নগরীর টিএন্ডটিতে মৌসুমি ফল চুরির মহোৎসব শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর টিএন্ডটিতে শুরু হয়েছে মৌসুমি ফল চুরির মহোৎসব। নামে মাত্র কর্মচারীদের ভাগ বাটোয়ারা করে দেয়ার কথা বলে হাজার হাজার টাকার ফল চুরি করে নিচ্ছে এখানকার কর্মকর্তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার আম চুরির এমনই একটি দৃষ্টতা স্থাপন করলেন টিএন্ডটি’র কর্মকর্তারা। সরকারি বিধি নিষেধের তোয়াক্কা না করে টিএন্ডটি কম্পাউন্ডের কয়েক হাজার টাকার আম পেড়ে নিয়েছেন তারা। তবে কর্মকর্তারা একারাই নয়, যে আম পাড়া হয়েছে তা নি¤œ শ্রেণি থেকে শুরু করে উপরস্থ সকল কর্মকর্তারা সমভাগে ভাগ করে নিয়েছে বলে দাবী কর্মকর্তাদের।
সরেজমিনে দেখাগেছে, নগরীর ফজলুল হক এভিনিউ সড়কের টিএন্ডটি কার্যালয় কম্পাউন্ডে বিভিন্ন প্রকারের মৌসুমি ফলের গাছ রয়েছে। যার মধ্যে আম, কাঁঠাল এবং নারিকেল গাছের সংখ্যা বিপুল সংখ্যক। প্রতিটি আম এবং কাঁঠাল গাছে এবার বিপুল পরিমান ফল ধরেছে। একদিন আগেও গাছগুলোতে আম এবং কাঁঠালের অভয়ারন্য ছিলো। কিন্তু এখন কাঁঠাল থাকলেও গাছগুলোতে পাতা ছাড়া খুঁজে পাওয়া যাবে না আমের অস্তিত্ব। কেননা গাছে ধরা আমগুলো সব পেড়ে নিয়েছেন এখানকার কর্মকর্তারা।
টিএন্ডটি কার্যালয়ের বেশ কিছু সূত্র জানায়, সরকারি গাছের ফল পাড়তে হলে অনুমতির প্রয়োজন রয়েছে। চাইলেই ফল পেড়ে ভোগ কিংবা বিক্রি করতে পারবে না সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু এমন নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে টিএন্ডটি’র সহকারি বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. খলিলুর রহমান ও উপ-সহকারি প্রকৌশলী এম.এ জলিল টিএন্ডটির প্রতিটি গাছের আম পেড়ে সাবার করে ফেলেছে। গাছগুলোতে পাতা ছাড়া আম খুঁজে পাওয়া যাবে না বলেও জানান সূত্রগুলো। গতকাল এক দিনেই কম করে হলেও প্রায় ৫০ হাজার টাকার আম পেড়ে তা লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দেখাগেছে, সহকারি বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. খলিলুর রহমানের অফিস কক্ষেই ভাগ বাটোয়ারা করা হচ্ছে আমগুলো। সর্বোচ্চ ২০-২৫টি করে আম দেয়া হচ্ছে নি¤œ শ্রেণির কর্মচারীদের। কিন্তু বাকি আমগুলো সব চলে গেছে সহকারি বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. খলিলুর রহমান ও উপ-সহকারি প্রকৌশলী এম.এম জলিল সহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের বাড়িতে। অভিযোগ উঠেছে উল্লেখিত দুই কর্মকর্তা নিজের বাসার কথা বলে আম নিলেও তা বহিরাগতদের কাছে বিক্রি করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার।
আম পাড়া এবং তা ভাগবাটোয়ারা করার বিষয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা কর্মচারীদের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, উপ-সহকারি প্রকৌশলী এম.এ জলিল স্যার আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন তাই আমরা আম পেড়েছি। কিন্তু ভাগ বাটোয়ারা যা করার তিনিই করছেন।
এ বিষয়ে সহকারি বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. খলিলুর রহমানের সাথে কথা বলতে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তার কার্যালয়ে গেলে তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি। তবে তার রুমের মধ্যে আম ভাগ বাটোয়ারা করতে দেখা গেছে উপ-সহকারি প্রকৌশলী এম.এ জলিলকে। এসময় সরকারি গাছের আম পেড়ে লুট করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আম পেড়ে কর্মকর্তা-কর্মচারিরা ভাগ করে নেয়ার নিয়ম আছে। তাই আমরা আম পেড়ে নিজেরাই ভাগ করে নিয়েছি।
তাছাড়া যে আম পাড়া হয়েছে তা আমি পাড়িনি। সহকারি বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. খলিলুর রহমান স্যার বলেছেন আম পড়ে নষ্ট হচ্ছে এবং পাখিতে খাচ্ছে। তাই আমগুলো পেড়ে সবাইকে ভাগ করে দিতে। তার নির্দেশেই আমি আমগুলো কর্মচারীদের দিয়ে পাড়িয়ে তাদের মাঝেই ভাগ করে দিয়েছি।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, শুধুমাত্র আমই নয়, ইতিপূর্বে টিন্ডটি কম্পাউন্টের হাজার হাজার টাকার ডাব-নারিকেল এবং কাঠ চুরির ঘটনা ঘটিয়েছেন এখানকার অসাধু কর্মকর্তারা। এসব ফল বিক্রি করে হাজার হাজার টাকা আত্মসাত করেন তারা। কিন্তু বিষয়টি উপরস্থ কর্মকর্তাদের নজরে আসছে না। অবশ্য আম এবং ফল লুটপাটের সাথে বরিশালের উপরস্থ কর্মকর্তাদের যোগ সাজস রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।