নগরীর আলোচিত ছাত্রলীগ নেতা রেজা হত্যা মামলা পুনঃতদন্তে সিআইডিকে নির্দেশ

ওয়াহিদ রাসেল ॥ নগরীর আলোচিত ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল করিম রেজা (২৮) হত্যা মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একই সাথে আগামী ১৭ জানুয়ারি তদন্ত পরবর্তী প্রতিবেদন জমা দেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। চার্জশীটে বাদী রিয়াজ উদ্দিনের দেয়া নারাজির আবেদন গ্রহন করে গতকাল বুধবার মামলার ধার্য তারিখে ওই নির্দেশ দেন অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক অমিত কুমার দে। আদালত সুত্র জানায়, গত ২৯ মে রাতে পলিটেকনিক কলেজের সামনে রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে ছাত্রলীগ নেতা রেজাকে কুপিয়ে হত্যা করে দলীয় প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনায় ৩০ মে নিহতের ভাই রিয়াজ বাদী হয়ে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিনসহ ১৪ ও অজ্ঞাত আরও ১২ জনকে আসামি করে কোতয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার গ্রহন করেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতাউর রহমান। তদন্ত শেষে এজাহারভূক্ত আসামী যুবলীগ কর্মী মেহেদী, মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি জসিম, সাইফুল, মো. মুন্না ও ফয়জুল শেখে’র অব্যহতির আবেদন জানিয়ে ৪ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট থানার জিআরও এর কাছে চার্জশীট জমা দেন পরিদর্শক আতাউর রহমান। এজাহারভুক্ত আসামিদের নাম চার্জশীট থেকে বাদ দেয়ায় গত ১০ অক্টোবর আদালতে নারাজির আবেদন জানান বাদী রিয়াজ উদ্দিন। । রিয়াজ জানান, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিমের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কোতয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতাউর রহমান সঠিক ভাবে তদন্ত করেননি। পক্ষপাত মূলক তদন্ত করে এজাহারভুক্ত মুল আসামিদের নাম বাদ দিয়ে দ্রুত চার্জশীট জমা দেন। এমনকি তিনি মামলার বাদী হওয়া সত্ত্বেও অভিযোগপত্র জমা দেয়ার পূর্বে তদন্তের স্বার্থেও তার এবং সাক্ষিদের সাথে কোন ধরণের যোগাযোগ করেনি পরিদর্শক আতাউর রহমান। এছাড়া তাকে বার বার বলা সত্ত্বেও হত্যার পরিকল্পনাকারী মূল আসামীদের পক্ষে অব্যাহতির আবেদন জানান। রিয়াজ আরও বলেন, পূর্বেই জানতে পারেন যে সভাপতি জসিমের মাধ্যমে ওসি আতাউর রহমান (তদন্ত) প্রভাবিত হয়ে তাদের নাম বাদ দিয়ে চার্জশীট জমা দিতে পারে। তাই এর পূর্বে গত ১৩ আগস্ট পর্যন্ত তিনবার অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন আদালতে মামলাটি অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে তদন্তভার দেয়ার জন্য আবেদন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ অক্টোবর নারাজি দিলে বিচারক শুনানীর দিন ধার্য করেন। গতকাল ধার্য তারিখে আবেদন গ্রহন করে ওই আদেশ দেন।