নগরীতে স্মরণকালের বৃহত্তম সমাবেশ ॥ বর্ণাঢ্য আয়োজনে পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২০ বছর পুর্তি উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বরিশালে পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২০ বছর পুর্তি উৎসব পালিত হয়েছে। গতকাল রোববার বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দিবসটি উদযাপনে মহাসমাবেশ ও আনন্দ মিছিল বের করা হয়। এই কর্মসূচিকে ঘিরে জনস্রোতে পরিণত হয় নগরী। আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র নাম সম্বলিত স্লোগানে মুখরিত হয় নগরী। সৃষ্টি হয় এক উৎসব মুখর পরিবেশ। কেননা দলীয় নেতা-কর্মী এবং নগরবাসীর দাবী বরিশালের ইতিহাসে এটিই আওয়ামী লীগের সর্ববৃহৎ আনন্দ মিছিল ও মহাসমাবেশ। যা শুধুমাত্র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র দক্ষ নেতৃত্ব ও জনপ্রিয়তার কারণেই সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কেননা এই আনন্দ উৎসবে শুধুমাত্র বরিশাল মহানগরীর নয়, বরিশাল জেলার ১০টি উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলা থেকেও হাজার হাজার নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-বনিতা অংশগ্রহন করে আনন্দ মিছিলে। তাছাড়া এই কর্মসূচিতে সাফল্যমন্ডিত করতে কাজ করেছে কিছু সংখ্যক উপজাতি। যাদেরকে পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বের হওয়া মিছিলের অগ্রভাগেই দেখা গেছে।
এর আগে হাজার হাজার নারী-পুরুষ, নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহনে নগরীতে বের হয় বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালী। যার নেতৃত্ব দেন পার্বত্য শান্তিচুক্তির অন্যতম রূপকার আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ-এমপি’র জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। মিছিলের সামনে থেকে তিনি জাতীয় পতাকা নাড়িয়ে মিছিলকারী এবং নগরবাসীর মাঝে উৎসাহ যোগান। তবে অনুষ্ঠিত মিছিলে অংশগ্রহকারীদের মুল শ্লোগানই ছিলো সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে নিয়ে। সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে বরিশাল সিটি মেয়র হিসেবে দলীয় মনোয়ন ও নির্বাচিত করতে শ্লোগান দেয় হাজার হাজার নারী-পুরুষ।
আনন্দ মিছিলে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস-এমপি, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. একেএম জাহাঙ্গীর, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মইদুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ খান, বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব সাইদুর রহমান রিন্টু, জেলা কমান্ডার শেখ কুতুব উদ্দিন, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোখলেছুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা কাওসার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. হেমায়েত হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবলীগের সভাপতি অধ্যাপক জাকির হোসেন, জেলা যুব লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম শাহিন, মিলন ভুইয়া, মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, শেখ আব্দুল কাদের, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাহিন সিকদার, যুবলীগ নেতা তারিক বিন ইসলাম, এ্যাড. রফিকুল ইসলাম খোকন, এ্যাড. রফিকুল ইসলাম ঝন্টু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আজিজুর রহমান শাহীন, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. শাহজাহান হাওলাদার, মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক পরিমল চন্দ্র দাস, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হেমায়েত উদ্দিন সুমন সেরনিয়াবাত, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, মহানগর ছাত্রলীগ নেতা গোলাম মোস্তফা অনিক, মাইনুল ইসলাম, বিএম কলেজ ছাত্র নেতা ও জেলা ছালীগের সহ-সভাপতি আতিকউল্লাহ মুনিম, সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত প্রমূখ।
এদিকে পুলিশ এবং স্থানীয় ব্যান্ড পার্টি’র বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নগরীর সিটি কর্পোরেশনের সামনে মুক্ত মঞ্চ থেকে বের হওয়া বৃহত্তর আনন্দ মিছিলটি ফজলুল হক এভিনিউ সড়ক থেকে শুরু হয়ে সদর রোড, বাজার রোড, লাইন রোড, চক বাজার, গীর্জা মহল্লা এবং পুনরায় সদর রোড হয়ে ফজলুল হক এভিনিউ সড়কে মুক্ত মঞ্চের সামনে গিয়ে শেষ হয়। আনন্দ মিছিলে বিশেষ আকর্ষন হিসেবে ছিলো- হাতি, ঘোড়া, পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন পাহাড়ের প্রতিকৃতি এবং বিভিন্ন উপজাতি ও পাহাড়ি নৃত্য। তাছাড়া নেতা-কর্মীদের হাতে হাতে ছিলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র ছবি সম্বলিত ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন।
আনন্দ মিছিল শেষে সিটি কর্পোরেশনের সামনে মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় মহা-সমাবেশ। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল এর সভাপতিত্বে সমাবেশে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস এমপি। এসময় তিনি দেশ এবং জাতির শান্তির পাশাপাশি উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কায় ভোট চান। একই সাথে আসন্ন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।
এর পূর্বে রোববার সকাল ৯টার পর থেকেই বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড সহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে বাস, ট্রাক এবং লঞ্চ যোগে নগরীতে আসতে শুরু করে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং সমর্থকরা। ধীরে ধীরে সৃষ্টি হয় বিশাল জনস্রোত। তারা নগরীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে মিছিল সহকারে শ্লোগান দিয়ে সিটি কর্পোরেশনের সামনে পার্বত্য শান্তিচুক্তি’র বর্ষপূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানের মঞ্চের সামনে এসে জড়ো হয়। এসময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস-এমপি ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ সহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা তাদেরকে হাত নেড়ে অভিনন্দন জানান। তাছাড়া অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই মিছিল নিয়ে আসা নেতা-কর্মী এবং সমর্থকদের নাম ঘোষনা এবং স্বাগত জানান জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক।