নগরীর সেরা হতে সাজছে পূজা মন্ডপ

চন্দন জ্যোতি॥ মহালয়ার মধ্য দিয়ে গতকাল শারদীয় দূর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও পূজার মূলপর্ব শুরু হতে এখনো বাকী আছে ৫দিন। তাই সারা দেশের মতো বরিশাল নগরীর মন্ডপে মন্ডপে চলছে শেষ পর্যায়ের কাজ। প্রতমা শিল্পীদের চেয়ে আলোকসজ্জা আর তোরণ নির্মান কারিগরেরাও কম ব্যস্ত নয়। প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সেরা হবার প্রত্যয়ে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। শারদীয় দূর্গোৎসবে নগরীতে এ বছর ৩৪টি মন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে নগরীর শংকর মঠ, পাষানময়ী কালি মন্দির ও ফলপট্টি মহানগর পূজা মন্ডপ’র আলোকসজ্জা, প্রতিমা তৈরি ও ত্বোরণ নির্মানের ক্ষেত্রে ভিন্ন মাত্রার কারনে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের হৃদয় কেড়ে নেয়। সেই একই ধারা বজায় রেখে এ বছর আরো ব্যতিক্রম ভাবে নিজেদের এক নম্বরে রাখার চেতনায় কাজ করছেন বিভিন্ন মন্ডপ কমিটির নেতৃবৃন্দ। এর মধ্যে শংকর মঠ পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি কিশোর কুমার দে জানান, এ বছর দূর্গোৎসবে শংকর মঠ প্রতিমা তৈরী, আলোকসজ্জায় আরো নতুনত্ব আনা হচ্ছে। তাই পূজার ব্যয়েও গত বছরের চেয়ে এ বছর দুই লাখ টাকা বাড়ানো হয়েছে। তবে তিনি পূজাকালীন সময় নতুন বাজার এলাকার যানজট নিরসনে পর্যাপ্ত সংখ্যক ট্রাফিক পুলিশ ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ’র জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্শন করেন। শারদীয় দূর্গোৎসবে নগরীর পাষানময়ী কালিমন্দিরে এ বছর পুকুরের মাঝখানে মন্ডপ নির্মান করা হচ্ছে সেই সাথে সাজ-সজ্জা ও আলোক সজ্জায় আনা হচ্ছে নানা বৈচিত্র। মন্দিরের সাথে সংশ্লিষ্ট উদীয়মান যুবকরা পূজার যাবতীয় কাজে নিরলসভাবে  শ্রম দিয়ে যাচ্ছে। লক্ষ্য নিজেদের  সেরা হিসেবে আখ্যা পাওয়া। এমনটি জানালেন পাষানময়ী কালি মন্দিরের পুরোহিত দুলাল ভট্টাচার্য। তিনি জানান আর ২/৩ দিনের মধ্যেই প্রতিমার রংয়ের কাজ শুরু করবেন শিল্পীরা। পূজার অধিকাংশ কাজ প্রায় শেষ। অন্যদিকে ফলপট্টি মহানগর পূজা মন্ডপেও দেখা গেছে আলোকসজ্জা ও বৈচিত্রময় তোরণ নির্মানে বেশ ব্যস্ত মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ। মহানগর পূজা মন্ডপের সম্পাদক জয়ন্ত কুমার দাস জানান, পূজার তো কোন প্রতিযোগিতা নেই। তবে পূজার আনন্দ আর উৎসবের মাত্রা বৃদ্ধির জন্য এ বছর অনেক ব্যতিক্রম কাজ করা হয়েছে। যেমন এক প্রতিমার মাঝে তিন রকমের ভিন্নতা থাকবে যা বাংলাদেশের কোথাও হয়নি, তোরণ নির্মানে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে কৃষিকে। আলোকসজ্জা ও রয়েছে বৈচিত্র। মোট কথা দূর্গা মায়ের কৃপায় নগরবাসীর মাঝে এক ভিন্নতর উৎসবের মাত্রা বইবে। এছাড়া নগরীর অন্যান্য পূজা মন্ডপ ও প্রতিমা তৈরী, আলোকসজ্জা আর ত্বোরণ নির্মানেই কোন কমতি নেই। যার যার বাজেট অনুসারে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে শারদীয় দূর্গোৎসব সুন্দর ও সফল ভাবে শেষ করতে যেমন ভাটিখানা, দপ্তরখানা, বড় কালিবাড়ি, কাটপট্টি, সদররোড, নতুন বাজার, রামকৃষ্ণ মিশন সহ নগরীর সকল পূজা মন্ডপ।