নগরীর বর্জ্য ফেলতে বিসিসি’র দৈনিক বাড়তি ব্যয় ২০ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ডাম্পিংয়ের ষ্টেশনে বর্জ্য ফেলতে প্রতিদিন বিসিসি’র গুনতে হচ্ছে ২০ হাজার টাকা। বর্জ্য ফেলতে গত তিনদিনে অর্ধলক্ষাধিক’র বেশি টাকা ব্যয় হয়েছে। কত দিন ধরে প্রতিদিন এ ব্যয় করতে হবে সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য দিতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। নগরীর একমাত্র ডাম্পিং ষ্টেশনে বর্জ্য ফেলার স্থান না থাকায় ব্যয় করতে হচ্ছে। বিসিসি সুত্র জানিয়েছে, নগরীর বর্জ্য ডাম্পিং ষ্টেশন ছাড়া অন্য কোথাও ফেলার স্থান নেই। সেখানে পাহাড়সম বর্জ্য’র স্তুপ। সেই স্তুপ’র মধ্যে গর্ত করে ও অপর পাশে বর্জ্য সরিয়ে নতুন করে এনে ফেলতে হবে। তাই গত তিনদিন ধরে দুই খনন যন্ত্র (এক্সিভেটর) দিয়ে ওই কাজ করতে হচ্ছে। বিসিসি’র বিকল এক্সিভেটর দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না করার খেসারত দিতে হচ্ছে এখন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান থেকে দৈনিক ২০ হাজার টাকা ভাড়ায় দুইটি এক্সিভেটর দিয়ে এ কাজ করতে হচ্ছে। এছাড়াও ডাম্পিং ষ্টেশনের জন্য জমি কেনার ৮ কোটি টাকা অন্য খাতে ব্যয় না করলে এক্সিভেটর ভাড়ার অর্থ ব্যয় করতে হতো না।
বিসিসি’র পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা দিপক মৃধা জানান, নগরী ৩নং ওয়ার্ড পূরানপাড়া এলাকায় বিসিসি’র ডাম্পিং ষ্টেশন নগরীর বর্জ্য’র বিশাল স্তপ হয়েছে। এই কারনে গত সপ্তাহে নগরীর থেকে ট্রাকে বর্জ্য নিয়ে যাওয়ার অপসারন করা যায়নি। দুইদিন বন্ধ রাখার পর বৃহস্পতিবার থেকে পূনরায় বর্জ্য নিয়ে ডাম্পিং ষ্টেশনে ফেলা শুরু হয়েছে।
বিসিসি’র সহ পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলী জানান, বৃহস্পতিবার থেকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দৈনিক ১২ হাজার টাকা ভাড়ায় এক্সিভেটর দিয়ে ডাম্পিং ষ্টেশনের বর্জ্যর স্তুপ সরিয়ে ফেলাসহ গর্ত করা হয়। এছাড়াও বর্জ্য ফেলার কারনে ষ্টেশনে প্রবেশ করার আটকে যাওয়া পথ পরিস্কার করার কাজ করা হয়। একটি এক্সিভেটর দিয়ে যে কাজ হয়। একদিনের বর্জ্য ফেলায় ভরে যায়। তাই শুক্রবার থেকে আট হাজার টাকা ভাড়ায় আরো একটি এক্সিভেটর এনে কাজ করা হচ্ছে। দুইটি এক্সিভেটর দিয়ে ডাম্পিংষ্টেশনের বর্জ্য সরিয়ে ও গর্ত করে নতুন করে ফেলা হবে।
বিসিসি’র যান্ত্রিক শাখার প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম টিপু জানান, পূর্বের এক্সিভেটরটি সচল করতে কোন সিদ্বান্ত নেয়া হয়নি। নতুন করে একটি এক্সিভেটর কিনতে প্রায় ৭০ লাখ টাকার প্রয়োজন।
বিসিসি’র স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমান জানান, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে জেলা প্রশাসকের সহায়তা ভাগারের জমি ক্রয়ের জন্য ৮ কোটি টাকা বরাদ্ধ পাওয়া গিয়েছিল। অর্থ সংকটের কারনে ওই টাকা অন্যখাতে ব্যয় করা হয়। বর্তমানে বিসিসি’র পক্ষে ওই টাকা দিয়ে জমি ক্রয় করা সম্ভব নয়। তাই বর্জ্য নিয়ে চ্যালেঞ্জে পড়তে হচ্ছে। ডাম্পিং ষ্টেশন বর্জ্য ফেলার উপযোগি করতে হলে একটি বুলডোজারও প্রয়োজন রয়েছে।
উল্লেখ্য প্রায় দুই দশক পূর্বে স্থায়ীভাবে বর্জ্য ডাম্পিং করার জন্য নগরীর পূরাণপাড়া ও হোসনাবাদ এলাকার ৬ একর জমি অধিগ্রহন করা হয়। এরপর থেকে সেখানে নগরীর গৃহস্থলি ও ক্লিনিক্যালসহ সকল বর্জ্য ডাম্পিং করা হয়। বর্জ্য’র স্তুপ কমিয়ে ফেলতে প্রতিদিন পেট্রোলসহ দাহ্য পদার্থ দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। কিন্তু বর্জ্যর পরিমান এত বেশি সেখানে এসে জমা পড়ে। তাতে বর্তমানে ফেলার মতো অবস্থা নেই।
ডাম্পিং ষ্টেশন’র বর্জ্য দিয়ে জৈব সার উৎপাদন করার একটি প্রকল্প করার কথা ছিল। চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে বিসিসি’র চুক্তি হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে চুক্তি বাতিল করে চীনের প্রতিষ্ঠানটি। তাই নতুন করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোন প্রকল্প গ্রহন করেনি বিসিসি। অর্থ সংকটসহ প্রযুক্তিবিদদের অভাবে বর্জ্য শুধু জমা হয়। অচিরেই নতুন স্থান তৈরি না করা হলে কিংবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোন প্রকল্প না নিলে ভয়াবহ সমস্যা পড়বে বিসিসি।