নগরীর ২৩ নং ওয়ার্ডে জমে উঠেছে প্রচার প্রচারনা আশ্বাসই এখন প্রার্থীদের প্রধান ভরসা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর ২৩ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে উপ-নির্বাচনের বাকি মাত্র ৮ দিন। ৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রচার প্রচারনায় ওয়ার্ডটিতে এখন উৎসবমূখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ওয়ার্ডের ভবিষ্যত কান্ডারী হতে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার প্রচারনায় নেমেছেন প্রার্থী সহ তাদের কর্মীরা। সামনে মাত্র ৮ দিন থাকায় দিনভর ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। অন্যদিকে প্রার্থীর সংখ্যা বেশী হওয়ায় কাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে ওয়ার্ডের উন্নয়ন হবে এ নিয়ে ভোটারদের মধ্যেও রয়েছে নানা উৎকন্ঠা। সাধারন ভোটাররা জানিয়েছেন , প্রয়োজনে সবসময় পাশে পাবেন যাকে, তাকেই ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী করবেন তারা।
সূত্র মতে, গত নভেম্বর মাসে মৃত্যুবরণ করেন ২৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজভী চৌধুরী। তার আকস্মিক মৃত্যুর পর ওয়ার্ডটির সাময়িক দায়িত্ব দেয়া হয় প্যানেল মেয়র আলতাফ মাহমুদ সিকদার। প্রতিনিধি শূন্য এই ওয়ার্ডে আগামি ১১ মাসের জন্য কাউন্সিলর নির্বাচনের জন্য উপ-নির্বাচন তারিখ ঘোষনা করা হয় কয়েক দিন আগে। সেখানে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে ৮ জন প্রার্থী। ১৮ ফেব্রুয়ারী ছিল তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। ঐ দিন বাছাই শেষে ৮ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে জানান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান। ১৯ ফেব্রুয়ারী তাদের প্রতিক বরাদ্দ দেয়া হয়।
প্রতিক বরাদ্দের পর গতকাল সোমবার থেকেই শুরু হয় প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার প্রচারণা। যা চলবে ভোট গ্রহণের ২৪ ঘন্টা আগ পর্যন্ত।
উপ-নির্বাচনে জি এম আক্তার হোসেন রিপন পেয়েছেন টিফিন ক্যারিয়ার প্রতীক। এছাড়া যুবলীগ সদস্য এনামুল হক বাহার ঘুড়ি, আমীর হোসেন লাটিম, আলতাব হোসেন রেডিও, শামীম হোসেন এসি, জিয়াউর রহমান ব্যাডমিন্টন, নুরুল ইসলাম সিকদার ট্রাকটর এবং লুৎফর রহমান পেয়েছেন ঠেলাগাড়ি প্রতীক।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুল মান্নান বলেন, আগামী ১ মার্চ ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। এই ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ২৩৫ জন। এদের ভোট গ্রহনের জন্য কেন্দ্র নির্ধারনের কাজ চলছে। শান্তিপূর্ন পরিবেশেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে আশাব্যক্ত করেছেন তিনি।
ভোটের প্রচার-প্রচারণা বিষয়ে ২৩নং ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল শোডাউন, পোস্টার-ব্যানার, দলবদ্ধ কর্মীদের লিফলেট বিতরণ, প্রার্থীদের ভোটারের দ্বারে গিয়ে বিভিন্নভাবে চলছে নির্বাচনী প্রচারণা। ভোর বেলা থেকেই গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই প্রচার-প্রচারণায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে । ব্যস্ত সময় পার করছে প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকরা। ৮ প্রার্থীর মধ্যে দুই তিন জন অনেকটা নিরবে প্রচারনা চালালেও অন্যান্যরা চালাচ্ছেন জম জমাট ভাবে। কখনো সমর্থকদের নিয়ে, কখনো বা একাই ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে করছেন ভোটের প্রার্থনা।
অন্যদিকে প্রার্থীর সংখ্যা বেশী হওয়ায় ভোটাররা পরেছে বিড়ম্বনায় । তবে সুখে-দুঃখে যাকে পাশে পাবেন বলে মনে করছেন ,এমন কাউকেই ভোট দিয়ে বিজয়ী করার কথা জানিয়েছে একাধিক ভোটার।
সিটি কর্পোরেশনের অবহেলিত ওয়ার্ড হিসেবে খ্যাত ২৩নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হলে উন্নয়নের জন্য কে কি করবেন তা নিয়ে কথা হয় প্রার্থীদের সঙ্গ। তাদের উন্নয়নের ভাবনাগুলো পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো,
উপ-নির্বাচনে প্রার্থী ২৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. জিএম আকতার হোসেন রিপন বলেন, নির্বাচিত হলে ২৩নং ওয়ার্ডকে কয়েকটি সেক্টরে ভাগ করে তার প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়ন সাধন করবেন তিনি। ওয়ার্ডবাসী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে ওয়ার্ডের গুরুতর সমস্যা যেমন- মাদক, ইভটিজিং, রাস্তাঘাটের সমস্যা সমাধানে যথাসম্ভব পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। তিনি নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডবাসীকে পরিবার মনে করে সর্বদা তাদের পাশে থাকবেন।
এনামুল হক বাহার বলেন, প্রতিনিধি না হয়েও সবসময় তিনি ২৩নং ওয়ার্ডের সাধারণ বাসিন্দাদের পাশে থেকেছেন। যুবলীগ নেতা হয়েও বিপদে-আপদে নিজের সর্বস্ব দিয়ে ওয়ার্ডবাসীর জন্য ঝাপিয়ে পড়েছেন। তিনি নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডের প্রতিটি কল্যাণমূলক কাজের জন্য তার শতভাগ নিয়োজিত করবেন।
আমীর হোসেন মিঠু বলেন, ২৩নং ওয়ার্ড বিসিসি’র একটি অবহেলিত ওয়ার্ড হিসেবে সর্বদাই উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে দূরে থেকেছে। এই ওয়ার্ডে তাজকাঠির মতো এখনো অনেক এলাকা রয়েছে, যা সিটি কর্পোরেশন এলাকা নয়, গ্রাম হিসেবে আখ্যা দেয়া যায়। ওই সব এলাকায় রাস্তাঘাট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই খারাপ, বর্ষার দিনে এসকল এলাকায় চলাচল করাও সম্ভব হয় না। এছাড়া ওয়ার্ডের প্রতিটি এলাকা মাদক সহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হতে পারলে এই সকল সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করবেন । যাতে করে ১১ মাস পরে অনুষ্ঠিত পরবর্তী বিসিসি নির্বাচনে তাকে ক্যাম্পেইন করতে না হয়।
আলহাজ্জ মাওলানা মোঃ লুৎফর রহমান সিকদার বলেন, অবহেলিত এই ওয়ার্ডে ড্রেনেজ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই খারাপ, তিনি নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডের ধর্মপ্রাণ মুসুল্লী ও সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করবেন। সিটি কর্পোরেশন থেকে না হলে ব্যক্তিগতভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন তিনি।
নুরুল ইসলাম সিকদার প্রিন্স বলেন, নির্বাচিত হলে এলাকার সকল সমস্যার সমাধানে সর্বদা এলাকাবাসীর সাথে থাকবেন এবং যাবতীয় সমস্যার সমাধান করে সম্ভাব্য উন্নয়নমূলক কাজ করবেন।
মোঃ আলতাফ হোসেন আবদুল্লাহ বলেন, নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডবাসীর সকল প্রয়োজনে সর্বদা পাশে থাকবেন।
মো. শামীম বলেন,কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডবাসীর বিশ্বাসের মর্যাদা রেখে উন্নয়নমূলক কাজে করবেন এবং ২৩নং ওয়ার্ডকে অপরাধমুক্ত ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলার সার্বিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।
অন্যদিকে ,জিয়াউর রহমান রুমি শারিরীক অসুস্থতার কারণে ঢাকা অবস্থান করায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।