নগরীর লালন হত্যায় ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ পারিবারিক বিরোধের জের ধরে স্বামী লালনকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল বুধবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিহত লালনের ভাই সম্রাট হোসেন মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের বিচারক নুসরাত জাহান শুনানী শেষে কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরনের নির্দেশ দেন। মামলায় অভিযুক্তরা হলো নগরীর ফরিয়াপট্টি এলাকার আঃ জব্বার, তার মেয়ে ও লালনের স্ত্রী রিনা বেগম, স্ত্রী শানু বেগম, অপর মেয়ে চাদনী আক্তার এবং প্রতিবেশী মোঃ মাহাবুবের স্ত্রী ডালিয়া বেগম। আদালত সূত্র জানায়, নগরীর পদ্মাবতী ন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপের কর্মচারী লালন আড়াই বছর পূর্বে ভালোবেসে পরিবারের অমতে রিনা বেগমকে বিয়ে করে। বিয়ের পর লালন তার স্ত্রীকে নিয়ে ফরিয়াপট্টিতে একটি ভাড়া বাসায় ওঠে। সেখানে স্ত্রীর বেপরোয়া জীবন যাপনে বাধা দিলে উভয়ের মধ্যে দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। এ নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া সৃষ্টি হয়। এ সকল ঘটনায় রিনার মা সহ অন্যান্যরা রিনাকে প্ররোচনা দেয়। ঘটনার দিন ২২ নভেম্বর বিকেলে রিনা ও তার মা শানু বেগম লালনকে রাস্তা থেকে ধরে ঘরে নিয়ে আসে। এ সময় ঘরে থাকা অন্যান্যরা লালনকে বেদম মারধর করে। পরে তারা লালনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা সাজায়। এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হলেও লালন হত্যার রহস্য উদঘাটনের পর গতকাল মামলাটি দায়ের করলে বিচারক ওই নিদের্শ দেন। এদিকে লালনের পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়েছে রিনার পূর্বে বিয়ে ছিল। ওই ঘরের সন্তান সহ লালনকে প্রেমের ফাদে ফেলে বিয়ে করে। বিয়ের পরও তার সাথে বিভিন্ন পুরুষের সম্পর্ক ছিল। এ কারণে লালনের সাথে প্রায়ই বাকবিতন্ডা হতো। তারা আরো জানায়, রিনার মা কোতোয়ালী থানার এক পুলিশ সদস্যে বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করে। ওই পুলিশ সদস্যের কারণে কোতোয়ালী থানায় তারা মামলা দায়ের করতে পারেনি। মামলার বাদী সম্রাট জানান, রিনার পূর্বের স্বামীকেও সে হত্যা করেছে।