নগরীর কোরবানীর পশুর সাত হাটে চলছে প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ পবিত্র ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে নগরীর কোরবানীর হাট গুলোতে চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। স্থায়ী হাটের পাশাপাশি অস্থায়ী ভাবে অনুমোদন পাওয়া ৫টি হাটে চলছে সাজসজ্জার কাজ। শেষ হয়েছে কোরবানীর পশু রাখার জন্য বাঁশ-খুটি এবং সামিয়ানা টানানোর কাজ। হাট সংলগ্নে নির্মান করা হয়েছে তোড়ন এবং চলছে আলোক সজ্জার কাজ। আগামী দু-একদিন পর থেকেই হাটগুলোতে কোরবানীর পশু আসতে শুরু করবে বলে জানিয়েছেন ইজারাদাররা।
এদিকে কোরবানী উপলক্ষে গরু এবং ছাগল মজুদ শুরু করেছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। হাট শুরুর কমপক্ষে এক থেকে দুই সপ্তাহ পূর্বেই লাভের আশায় তারা দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে পশু এনেছেন। নিজস্ব উপায়ে বাড়ির আঙ্গিনায় কিংবা খামার বাড়িতে রেখে কোরবানীর পশু লালন-পালন করছে। হাট জমতে শুরু করলে স্থায়ী এবং অস্থায়ী হাটে ওইসব পশু বিক্রির জন্য নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের হাট বাজার শাখা সূত্রে জানাগেছে, কোরবানী উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরেও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অস্থায়ী ভিত্তিতে পশুর হাটের ইজারা প্রদান করা হয়েছে। এবার স্থানীয় দুটি এবং অস্থায়ী ৫টি মিলিয়ে মোট হাটের সংখ্যা ৭টি। এর মধ্যে স্থায়ী হাট দুটি হলো নগরীর হাটখোলা এলাকাধীন নিউ কসাইখানা এবং বাঘিয়া গরুর হাট। অস্থায়ী পাঁচটি হাটের মধ্যে শুধুমাত্র ২৫নং ওয়ার্ডেই দুটি হাট। এর মধ্যে একটি বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলের বিপরিতে রূপাতলী মুক্তিযোদ্ধা সড়ক সংলগ্ন বালুর মাঠে এবং অপরটি বরিশাল-ঝালকাঠি সড়কের পাশে উকিলবাড়ি সড়কের বিপরীতে। নিয়ম ভঙ্গ করে সড়কের পাশে হাটটি স্থাপন করা হলে এই হাটটির অনুমোদন আনা হয়েছে উকিলবাড়ি সড়কের নামে। অপর তিনটি হাটের মধ্যে কাউনিয়া টেক্সটাইল সংলগ্ন বটতলা মোড়ে একটি, কালিজিরা বাজারে একটি এবং অপরটি হলো বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের সিএন্ডবি রোডে উপজেলা পরিষদের বিপরিতে এ্যাড. এনায়েত উল্লাহ হাউজিংএ।
গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে, অনুমোদন পাওয়া অস্থায়ী পাঁচটি পশুর হাটেই চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। অবশ্য কালিজিরা এবং ঝালকাঠী সড়কের হাটে গতকাল দুপুরে পশু বাঁধার জন্য কাজ করতে দেখা গেছে। তবে অনুমোদন পাওয়া প্রতিটি হাটের প্রবেশ পথেই তোড়ণ নির্মান কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রূপাতলী মুক্তিযোদ্ধা সড়ক সংলগ্ন হাউজিং, কাউনিয়া টেক্সটাইল এবং সিএন্ডবি সড়কের হাটের অবকাঠামো নির্মান শেষ হয়েছে। তাছাড়া কোরবানীর তিন দিন আগে থেকে অস্থায়ী হাট মেলার অনুমতি থাকলেও আগামী দু’একদিনের মধ্যেই বেপারী এবং ফড়িয়ারা প্রত্যেকটি হাটেই কোরবানীর পশু নিয়ে আসার পাশাপাশি বেচা বিক্রি শুরু হবে বলে ধারনা করছেন ইজারাদাররা।
অপরদিকে নগরীর টিয়াখালী, কালিজিরা, কাশিপুর এবং বারৈজ্যার হাট এলাকার বেশ কয়েকটি স্থানে দেখাগেছে, কোরবানীর পশু মজুদের দৃশ্য। নিজস্ব প্রক্রিয়ায় মৌক্রুমী ব্যবসায়ীরা ১০ থেকে ২০টি’র মত গরু এনে তা লালন পালন করছেন। মৌসুমী ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, এক থেকে দুই সপ্তাহ পূর্বে কিংবা তারও অধিক সময় পূর্বে তারা দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে কোরবানীর হাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে গরু এবং ছাগল সংগ্রহ করেছেন। এক কম মূল্যে কেনা এবং হাটে উঠিয়ে একটু বেশি লাভের আশায় আগে ভাগেই তারা পশু সংগ্রহ করে লালন-পালন শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন মৌসুমী বিক্রেতারা। অবশ্য হাটে উঠাবার আগেই তাদের লালনপালন কৃত পশু ক্রয়ের জন্য ক্রেতারা দাম বলতে শুরু করেছে বলেও দাবী মৌসুমী বিক্রেতাদের।