নগরীতে ২৫ জানুয়ারী শুরু হচ্ছে জেলা পর্যায়ের ইজতেমা

রুবেল খান ॥ ঢাকায় তাবলীগ মুসল্লীদের দ্বন্দ্ব’র মধ্যে জেলা পর্যায়ে নগরীতে শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা। নগরীর নবগ্রাম রোডে উপজেলা পরিষদের পেছনের অংশে সরদার পাড়া সংলগ্ন এলাকায় আগামী ২৫ জানুয়ারী থেকে শুরু হবে। চলবে ২৭ জানুয়ারী পর্যন্ত। বর্তমানে প্রায় ১৪ একর এলাকা জুড়ে চলছে ইস্তেমার প্রস্তুতি। গত বছরের দুর্ভোগের বিষয়টি এবার এড়াতে দ্বিগুনের বেশি জায়গা নিয়ে চলছে প্রস্তুতি পর্ব। ইতিমধ্যে তাবলীগে আসা সাথীদের থাকার জন্য নির্মান করা হয়েছে বিশাল সেড। সেখানে এক সাথে ৩৬ হাজার মুসুল্লী থাকতে পারবেন। এছাড়াও আড়াই লক্ষাধিক মুসুল্লি এক সাথে জুমার নামাজ আদায় করতে পারবেন। সেই লক্ষ্য নিয়ে চলছে প্রস্তুতি। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
সরোজমিন গিয়ে দেখা গেছে, তাবলিকের মুসুল্লী, বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্র এবং এলাকাবাসী প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে তৈরী করছেন ইস্তেমার অবকাঠামো। সম্পন্ন করছে সকল আয়োজন। একই সাথে ইস্তেমার আয়োজনে সহযোগিতা করছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষও। মুসল্লীদের থাকার জন্য সেড নির্মান কাজ শেষ পর্যায়ে। নির্মান কারা হয়েছে বয়ানের জন্য স্টেজ। আশ-পাশে চলছে অজুখানা, পায়খানা সহ অন্যান্য স্থাপনা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সদর উপজেলার ধর্মাদী মাদ্রাসার আড়াই শত ছাত্র ইস্তেমা মাঠে স্বেচ্ছাশ্রম দিয়েছেন। এর আগে মাহামুদিয়া মাদ্রাসা ও বটতলা মাদ্রাসা সহ অন্যান্য মাদ্রাসার ছাত্ররা স্বেচ্ছাশ্রমে ইস্তেমার প্রস্তুতি কাজে অংশ নেয়।
ইস্তেমা মাঠের প্রস্তুতির তদারকীর দায়িত্বে থাকা তাবলীগ জামায়াতের সাথী হামিম খান জানান, ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ৩দিন ব্যাপী বিশ্ব ইস্তেমার বরিশাল জেলা পর্ব নবগ্রাম রোডে অনুষ্ঠিত হয়। ওই ইস্তেমায় ২৫ হাজারের মত মুসল্লী এবং দেড় লাখ মুসল্লী এক সঙ্গে জুম্মা নামাজ আদায় করার মত ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু মুসল্লীদের সংখ্যা এতই বেশি হয়েছিলো আয়োজনের সীমানা ছাপিয়ে গিয়ে মুসল্লীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছিলো। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই এবারের ইস্তেমার আয়োজন চলছে।
তিনি বলেন, এবারের ১৪ একরের বেশি জমির উপর এই আয়োজন চলছে। এখানে ৩৬ হাজার মুসল্লীর এক সঙ্গে রাত্রীযাপনের জন্য বিশাল সেড নির্মান করা হয়েছে। তাছাড়া এবার জুম্মার নামাজে এক সঙ্গে আড়াই লাখের বেশি মুসল্লী নামাজ আদায় করতে পারবেন। মুসল্লীদের ওজুখানা হিসেবে সদর উপজেলা পরিষদ পুকুর সহ চারটি পুকুরের চার-পাশ দিয়ে ঘাটলা নির্মান করে দেয়া হয়েছে। পানি পান করার জন্য মাঠ জুড়ে প্রতিটি দুই হাজার লিটার করে মোট ১৫টি ড্রাম স্থাপন করা হচ্ছে। থাকছে ৫শত টি পানির ট্যাপ এবং ৬শত অস্থায়ী পায়খানা। ইস্তেমা এলাকা জুড়ে আলোর ব্যবস্থায় থাকবে আড়াই হাজারের বেশি লাইট। বিদ্যুৎ বিভাগের সহযোগিতায় করা হচ্ছে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থাও।
হামিম খান আরো জানান, ইস্তেমায় বধির (বাক প্রতিবন্ধি) দের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা থাকছে। বরিশালে ২৬০ জন বধির রয়েছে। তাদের থাকা, খাওয়া, ওজুখানা, পায়খানা সহ সার্বিক বিষয়ে পৃথক ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে তাদের কোন প্রকার দুর্ভোগ পোহাতে না হয়। ইস্তেমায় আগাম মুসল্লীদের নিরাপত্তার বিষয়ে মহানগর পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা পুলিশ সুপারকে চিঠি দিয়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তাদের পাশাপাশি মাঠ জুড়ে প্রায় তিন হাজার নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবী কাজ করবে। ইস্তেমার শৌচাগারগুলো প্রতিনিদিন পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে বিসিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তারা মাঠ পরিদর্শনও করে গেছেন। তাছাড়া কিছুটা সমস্যা রয়েছে ইস্তেমা মাঠে প্রবেশের রাস্তা নিয়ে। এখন রাস্তাটা চলাচলের অনুপযোগী। সেটা সংস্কার জরুরী। এ বিষয়টিও দেখার জন্য বিসিসি’র মেয়র ওয়ার্ড কাউন্সির আক্তারুজ্জামান হিরুকে দায়িত্ব দিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, বরিশাল জেলার ১১টি থানা নিয়ে বরিশাল জেলা ইস্তেমার আয়োজন চলছে। এই ১১টি থানাকে ১৯টি হালকায় (ইউনিট) বিভক্ত করা হয়েছে। প্রত্যেকটি হালকার সাথীরা পর্যায়ক্রমে ইস্তেমার আয়োজনে কাজ করছে। এর বাইরে স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমতো রয়েছেই। অবশ্য এখন পর্যন্ত ইস্তেমার বক্তা নির্ধারণ হয়নি। তাও আগামী ২২ জানুয়ারীর মধ্যে সম্পন্ন হবে। তাছাড়া বরিশালের আয়োজন শেষে আগামী ২ ফেব্রুয়ারী বরগুনা জেলা ইস্তেমা শুরু হবে বলে তাবলীগ জামায়াতের সাথী হামিম খান জানিয়েছেন।