নগরীর ঝুঁকিপূর্ন ৩৪ ভবন ভেঙ্গে ফেলতে চূড়ান্ত নোটিশ

রুবেল খান ॥ নেপালে ভূমিকম্পের ভয়াবহ পরিস্থিতির পর টন নড়েছে বিসিসির প্রকৌশল শাখার। অব্যাহত ভূমিকম্প ও বড় ধরনের আঘাতের ঝুঁকিতে থাকায় নগরীর ঝুঁকিপূর্ন ভবন অপসারনে কঠোর হয়েছে তারা। তাই এক মাসের মধ্যে নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ৩৪ ভবন নিজ উদ্যোগে ভেঙ্গে ফেলার জন্য চূড়ান্ত নোটিশ দিয়েছে বিসিসির প্রকৌশল শাখা। গত ২ জুন এই চুড়ান্ত নোটিশ দেয়া হয়েছে। নোটিশ পেয়ে ইতিমধ্যে নগরীর কাটপট্টি রোডের ঝুঁকিপূর্ণ একটি ভবন ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।
প্রকৌশল শাখা থেকে জানা গেছে, প্রায় ৫ বছর পূর্বে উচ্চ পর্যায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নগরীর ৩০ ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৪ ঝুঁকিপূর্ন ভবন ঝুঁকিপূর্ন ঘোষনা করা হয়। এর পর ওই ভবনগুলো তাৎক্ষনিকভাবে ভেঙ্গে ফেলার জন্য নোটিশ জারি করা হয়। একের পর এক নোটিশ দেয়ার পরেও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন মালিকরা কর্ণপাত করেননি। উল্টো ঝুঁকিপূর্ন এসব ভবনে বসবাসের পাশাপাশি ভাড়া দেয়।
নগর ভবনের প্রকৌশল বিভাগ সূত্র বলেছে, ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানে কয়েক দফা ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্পের প্রভাব বরিশালে পড়েছে। এতে তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ঝুঁকি বেড়েছে। তাই যে কোন সময়ে বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানলে এসব ভবন ধ্বসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই খুব দ্রুত এসব ভবন ভেঙ্গে ফেলা জরুরী বলে দাবী জানিয়েছেন প্রকৌশল বিভাগের বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ।
তাই বিসিসির তালিকাভুক্ত নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন কাউনিয়া জানুকিসিংহ সড়কের মতি লস্করের বাড়ি, বগুড়া রোড কাজি অফিসের পেছনে রবিন্দ্র নাথ সেন’র ভবন, আগরপুর সড়ক মহিলা কলেজের দক্ষিণ পার্শ্বে ফরিদ আহম্মেদ’র ছেলে মনু মিয়া গংদের বাড়ি, সদর রোডের কাকলি সিনেমা হল মোড় সংলগ্ন ফজলুল হক এভিনিউ সড়কের আব্দুর রউফ হায়দার’র মালিকানাধীন হোটেল বাহাদুর ভবন, আলহাজ্ব আব্দুর রহিম এর গোল্ডেন টাওয়ার ভবন, সার্কুলার রোডের সাবেক প্রধান শিক্ষক সৈয়দ মনছুর আহমেদ এর বহুতল বাস ভবন, ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়কের (সদর রোড) ডা. কে.এম আলাউদ্দিন’র স্ত্রী ফাতেমা খাতুনের মালিকানাধীন শাকুর ম্যানশন (হোল্ডিং নং-৭৭৫), ঈস্বরবসু সড়কের সৈয়দ মোবারক হোসেন’র কণ্যা এ্যাড. রাশিদা আক্তার চম্পা গংদের সৈয়দ মঞ্জিল, হাসপাতাল রোড অমৃত লাল দে কলেজের দক্ষিণ পার্শ্বের মানিক মৃধার ছেলে মান্নান মৃধার বাস ভবন, আব্দুর জব্বার’র ছেলে মনিরুজ্জামান’র স্টার টেইলাস বিল্ডিং, কালুশাহ সড়কের আশ্রাফ আলী’র ছেলে জালাল আহম্মেদ এর বাস ভবন, মেজর এম.এ জলিল সড়কে (নবগ্রাম রোড) সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের পুরাতন হোস্টেল ভবন, শের-ই-বাংলা মেডিকেল লেনের মো. ফরিদ উদ্দিনের ক্ষনিকা নামক হেলে পড়া চারতলা বাস ভবন, সরকারী ব্রজমোহন বিশ্ববিদ্যালয় (বিএম) কলেজের সুরেন্দ্র ভবন ছাত্রাবাস, বগুড়া রোড সংলগ্ন সদর রোডে সাবেক চেয়ারম্যান সালাম ওরফে সালাম চেয়ারম্যানের পুড়ানো ভবন, বগুড়া রোড অফসোনিন এর সম্মুখে হেমায়েত উদ্দিন আহম্মেদ’র ছেলে মো. মাহাবুব হোসেন ও মো. মাহফুজ হোসেন’র মালিকানাধীন ভবন, ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়কের পশ্চিম পাশে হাজী ইসরাইন’র বাস ভবন, সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের বিজ্ঞান ভবন, দক্ষিণ চকবাজার নগর ভবন সংলগ্ন গনপূর্ত নির্বাহী প্রকৌশলী ও পুলিশ সুপার’র আওতাধিন মালখানা ও গারদখানা ভবন, কলেজ রোডের ফরিদ উদ্দিন ভবন, সদর উপজেলা পরিষদের পুরাতন ভবন, সদর রোডে সৈয়দ গোলাম মাহাবুব গংদের সৈয়দ ভবন, ২ নং ওয়ার্ড কাউনিয়া প্রধান সড়কের বেনী লাল গুহ’র বভন ( হোল্ডেং নং-৬৮), রুপাতলী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন নলছিটি প্লাজা, কাটপট্টি রোডে রফিকুল ইসলামের মিল্লাত ফার্মেসী, একই স্থানে নাছির উদ্দিন’র চন্দ্রিকা ব্রাদার্স, স্বপন’র আহম্মদ ক্লথ ষ্টোর্স, তৎ সংলগ্ন আব্দুর রহমান তুহিন’র রোমন্ড দ্বিতীয় তলা, সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ জামাল হোসেন নোমান’র জুম্মান ব্রাদার্স, অমৃত ভবন, সৈয়দ কামাল হোসেন রুবেল’র ভবন, সৈয়দ জুম্মান’র ভবন, চিত্তশাহা ভবন ও কাটপট্টি রোডের পূর্ব পাশে সাধনা ঔষাধালয়।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবন মালিকদের নিজ উদ্যোগে তাদের ভবন ভেঙ্গে ফেলার চূড়ান্ত নোটিশ দেয়ার বিষয়ের সত্যতা স্বীকার করে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার আনোয়ার হোসেন পরিবর্তনকে বলেন, চুড়ান্ত নোটিশ পাওয়ার পরে ঝুঁকিপূর্ণ বাড়ির মালিক না ভাঙ্গলে পরবর্তীতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে বিসিসি কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। এছাড়া আগামী ১ মাসের মধ্যে বাড়ির মালিক পক্ষ নিজ উদ্যোগে তাদের ভবন না ভেঙ্গে ফেললে মন্ত্রনালয়ের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে ভবনগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।