নগরীর আবাসিক হোটেলে তরুণীর লাশ ॥ খুন নাকি আত্মহত্যা? | Ajker Paribartan
Ajker Paribartan

নগরীর আবাসিক হোটেলে তরুণীর লাশ ॥ খুন নাকি আত্মহত্যা?

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর ফলপট্টি এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে এক তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বামী পরিচয় দেয়া সায়েম নামের ব্যক্তি প্রেমের ফাঁদে ফেলে তরুণীকে ধর্ষণের পরে খুন করে পালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পালিয়ে যাওয়া তরুণ আটক না হওয়া পর্যন্ত হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত তরুণী বরিশাল নগরীর গোরস্থান রোডের রজনিগান্ধা ভিলার ইব্রাহিম খানের মেয়ে নাঈমা ইসলাম। সে নগরীর প্যারাগন কোচিং সেন্টারের ছাত্রী। এছাড়া সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কোচিং করছিলো। তবে হোটেলের রেজিস্ট্রার খাতায় তরুণীর নাম মাহিমা ইসলাম লেখা হয়েছে। তার বয়স ২১ বছর এবং ভুয়া ঠিকানা হিসেবে রাজধানীর ওয়ারী এলাকার নাম লেখা রয়েছে।
এদিকে গতকাল বুধবার বিকেলে তরুণীর লাশটি উদ্ধারের পর সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ ধারনা করলেও ময়না তদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না তারা।
অপরদিকে হোটেল রেজিস্ট্রার খাতায় দুটি মোবাইল নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঐ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে সায়েম নামের কাউকে তারা চিনেন না বলেও দাবী করেছে মিয়া চান নামক ব্যক্তি। অবশ্য তার বাড়িও নারায়ানগঞ্জের সোনাবান্দা এলাকায় বলে জানিয়েছেন।
হোটেল ফেয়ার স্টারের ম্যানেজার জানান, নারায়নগঞ্জের নয়াবাজার এলাকার সেলিম হাওলাদারের ছেলে পরিচয়ে সায়েম আলম নামের এক যুবক গত মঙ্গলবার দুপুরে এসে হোটেলের ৩০৯ নম্বর কক্ষটি ভাড়া নেয়। এসময় সায়েম একা ছিলো। তবে বুধবার দুপুরে তরুণীকে সাথে করে হোটেলে নিয়ে আসে সায়েম। তখন পরিচয় জানতে চাইলে সায়েম ঐ তরুণীকে স্ত্রী বলে পরিচয় দিয়ে ভাড়া করা কক্ষে নিয়ে যায়। তাছাড়া সায়েম হোটেল কক্ষটি ভাড়া নেয়ার সময় দুটি মোবাইল নম্বর রেজিস্ট্রার খাতায় উল্লেখ করে। নম্বর দুটি হলো- ০১৬২৯২৬৪৯৮৩ এবং ০১৬২৯২৬৩৯৮৩।
কোতয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান জানান, সায়েম আলম নামের তরুণ মঙ্গলবার দুপুরে এসে হোটেলের ওই কক্ষে উঠে। কিন্তু গতকাল বুধবার সকালে তরুণীকে নিয়ে এসে স্ত্রীর পরিচয়ে কক্ষে নিয়ে যায়। দুপুরের পর ঐ কক্ষে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে হোটেল ফেয়ার স্টারের বয় জানালা দিয়ে ভেতরে তাকায়। তখন কক্ষের জানালা দিয়ে দেখতে পায় ওড়না দিয়ে ফ্যানের সাথে তরুণীর লাশ ঝুলছে। কিন্তু সায়েম নামের যুবক ভেতরে নেই। তাৎক্ষনিকভাবে হোটেল কর্তৃপক্ষ কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়। তারা গিয়ে তরুণীর লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
নিহত তরুণীর বাবা ইব্রাহীম খান জানান, তার মেয়ে এ বছর সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। বর্তমানে প্যারাগন কোচিং সেন্টারে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য কোচিং করছিলো। গতকাল বুধবার সে কোচিং এ যাবার কথা বলে ঘর থেকে বের হয়। এরপর থেকে তার কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
তিনি বলেন, তার মেয়ের বিয়ে হয়নি। পালিয়ে যাওয়া ঐ ছেলেকেও তারা কেউ চেনেন না। ঐ ছেলেই তার মেয়েকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহত নাঈমার বাবা ইব্রাহীম খান।
কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ মোহাম্মদ আওলাদ বলেন, হোটেলের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় দেখা গিয়েছে সায়েম আলম নামের তরুন খুব তড়িঘড়ি করে হোটেল থেকে দৌড়ে নেমে গেছে। এরপর সে আর হোটেলে ফিরে আসেনি বলে হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তাছাড়া সিসি ক্যামেরার ভিডিওতেও তার আগমনের চিত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি। যে কারণে প্রাথমিক ভাবে ধরানা করা হচ্ছে তরুণীকে হত্যা করে ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রেখে সায়েম নামের যুবকটি পালিয়েছে।
ওসি আরো বলেন, লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শেবাচিমের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্তে তরুণীকে হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা বেরিয়ে আসবে। এই ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে হোটেল ভাড়া নেয়ার সময় রেজিস্ট্রারে থাকা দুটি নম্বরে কল দেয়া হলে মিয়া চান নামের একই ব্যক্তি কল দুটি রিসিভ করেন। এসময় জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, দুটি নম্বরই তার ব্যক্তিগত। তিনি বরিশালে কখনো যাননি। তাছাড়া সায়েম আলম কিংবা তার বাবা সেলিম হাওলাদার নামে কাউকে চেনেন না। অবশ্য মিয়া চান নামক ব্যক্তি বলেন, তার বাড়ি নারায়ানগঞ্জের নদীর ওপারে সোনাবান্দা এলাকায়।

Share via email
Share