নগরীর ব্যানার সাইনবোর্ড বিলবোর্ড স্থাপনে আসছে বিধি-নিষেধ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর সৌন্দর্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ন স্থানগুলোতে ৫ দিনের বেশি কোন ধরনের ব্যানার, সাইনবোর্ড ও বিলবোর্র্ড রাখা যাবেনা। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। তাছাড়াও নির্দিষ্ট সময়ের বেশি ব্যানার, বিলর্বোড রাখা হলে নির্ধারিত হারে ফি জমা দেয়ার নিয়ম চালু করা হতে পারে। আর এই জন্যই শীর্ঘ্রই রাজনৈতিক নেতাদের সাথে বৈঠক করা হবে বলে জানা গেছে। গতকাল রোববার জেলার আইনশংখলা কমিটির মাসিক সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো: সাইফুজ্জামান জানান এই নগরীতে বিভিন্ন দেশ বা অঞ্চলের পর্যটক আসে। কিন্তু শহরের প্রধান প্রধান স্থানগুলোতে সবসময় হরেক রকমের ব্যানার ও ফ্যাস্টুন, বিলবোর্ড দিয়ে ঢাকা থাকে। যার ফলে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলছে নগরীতে দেখতে আসা মানুষগুলোকে। তাই শহরের সৌন্দর্য রক্ষায় যততত্র ব্যানার, বিলবোর্ডের উপর কিছু নিয়ম চালু করা প্রয়োজন। এতে করে পুরনো সৌন্দর্য রক্ষা পাবে। কারন হিসেবে দেখা গেছে কোন এক অনুষ্ঠান বা দিবস কেন্দ্র করে মহান ব্যক্তিদের ছবি দিয়ে ব্যানার বিলবোর্ড করা হলেও ঐ দিবস চলে যাওয়ার কয়েক মাস পরেও তা খুলে ফেলা হয় না। আর এতে করেই নগরীর সৌর্ন্দয রক্ষা করা যাচ্ছে না। এসময় তিনি আরো বলেন, যত্রতত্র রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ব্যানারের বিষয়ে ইতিমধ্যে বরিশাল ২ আসনের সাংসদ এ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস এবং বরিশাল-৫ আসনের সাংসদ জেবুন্নেছা আফরোজের সাথে আলাপ করা হয়েছে। এছাড়াও অতি অল্প সময়ে অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সাথে এই বিষয়ে আলোচনা করা হবে।
জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো: সাইফুজ্জামান এই শহর আমাদের সকলের, তাই এর সৌর্ন্দয রক্ষা করার দ্বায়িত্ব আমাদের। এসময় তিনি কোন দিবস বা দলীয় কার্যক্রমের জন্য করা কোন ব্যানার বা বিলবোর্ড দিবস বা দলীয় কার্যক্রমের আগের ২ দিন এবং পরের দুদিন সহ মোট পাচদিন রেখে পরে নিজ দ্বায়িতে খুলে রাখার বা নিয়ে যাওয়ার জন্য সকল রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তারপরেও প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী নির্দিস্ট সময়ের পরে ঐ সকল ব্যানার ও বিলবোর্ডের মালিকদের উপর নির্ধারিত হারে ফি জমা নেয়ার নিয়ম চালুর সিদ্বান্ত গ্রহন করা হবে। এসময় তিনি আরো বলেন, বরিশালের ২১ টি খাল অপদখল মুক্ত করা হয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে খালগুলো খুলে দেয়া হবে। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, বরিশালের উজিরপুরের হারতা মাছ বাজারে ডাকাতির রহস্য উদ্ধার হয়েছে। খুব শীঘ্রই ভাল খবর দেয়া হবে। সভায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা মো: ওয়াহিদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মো. জাকির হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজাদ রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা ও উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা এবং চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।