নগরীতে স্কুল ছাত্রীর সাহসিকতায় বন্ধ হলো তার বাল্যবিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আবারো এক কিশোরী স্কুল ছাত্রীর সাহসিকতায় বন্ধ হলো তার নিজের বাল্য বিবাহ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় বরিশাল জেলা ও পুলিশ প্রশাসন তার বাল্য বিয়ে ভেঙ্গে দেয়। ঘটনাটি ঘটেছে নগরীর ২৪নং ওয়ার্ডের রূপাতলী গাজী বাড়ি এলাকায়। বাল্য বিবাহ রুখে দেয়া স্কুল ছাত্রীর নাম সাবরিনা আক্তার। সে ওই এলাকার জামাল গাজীর কন্যা ও বরিশাল টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল সদর সহকারী কমিশনার (ভুমি) নাজমুল হুসাইন। তিনি বলেন, ১০ম শ্রেণির ওই ছাত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে একই এলাকার রুমিত নামের এক ছেলের সাথে তার বিয়ের আয়োজন করে বাবা-মা। সে অনুযায়ী ১১ আগস্ট শুক্রবার আজ বাদ জুমা রুমিত এর সাথে সাবরিনার বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো। এজন্য সকল আয়োজন সম্পন্ন করে উভয় পরিবার। ঠিক সেই মুহুর্তে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কিশোরী স্কুল ছাত্রী তার অমতে বাল্য বিয়ের আয়োজনের বিষয়টি বরিশাল টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষকে অবহিত করেন এবং বিয়ে ভেঙ্গে দেয়ার জন্য সহযোগিতা চান। অধ্যক্ষ বিষয়টি বরিশাল জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন। পরে বিকাল ৩টার দিকে জেলা প্রশাসক এর নির্দেশে সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাজমুল হুসেইন কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের একটি টিম নিয়ে কিশোরী স্কুল ছাত্রীর বাড়িতে হাজির হন। এসময় স্কুল ছাত্রী সাবরিনা তাদের কাছে বাল্য বিয়ের আয়োজনের বিষয়ে অভিযোগ করলে সহকারী কমিশনার তার বিয়ের আয়োজন ভন্ডুল করে দেন।
সহকারী কমিশনার বলেন, স্কুল সার্টিফিকেট অনুযায়ী কিশোরী স্কুল ছাত্রীর জন্ম তারিখ ২০০২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর। সে অনুযায়ী তার বয়স প্রায় ১৫ বছর। সে এখনো প্রাপ্ত বয়স্ক নন। তাই কিশোরীর বিয়ের আয়োজন ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। সেই সাথে পরবর্তীতে কিশোরী প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিবাহ না দেয়ার জন্য ছাত্রীর বাবা জামাল গাজী ও তার পরিবারের অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা রেখে সাধারন ক্ষমা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।