নগরীর দুটি আলোচিত ঘটনার একটিতে তৎপরতা অপরটি র

রুবেল খান ॥ নগরীহস্যেঘেরাতে পর পর দুটি আলোচিত ঘটনার একটিতে পুলিশের তৎপরতা বেশ পরিলক্ষিত হলেও অপরটি রয়েছে অন্ধকারে। একটি হলো- ওষুধ কোম্পানির ডিপোতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি এবং অপরটি গুলি করে স্বর্ণ ছিনতাই। এর মধ্যে ওষুধ কোম্পানির ডিপোতে ডাকাতির ঘটনার মূল হোতা সহ দু’জন আটক এবং রহস্য উদঘাটন হয়েছে। কিন্তু প্রকাশ্যে গুলি করে স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনার রহস্য হিমাগারেই রয়ে গেছে। ঘটনার পর সন্দেহজনক ভাবে তিন জন আটক হলেও তাদের কাছ থেকে মেলেনি কোন তথ্য। এমনকি রহস্য উদঘাটনে পরবর্তী কোন তৎপরতাও দেখাতে পারেনি পুলিশকে।
অভিযোগ উঠেছে স্বর্ণ ছিনতাইয়ের শিকার হক জুয়েলার্স ব্যবসায়ী জামায়াত ঘরোয়ার হওয়ায় বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছেন না প্রশাসন। সেই সাথে মামলা তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া তদন্ত কর্মকর্তার অদক্ষতার অভিযোগতো রয়েছেই। আর অদক্ষতার কারণেই প্রথম দফায় পরিবর্তন করা হয়েছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
জানাগেছে, গত ১ মার্চ রাতে দোকান থেকে স্বর্ণালংকার নিয়ে বাসায় ফেরার পথে বাংলাদেশ ব্যাংক গলিতে গুলি করে হক জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী মিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে প্রায় একশ ভরি স্বর্ণালংকার ছিনতাই করে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনার মাত্র দু’দিনের মাথায় গত ৪ মার্চ দুর্ধর্ষ ডাকাতি হয় নগরীর সিএন্ডবি সড়কের ইনসেপ্টা ওষুধ কোম্পানির ডিপো অফিসে। এসময় ঐ ডিপো অফিস থেকে ৭০ লক্ষ টাকা এবং ওষুধ সহ একটি কাভার্ড ভ্যান লুট করে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র। অবশ্য ৫ মার্চ সকালেই কাভার্ড ভ্যানটি ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে স্বর্ণ ছিনতাইয়ের চার দিন পর ওষুধ কোম্পানিতে ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের বেশ অগ্রগতি রয়েছে। কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ এবং গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে উদঘাটন করেছেন ডাকাতির রহস্য। পাশাপাশি মিশনে অংশ নেয়া ৮ জনের মধ্যে মূল হোতা সহ ২ জনকে পৃথক ভাবে গ্রেপ্তার করেছে থানা ও ডিবি পুলিশ। কিন্তু এখনো অজানাই রয়ে গেছে গুলি করে স্বর্ণ ছিনতাইর ঘটনার রহস্য।
কোতয়ালী মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, গুলি করে স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয় সদস্য পদোন্নতি পাওয়া উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল ইসলামকে। তিনি গুরুত্বপূর্ণ এবং চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত করতে পুরোপুরি অনভিজ্ঞতার প্রমাণ দেন। যে কারণে ঘটনার প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও ঘটনার কুল কিনারা খুঁজে বের করতে পারেননি তিনি।
অবশ্য স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিনজনকে রহস্যজনক ভাবে আটক করা হয়েছিলো। তাও তদন্ত কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম নয়, তাদের আটক করে দিয়েছেন মডেল থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন। কিন্তু তাদের জিজ্ঞাসাবাদে স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনার কোন রহস্য কিংবা ক্লু বের করতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে তদন্ত কর্মকর্তার অজ্ঞতায় মামলাটি ধীরে ধীরে অন্ধকারে পতিত হয়। যে কারণে শেষ পর্যন্ত তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। রেজাউল ইসলামকে বাদ দিয়ে এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে এসআই দেলোয়ার হোসেনকে। ইতিমধ্যে তিনি মামলাটির সকল ফালইপত্র বুঝে নিয়েছেন।
জানতে চাইলে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেন বলেন, মাত্র ২/৩ দিন পূর্বে স্বর্ণ ছিনতাই মামলাটির দায়িত্ব আমাকে দেয়া হয়েছে। দায়িত্ব পেয়ে ফাইলপত্র বুঝে নিয়েছি। এখন শুধু তদন্ত কর্যক্রম শুরুর অপেক্ষা। পারিবারিক কাজে ঢাকা থেকে ফিরে এসে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম শুরু করব।
এসআই দেলোয়ার বলেন, তদন্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণ নতুন করে শুরু করতে হবে। কেননা এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা। তাছাড়া ছিনতাইয়ের ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তারা পেশাদার। তাই তাদের শনাক্ত করাটা একটু কঠিন হয়ে দাড়াবে। যেসব তালিকা ভূক্ত শীর্ষ অপরাধী রয়েছে তাদের মাধ্যমে ঐ ঘটনার অপরাধীদের সন্ধান সনাক্ত করতে হবে। তবে খুব দ্রুতই ঘটনার রহস্য বেরিয়ে আসার পাশাপাশি অপরাধীরাও ধরা পড়বে বলে জানিয়েছেন তিনি।