নগরীর রাস্তা, একটিও নেই আস্তা

জুবায়ের হোসেন ॥ নগরীর প্রধান সড়ক সদর রোড সহ প্রায় সবগুলো সড়কের বেহাল দশায় ভোগান্তি পিছু ছাড়ছে না নগরবাসীর। দীর্ঘদিন থেকে চলাচলের প্রায় অনুপযোগী প্রধান রাস্তা ঘাটগুলো এখন নগরবাসীর মাথা ব্যাথায় পরিনত হয়েছে। বিসিসি কর্তৃপক্ষের মেরামতের জন্য উপযোগী আবহাওয়ার অপেক্ষা এবং কিছু অসচেতন মহলের স্বেচ্ছাচারিতায় ক্ষনিকের এই সমস্যা নগরীর স্থায়ী সমস্যায় পরিনত হয়ে যাচ্ছে। যে কারনে চলাচলে বিড়ম্বনা শিকার হয়ে নগরবাসীরা হয়ে উঠেছেন অতিষ্ঠ। শুধু সড়ক গুলোই নয় ফুটপাত দখল এবং বিঘিœত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারনে নগরবাসীর এই সমস্যাগুলো দিনে দিনে প্রকট আকার ধারণ করে চলেছে। তবে দীর্ঘদিনের এই সমস্যার কোন সমাধান দিতে না পারলেও বিসিসি কর্তৃপক্ষ সর্বদাই আশার বানী শুনিয়ে বরাবরের ন্যায় জানাচ্ছে শীঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহনের পুরোনো আশ্বাসের কথা।
সূত্রমতে, বিগত বর্ষা মৌসুমের রেকর্ড পরিমান ভারী বর্ষন ও বন্যায় নগরীর প্রতিটি কোনের ছোট বড় প্রায় সকল সড়ককেই ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। এর পর সেই সড়ক গুলো মেরামতের জন্য তহবিল শূন্য বিসিসি কর্তৃপক্ষ তেমন কোন সুব্যবস্থা নিতে পারেনি। যখন একেবারেই চলাচল এর অনুপযোগী হয়ে পড়েছে তখন নিয়েছে সামান্য মেরামতের কিছু সাময়িক উদ্যোগ। তবে সেই উদ্যোগ গুলো ভোগান্তি লাঘবের স্থলে ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এবছর বর্ষা মৌসুমে নগরীর প্রধান সরকগুলো যেমন রুপাতলি বাসস্ট্যান্ড
থেকে নাজিরপুল পর্যন্ত, বটতলা থেকে চৌমাথা পর্যন্ত, নবগ্রাম রোড, বিএম কলেজ সড়ক, পোর্টরোড সড়ক, বগুরা রোড, বান্দরোড, গোঁড়াচাদ দাস রোড ইত্যাদি সড়কগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এই সড়কগুলো বর্ষায় খানাখন্দের সড়কে পরিনত হয়ে চলাচলের জন্য অনুপযোগী হয়ে পরে। অন্যদিকে ড্রেনেজ ব্যবস্থার বিঘেœর কারনে পানি নিস্কাসনের প্রক্রিয়া নষ্ট হয়ে সামান্য বৃষ্টিপাতে তা প্লাবিত হতে শুরু করে। একইসাথে তদারকির অভাবে মরার ওপরে খারার ঘা হয়ে নগরবাসীর ভোগান্তির অন্যতম কারন হয়ে দাড়ায় প্রভাবশালীদের ফুটপাত দখল করে বিভিন্ন সরঞ্জাম রাখার মত বিষয়গুলো। এসময় বিশেষ খারাপ অবস্থার বিবেচনা করে আমতলার মোড় থেকে নাজির পুল পর্যন্ত সড়কটি মেরামতের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া হলেও তা বন্ধ হয়ে যায় বর্ষার কারনে। এর পর ২২ আগষ্ট ৪ যুগের রেকর্ড ভাঙ্গা বর্ষনে পুরো নগরী জলাবদ্ধতায় পরে সড়কগুলো পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যায়। ক্ষতির পরিমান দাড়ায় সিটি কর্পোরেশনের হিসেব অনুযায়ি ৬’শ কোটি টাকা। এর পরে সেই অবস্থায় চলতে থাকে। মেরামত এর কাজ অপেক্ষায় থাকে উপযোগী মৌসুমের। অন্যদিকে মেরামতের অপেক্ষায় থেকে রাস্তাঘাট গুলো আরও ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে তা পরিনত হয় চলাচলকারী যানবাহন ও বাসিন্দাদের প্রতিদিনের ভোগান্তিতে। সর্বশেষে গতকাল বুধবার সাড়ে ৬ ঘন্টার বৃষ্টিপাতে নগরীর ক্ষতিগ্রস্থ সড়কগুলো আবারো চলে যায় পানির নিচে। আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ট পর্যবেক্ষক মিলন হাওলাদারের দেয়া তথ্যে ১২০ মিলিমিটার এর এই বর্ষনে তৈরি হয় এই জলাবদ্ধতা। সঠিকভাবে পানি নিস্কাশিত না হওয়ায় সদর রোডের কাকলির মোড়, বগুরা রোড, বটতলা সড়ক, আমির কুটির, বিএম কলেজ সড়ক সহ বিভিন্ন প্রধান প্রধান সড়কগুলো জলাবদ্ধতার কারণে নগরবাসীর ভোগান্তির কারণ হয়ে দাড়ায় নতুন করে। অন্যদিকে সড়কে জলাবদ্ধতা এবং দখল করা ফুটপাত এ দুই মিলে চলাচলকারী পথচারীদের বিরক্তির কারণে পরিণত হয়। জলাবদ্ধ সড়কের একমাত্র চলাচলের স্থান ফুটপাত নির্মাণ সামগ্রী রেখে দখলের চিত্র দেখা গেছে বটতলা, আমির কুটির, গোঁড়াচাদ দাস রোড সহ বিভিন্ন এলাকায়। বিকেলে পানি কিছুটা কমে গেলে দেখা গেছে এই মৌসুমের ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো এখন একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। যান চলাচল তো দূরের কথা, এই সড়কগুলো এখন পায়ে হেটে যাওয়ার অনুপযোগী বলে মন্তব্য করেছে একাধিক পথচারি। একই সাথে বিসিসি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এই ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ দেয়ার। অন্যথায় এমন সড়কে নিয়মিত ঘটবে ছোট বড় দুর্ঘটনা। এবিষয়ে বিসিসির প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মোতালেব হাওলাদারের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, এখনও তারা অপেক্ষায় আছেন বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার। সকল সড়কেই মেরামত কাজ করা হবে বলে জানান তিনি। নগরীর প্রধান সড়ক (রূপাতলী থেকে নাজিরের পুল) এর মেরামতের কার্যাদেশ হয়েছে রোজার আগেই। এমনকি সকল সরঞ্জামাদিও কেনা হয়েছে। গত ২-১ দিনেই কাজ শুরুর করার ইচ্ছা থাকলেও বর্ষার কারণে আবারও পিছিয়ে পড়েছে। তবে যতটা শীঘ্রই সম্ভব এই সড়কটি সহ সকল সড়ক মেরামত করে নগরবাসীর ভোগান্তি লাঘব করা হবে বলে জানান তিনি।