নগরীতে সক্রিয় মোটর সাইকেল চোর চক্র

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীতে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে মোটর সাইকেল চোরাই চক্র। বিগত কয়েকদিন থেকে এই চক্রটি বাসভবনের পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা উপেক্ষা করে মোটর সাইকেল চুরি করছে। তারা দিনে দুপরে চুরির মোটর সাইকেল চুরি চেষ্টা করছে। শক্তিশালী হয়ে উঠা চক্রের কারনে আতংকে মোটর সাইকেল চালকরা।
ভুক্তভোগিরা জানিয়েছেন, অত্যন্ত দক্ষ ও কৌশলী ওই চোর চক্রের সদস্যরা। তাদের নজরে পড়লে যত কঠোর নিরাপত্তায় মোটর সাইকেল রাখা হোক না কেন, সেই মোটর সাইকেল চুরি হওয়া থেকে রক্ষা করা যায় না। এছাড়াও এই চক্রের সদস্যরা সন্ত্রাসী প্রকৃতির হওয়ায় হাতে নাতে ধরা পড়লেও সমস্যায় পড়ে না। উল্টো তাদের হাতে নাতে আটককারীদের হামলার শিকার হতে হয়। এই চক্রটি বছরে একটি সময় নির্ধারন করে এক যোগে নগরীতে আবির্ভুত হয়। তখন এরা বাসাবাড়ি সহ নগরীর জনবহুল বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ কিছু মোটর সাইকেল চুরি করে। সেই সকল মোটর সাইকেল নিয়ে আত্মগোপনে যায়। নিরাপদ সময়ে বিক্রি করে। তাই পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোন সুফল পায় না মোটর সাইকেল মালিকরা।
গত ৩১ অক্টোবর নগরীর ১৩ নং ওয়ার্ড এর জুমির খান সড়কে একটি ভবনের গেট এর তালা ভেঙ্গে সেখানে রাখা চারটির মধ্যে দুটি চুরি করে চক্রটি। আরও একটি মোটর সাইকেল বাইরে ফেলে চলে যায় তারা। চুরি হওয়া মোটর সাইকেল দুটি ছিল বাজাজ পালসার ১৫০ (বরিশাল ল-১১-১২৩৩) এবং ডিসকভার ১০০। চুরির ঘটনায় পরেরদিন ভুক্তভোগী মো. এনামুল কোতয়ালী মডেল থানায় সাধারন ডায়রী করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, চক্রটি তার বাসার নিচতলার কলাপসিপল গেট এবং মোটর সাইকেল এর বেশ কয়েকটি ভালো মানের তালা ভেঙ্গে এই চুরি করেছে খুব সহজে। ভবন বাসিন্দারা টের পেলেও চোরদের ধরার উপায়ও ছিল না। কারন তারা প্রত্যেকটি ফ্ল্যাট’র বাইর থেকে আটকে দিয়েছিল। ভোরে প্রতিবেশিরা এসে তাদের দরজা খুলে বের করে। এ সময় দুটি মোটর সাইকেল চুরি ও অপরটি ফেলে রাখার বিষয় টের পায়। এদিকে,
শুক্রবার জুমআ নামাজ’র সময় নগরীর আমতলা পানির ট্যাঙ্কি সংলগ্ন এলাকায় চোরচক্রটি প্রকাশ্যে মোটর সাইকেল চুরির চেষ্টা করেছে। মূল সড়কের পাশে রাখা একটি মোটর সাইকেল ভেঙ্গে নেয়ার চেষ্টার সময় প্রত্যক্ষদর্শী নারী টের পায়। তখন দ্রুত স্থান ত্যাগ করে দুই চোর। ঐ নারী জানায় দুই যুবক একটি মোটর সাইকেল নিয়ে আসে। এরপর তারা মোবাইলে অপর একজনকে ডেকে এনে প্রথমে তাদের ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটি পাঠিয়ে দেয়। এরপর টার্গেটকৃত মোটর সাইকেলটি বডি লক ভাঙ্গার চেষ্টা করেন। তিনি না বুঝেই ঐ দুই যুবককে কি করছে জানতে চায়। তাৎক্ষণিক তারা চলে গেলে তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেন। স্থান ত্যাগ করলেও কিছুটা দূরে ঐ দুই যুবক অবস্থান করে বলে জানান তিনি। দুই যুবকের কাছে লাল একটি শপিং ব্যাগে কিছু ছিল।
এমন ঘটনার শিকার ব্যক্তিরা সহ সাধারণ বাসিন্দারা আবেদন করে জানিয়েছেন প্রতিবছরের ন্যায় এই সময়েই চক্রটি আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এদের উপদ্রবে সাধারণ বাসিন্দারা পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও আতঙ্কিত রয়েছে। কারণ চক্রটি খুবই দক্ষ। এছাড়া চুরির সময় এরা হামলার প্রস্তুতি নিয়েও আসে। তাই হাতেনাতে ধরতে গেলেও শঙ্কা থেকে যায়। প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্টদের এবিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জোর আবেদন জানান তারা।