নগরীর অক্সফোর্ড মিশন রোডে এপিবিএন’র অভিযান ১০ লক্ষাধিক টাকার ভেজাল ওষুধ সহ আটক ২

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীতে অবৈধভাবে ভেজাল ওষুধ মজুদ ও বিক্রয়ের অপরাধে ২ জনকে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। এর আগে নগরীর অক্সফোর্ড মিশন রোডের একটি ফ্ল্যাট বাসা থেকে ভেজাল ওষুধ সহ ২ জনকে আটক করে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন। আটককৃতরা হলো নগরীর অক্সফোর্ড মিশন রোডের ডাক্তার এমদাদ উল্লাহ খানের বাসভবন নীলাচল এর তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া সুলতান মুন্সি (৬৫) ও দক্ষিণ কড়াপুর এলাকার বাসিন্দা মালেক খানের ছেলে কাইয়্যুম (২৪)। আটকের পর তাদের ভ্রাম্যমান আদালতের কাছে সোপর্দ করে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন। এসময় সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. নাজমুল হোসাইন সুলতান মুন্সিকে তার বাসায় ভেজাল ওষুধ মজুদের দায়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ২ মাস এবং কাইয়্যুমকে ভেজাল ওষুধ বিক্রির দায়ে ২ মাস সশ্রম কারাদন্ড দেন। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সিনিয়র এএসপি আসাদুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় নীলচল ভবনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় ভবনের তৃতীয় তলার সুলতান মুন্সির ফ্ল্যাট থেকে বিপুল পরিমাণ সরকার অননুমোদিত ভেজাল ওষুধ উদ্ধার করে। বিএসটিআই এর জব্দ তালিকা অনুযায়ী ভেজাল ওষুধের বাজারমূল্য ১০ লক্ষাধিক টাকা। তিনি আরও জানান, ওষুধগুলো অবৈধভাবে ঐ বাসায় মজুদ করে নিজেরা লেবেল পরিবর্তন করে দীর্ঘদিন ধরে বেশি দামে বাজারে বিক্রি করে আসছিল। বিগত কিছুদিন থেকেই আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ভেজাল ওষুধ বিক্রির অভিযোগে তাদের উপর নজরদারি করে আসছিল। গতকাল রাত ৯টার দিকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের এসআই মো. শাওনের কাছে ওষুধ বিক্রির জন্য যায় কাইয়্যুম। এসময় শাওন তার কাছ থেকে ওষুধ নেয়ার নামে পিছু নেয়। পরে তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করে বাসায় অবরুদ্ধ করে। এর পরপরই উর্ধ্বতন কমকর্তাবৃন্দ সহ কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মুখপাত্র মো. নাসির উদ্দিন সহ কয়েকজন এসআই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় ভ্রাম্যমান আদালতকে সংবাদ দিলে সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. নাজমুল হোসাইন ঘটনাস্থলে যান। পরে সুলতান ও কাইয়্যুমকে তাদের ব্যবসায়ের বৈধ কাগজপত্র দেখানোর জন্য বললে তারা তা প্রদর্শন করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। এর প্রেক্ষিতে তাদেরকে দন্ডাদেশ দেয়া সহ সকল ওষুধ জব্দ করা হয়। পরে তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।