নগরীর বিদ্যুৎ বিভাগের অসাধু মিটার রিডারদের হয়রানির শিকার হচ্ছে গ্রাহকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর বিদ্যুৎ বিভাগের অসাধু মিটার রিডারদের হয়রানির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। প্রতি মাসে তাদের মাসোহারা না দেয়ায় গ্রাহকদের গুনতে হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। এতে করে গ্রাহকদের অর্থ খোয়ার পাশাপাশি হয়রানির শিকার হলেও আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে মিটার রিডাররা। কিন্তু লিখিত অভিযোগের দোহাই দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করছেন কর্মকর্তারা। ফলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে।
গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মিটারের রিডিং লেখার জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে মিটার রিডারদের। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতি মাসে গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। বিশেষ করে নগরীর চাঁদমারী এলাকায় অবস্থিত বিদ্যুৎ বিক্রয় এবং বিতরণ কেন্দ্র-১ এর মিটার রিডারদের হয়রানির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। মাসোহারা পাবার আশায় গ্রাহকদের অতিরিক্ত বিল ধরিয়ে দিচ্ছে তারা। বিশেষ করে বিদ্যুৎ বিক্রয় এবং বিতরণ কেন্দ্র-১ এর মিটার রিডার নিজাম উদ্দিন তার সহযোগী আব্দুল হালিম এবং আব্দুর রশিদ ও তার সহযোগী সুলতান তাদের অধিনস্ত ফিডারের গ্রাহকদের জিম্মি করে রেখেছেন।
জানা গেছে, নিজাম উদ্দিন এবং তার সহযোগী আব্দুল হালিম বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-১ এর অধিনস্ত সিএন্ডবি ফিডারে মিটার রিডিং এর দায়িত্বে আছেন। প্রতি মাসে এই দুই মিটার রিডারের অবৈধ ভাবে উপার্জন হচ্ছে প্রায় লাখ টাকা। তবে এদের মধ্যে নগরীর অক্সফোর্ড মিশন রোডের বাসিন্দা নিজাম উদ্দিনের মাধ্যমে গ্রাহকরা বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অক্সফোর্ড মিশন রোড এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ইতিপূর্বে তাদের বিদ্যুৎ বিল আসতো সর্বোচ্চ দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। কিন্তু হঠাৎ করেই গত কয়েক মাস যাবৎ বিদ্যুৎ বিল সর্বনি¤œ ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা করে আসতে শুরু করেছে। যে কারণে হতাশ হয়ে পড়ছে তারা।
গ্রাহকরা বলেন, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার বিষয়ে মিটার রিডার নিজাম উদ্দিন এর সাথে কথা বলেন। এসময় তিনি তাদের জানায়, প্রতি মাসে মিটার রিডিং কমিয়ে দিবেন। এতে বিল কম আসবে। তবে এজন্য মিটার প্রতি মাসে ৫শ টাকা করে ঘুষ দাবী করেন দুর্নীতিবাজ মিটার রিডার নিজাম উদ্দিন। অন্যথায় প্রতিমাসে বেশি বিল আসবে বলেও জানান তিনি।
তবে মাসোহারার টাকা শুধু তিনি নিজেই নয়, তার সহযোগী মিটার রিডার আব্দুল হালিম এবং বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভাগ দিতে হয় বলেও দাবী নিজাম উদ্দিনের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিজাম উদ্দিন ইতিপূর্বে নগরীর আমানতগঞ্জ বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-১ এর মিটার রিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চার বছর সেখানে দায়িত্ব পালন শেষে দুর্নীতি এবং ঘুষ কেলেংকারির দায়ে সেখান থেকে শাস্তিমূলকভাবে বদলী করা হয় চাঁদমারী বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরন কেন্দ্র-১ এ। আর যোগদানের পর গত প্রায় চার বছরে এখানে ঘুষ বাণিজ্যের অভয়ারন্য গড়ে তোলেন তিনি। সেই সুযোগে মিটার রিডার নিজাম উদ্দিন খুব স্বল্প সময়ে কোটিপতি বনে যেতে শুরু করেছেন। নগরীর ভিআইপি এলাকা খ্যাত অক্সফোর্ড মিশন সড়কে বসবাসের পাশাপাশি বিলাশবহুল ভাবে চলাফেরা তার। সামান্য মিটার রিডারের চাকুরী করে নিজাম উদ্দিনের এমন সৌখিন জীবন যাপন এলাকাবাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে।
এদিকে নগরীর বান্দ রোড অর্থাৎ মেডিকেল ফিডার এলাকায় দায়িত্বে আছেন মিটার রিডার আব্দুর রশিদ এবং তার সহযোগী সুলতান। এই দুই মিটার রিডারও ঠিক একই ভাবে গ্রাহকদের হয়রানি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মেডিকেল ফিডারের চতুর্থ শ্রেণি স্টাফ কোয়ার্টারের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মিটারে বিল কম আসবে বলে মিটার রিডার আব্দুর রশিদ এবং সুলতানকে প্রতি মাসে ৫শ টাকা করে ঘুষ দিয়ে আসছিলেন তারা। এতে করে প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল আসত সর্বোচ্চ ৫শ থেকে ৮শত টাকা। কিন্তু গত ৩/৪ মাস যাবত ঘুষ দেয়া বন্ধ করে দেয়ায় বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। কেননা বর্তমানে তাদের বিদ্যুৎ বিল আসছে সর্বনি¤œ সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। যা একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকেও মাসে এতটুকু বিদ্যুৎ বিল দিতে হচ্ছে না। তার উপর কোয়ার্টারে নেই এয়ারকন্ডিশন, এয়ারকুলার, হিটার কিংবা বিদ্যুৎ ব্যয় হওয়া যন্ত্রপাতি। চতুর্থ শ্রেণির চাকুরী করে মাস শেষে শুধুমাত্র ৫ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করাটা কষ্টকর হয়ে দাড়ায় বলে দাবী কর্মচারীদের।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে আলাপকালে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন সিএন্ডবি ফিডারে মিটার রিডারের দায়িত্বে থাকা নিজাম উদ্দিন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিল কমানো কিংবা বাড়ানোর কোন ক্ষমতা আমাদের হাতে নেই। তাছাড়া অক্সফোর্ড মিশন রোড এলাকায় কারো কাছে ঘুষ চেয়েছেন কিনা তা মনে পড়ছে না বলে দাবী জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী এটিএম তারিকুল ইসলাম এর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিলের বিষয় নিয়ে কোন মিটার রিডার গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করছে এমন অভিযোগ পূর্বে পাননি। তবে কেউ প্রতারণার শিকার হয়ে থাকলে সে লিখিত অভিযোগ দিলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।