নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে অটোরিক্সা চলাচল বন্ধ থাকায় জনমনে স্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক উচ্চাদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের প্রথম দিনেই চিত্র পাল্টে গেছে বরিশাল নগরীর। প্রাণকেন্দ্র সদর রোডসহ গুরুত্বপূর্ন কয়েকটি সড়কে ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সার চলাচল বন্ধ থাকায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নগরবাসী। তাছাড়া অটোরিক্সার কারণে প্রতিদিন নগরীতে কমপক্ষে অর্ধশত ছোটবড় দুর্ঘটনা ঘটলেও গতকাল বৃহস্পতিবার সে হিসেবের খাতা ছিল একেবারে শূন্য।

অটোরিক্সা বন্ধ থাকা সড়কগুলোতে চলাচলরত নগরবাসী শুধু প্রধান সড়ক নয়, পুরো নগরী থেকেই অটোরিক্সা তুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এক বছর পূর্বে উচ্চাদালত থেকে দেশের সিটি কর্পোরেশনগুলোতে ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সার চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেন। কিন্তু অটোরিক্সার সাথে জড়িতদের কথা চিন্তা করে তাদের গত ৩০ জুন পর্যন্ত সময় দেয় বরিশাল সিটি কর্পোরেশন। ওই দিনের পর থেকে নগরীতে ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা চলাচল বন্ধের ঘোষণা থাকলেও আকস্মিকভাবে উচ্চাদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে সিটি কর্পোরেশন থেকে কিছু অটোরিক্সার লাইসেন্স নবায়ন করা হয়।

উচ্চাদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করায় যে সকল অটোরিক্সা নগরী ছেড়ে চলে গিয়েছিল তারা আবার নগরীতে ফিরে আসে। এর সাথে যোগ হয় বিভিন্ন উপজেলায় চলাচলরত অটোরিক্সা। আর অটোরিক্সা অদক্ষ চালক চালানোর কারণে যানজটের সাথে সাথে বেড়ে যায় দুর্ঘটনা। অটোরিক্সার কারণে পথচারীরা পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারতো না। আর উচ্চাদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় উর্ধ্বতন পর্যায় থেকে বরিশাল ট্রাফিক বিভাগের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।

বিষয়টি পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন অবগত হওয়ার পর গত ৩০ আগস্ট সভা আহবান করেন। ওই দিন হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়নে রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট কমিটির সিদ্ধান্ত হয়। এর ফলে গতকাল থেকে জেলখানা মোড় এবং জিলা স্কুল মোড় অতিক্রম করে কোন অটোরিক্সা সদর রোডে চলাচল করতে পারেনি।

একইভাবে নগরীর গির্জামহল্লা, ফজলুল হক এভিনিউ সড়কেও অটোরিক্সা চলাচল বন্ধ ছিল। রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট কমিটির সদস্য ও উপ-পুলিশ কমিশনার আবু সালেহ মোঃ রায়হান জানান, বিভাগীয় জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ, সিটি কর্পোরেশন, সড়ক ও জনপথ, পুলিশ বিভাগের প্রতিনিধিসহ ১৩ জন প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত এ কমিটি হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী অটোরিক্সা চলাচল বন্ধে কাজ করছে।

অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সদর রোড, গির্জামহল্লা ও ফজলুল হক এভিনিউ এলাকায় অটোরিক্সা চলাচল না করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত যারা মানবে না তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপ-পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান আরো জানান, পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে উচ্চাদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে তারা কাজ করছেন।

পর্যায়ক্রমে নগরীর থেকে ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা তুলে দিয়ে উচ্চাদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করা হবে। নগরীর বাসিন্দা মাহামুদুল করিম চৌধুরী ও সোয়াইব সাকিরসহ অর্ধশত ব্যক্তি পত্রিকা অফিসে মোবাইল করে অটোরিক্সা বন্ধ করায় নগরীর প্রাণ কেন্দ্রে নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল এবং যানজট না থাকায় তারা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান।

একই সাথে পূর্বের অবস্থা যাতে আর ফিরে না আসে তার দাবি জানান। তারা আরো বলেন, বরিশাল নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল ফিরিয়ে আনতে এখন প্রয়োজন সম্পূর্ন নগরী থেকে অটোরিক্সা বন্ধ করা। গতকাল নগরীর যে সকল সড়কে অটোরিক্সার চলাচল বন্ধ ছিল সেখান থেকে সাধারন নগরবাসী স্বস্তিতে চলাচল করেছে। একটি স্থানেও তেমন যানজট দেখা যায়নি।

আর যে সকল যানবাহন চলাচল করেছে তারা চালক হিসেবে অভিজ্ঞ থাকায় ঘটেনি কোন দুর্ঘটনাও। রিক্সা চালক জামাল জানান অটোরিক্সার কারণে তারাও রিক্সা চালাতে সমস্যা পড়তেন। অটোরিক্সা না থাকায় যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে তাদের কোন দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি। এমনকি প্রতিদিন অটোরিক্সা কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০টি রিক্সার ক্ষতি করত।

গতকাল তাদের রিক্সার কোন ক্ষতিও হয়নি। এ ব্যাপারে পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন জানান, উচ্চাদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ হিসেবে নগরীর প্রাণ কেন্দ্র অটোরিক্সা মুক্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সমস্ত নগরী থেকেই অটোরিক্সার চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে। এ জন্য তারা শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তবে সিটি কর্পোরেশন অনৈতিকভাবে কিছু অটোরিক্সার লাইসেন্স নবায়ন করেছে বলে তিনি জানান।