নগরীর ব্যস্ততম সাগরদী সড়ক এখন মরন ফাঁদ !

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর মধ্যে অন্যতম ব্যস্ততম সড়কের নাম সাগরদী সড়ক। বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলার সাথে সড়ক যোগাযোগের মাধ্যম হচ্ছে এই সড়কটি। যে কারনে রাজধানী এবং খুলনা সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করছে সাগরদী সড়কটি হয়ে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে। স্বল্প প্রস্থের রাস্তাটির মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। তার মধ্যে সড়ক উন্নয়নে চলছে মারাত্মক ধীরগতি। যে কারনে যানবাহন চলাচলের জন্য একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে আমতলার মোড় জিরো পয়েন্ট থেকে রূপাতলী গোলচত্তর পর্যন্ত রাস্তাটি। তার মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ঘটছে প্রতিনিয়ত ছোট বড় দুর্ঘটনা। সড়কের উপরে যাত্রী নিয়ে উল্টে যাচ্ছে ইজিবাইক (ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা)। সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজটের। যা সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকেও। রাস্তা বর্ধিতকরনের নামে ঠিকাদারের খামখেয়ালীপনার কারনে পথচারী ও যাত্রীরা সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হলেও বিষয়টির প্রতি যেন দৃষ্টি নেই সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্তা ব্যক্তিদের। অবশ্য তারা বলছেন দুর্ভোগ লাঘবে যত দ্রুত সম্ভব উন্নয়ন কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখাগেছে, আমতলার মোড় জিরো পয়েন্ট হতে রূপাতলী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার সড়ক। এই রাস্তাটি হয়েই রাজধানী থেকে ছেড়ে যাত্রীবাহী পরিবহনগুলোকে যেতে হচ্ছে ঝালকাঠি, খুলনা, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, কুয়াকাটা এবং ভোলা সহ দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য অঞ্চলে। এর পাশাপাশি পণ্যবাহী পরিবহন এবং গনপরিবহনতো রয়েছেই। মোট কথা প্রতিদিন সকাল থেকে গভির রাত পর্যন্ত হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করছে রাস্তাটি দিয়ে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি দীর্ঘ বছর ধরেই অগুরুত্বহীন অবস্থায় পড়ে আছে। সাগরদী ব্রিজের আগ থেকে শুরু করে রূপাতলী বাস টার্মিনাল পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘ দিন ধরেই ভেঙ্গে-চুড়ে মরন ফাঁদে পরিনত হয়ে আছে। মাঝে মধ্যে রাস্তাটির উপর ইট-পাথর দিয়ে মেরামত করা হলেও স্থায়ী কোন সমাধানের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

গতকাল রোববার দুপুর আড়াইটা হতে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সাগরদী পুলে অবস্থান করে দেখা যায়, সাগরদী পোল থেকে খুব সহজেই নামতে পারছে না যানবাহন। সাবধানতার সাথে চলছে হচ্ছে ছোট-বড় প্রত্যেকটি যানবাহনকে। তবে এ সময়ের মধ্যে দুটি অটোরিক্সা উল্টে যাওয়ার দৃশ্যও প্রত্যক্ষ করা গেছে। এতে করে যাত্রীরা বড় ধরনের কোন ক্ষয়ক্ষতির শিকার না হলেও কিছু হলেও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন তারা। তাছাড়া রাস্তাটি ভাঙ্গা থাকার কারনে আমতলার মোড় জিরো পয়েন্ট হতে রূপাতলী পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ট্রাফিক পুলিশ যানজট নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করেও হিমশিম খেতে হয় তাদের। তার মধ্যে ধুলে একাকার পুরো সড়কটি।

আমতলার মোড়ের মনোহরি ব্যবসায়ী সাইদ কবিরাজ বলেন, সাগরদী পুলের প্রস্থ খুবই কম। তার পরে রয়েছে একটি মোড়। এর মধ্যে দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে বিলম্ব হয়। তার মধ্যে অনেক আগে থেকেই পুলের দুই পাশের স্তায় ভেঙ্গে বিশাল আকারের গর্ত হয়েছে। সামান্য বর্ষায় কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায় রাস্তাটি। আবার খড়ার সময় ধুলে একাকার হয়ে যাচ্ছে গোটা রাস্তাÑঘাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

তিনি বলেন, এর মধ্যে দীর্ঘ দিন পূর্বে রাস্তা বর্ধিত করন কাজ শুরু করেছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। দীর্ঘ দিন আগেই বর্ধিত অংশে ইট-পাথর ফেলার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন কার্পেটিং করলেই হয়। কিন্তু সেই কার্পেটিং এর কাজই দীর্ঘ দিন ধরে ফেলে রেখেছে। যে কারনে দুই পাশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় ওই স্থান থেকে যানবাহন চলতে পারছে না। তাই দ্রুত ওই রাস্তার কার্পেটিং শেষ হলে ভোগান্তি কিছু হলেও দুর হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি সাগরদী ব্রিজটি বর্ধিত করা সম্ভব হলে যানজট একেবারেই থাকবে না বলেও দাবী তাদের।

এ প্রসঙ্গে সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ওই রাস্তাটির বিষয়ে পূর্বে থেকেই আমরা অবহিত রয়েছি। বর্তমানে রাস্তা বর্ধিত করন কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব কাজ সম্পন্ন করতে আমরাও চেষ্টা করছি। তাছাড়া বর্ধিত করন কাজের পাশাপাশি পুরো রাস্তাই কার্পেটিং করা হবে। এতে করে ভোগান্তি অনেকাংশে দুর হবে বলে মনে করেন তিনি।