নগরীতে শুরু হয়েছে র‌্যাবের বিশেষ অভিযান ॥ প্রথম দিনে ব্যাপক সাড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীতে ভোক্তা সংরক্ষন আইন লংঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে র‌্যাব। আগামী অন্তত সপ্তাহব্যাপি নগরীসহ র‌্যাব-৮’র আওতাধীন এলাকায় নানা অপরাধ প্রতিরোধে কাজ করবে তাদের পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত। গতকাল সোমবার থেকে অভিযানের প্রথম দিনে নগরীর বিভিন্ন খাবার বিক্রির প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।  প্রথম দিনেই নগরীতে পরিচালিত আদালত কার্যক্রম বেশ সাড়া ফেলেছে। নগরীর নামিদামী বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে তারা অভিযান চালিয়ে মোটা অংকের অর্থ জরিমানা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন র‌্যাব’র সদর দপ্তর থেকে আসা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. গাউসুল আজম। তাৎক্ষনিকভাবে জরিমানা আদায়ও করা হয়েছে। অপরাধী বা অপরাধ’র  সাথে যত বড় রাঘব বোয়াল জড়িত থাকুক না কেন, কোন ছাড়া না দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে র‌্যাব। সাধারনের অভিযোগ পেলেই সেখানে অপরাধ দমনে অপরাধী ধর পড়লে তাৎক্ষনিক সাজা দেয়া হবে।
র‌্যাব-৮ সদর দপ্তর থেকে প্রেরিত এক ই-মেইল বার্তায় জানানো হয়, ঢাকা থেকে আসা বরিশালে সুন্দরবন-১১ লঞ্চ এর ক্যান্টিনে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে মালামাল বিক্রির অভিযোগ পান তারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল ৪টা হতে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নগরীর নৌ বন্দরে এমভি সুন্দরবন-১১ লঞ্চে অভিযান পরিচালনা করেন তারা। এসময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে ক্যান্টিনের ব্যবসায়ী আব্দুর রব। তখন র‌্যাব তাকে আটক করে। পরে নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত মূল্য রাখার কারন জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে সে র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. গাউসুল আজম এর উপস্থিতে স্বীকার করে যে দীর্ঘ দিন ধরেই তিনি অতিরিক্ত মূল্যে মালামাল বিক্রি করে আসছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ম্যানেজার আব্দুর রহিমকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেন।
এদিকে শুধুমাত্র লঞ্চেই নয়, বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত নগরীর সদর রোড এলাকার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব-৮। এসময় র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. গাউসুল আজম মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে প্রতেকটি প্রতিষ্ঠানকেই পৃথক পৃথক হারে জরিমানার নির্দেশ দেন। এর মধ্যে নগরীর অভিজাত চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট হান্ডিকড়াই কর্তৃপক্ষকে ২০ হাজার, রোজগার্ডেন রেস্তোরাকে ২৫ হাজার, কাকলির মোড়ে চায়না প্যালেসকে ৪০ হাজার টাকা, গার্ডেন ইন রেস্তোরায় ৩০ হাজার, একই স্থানে আব্দুল্লাহ হোটেল এন্ড রেষ্টুরেন্টে ২০ হাজার টাকা, টেষ্টিতে ১০ হাজার, সকাল সন্ধ্যা মিষ্টান্ন ভান্ডারকে ৫০ হাজার, সুইট হার্টে ৫০ হাজার এবং শ্রী গুরু মিষ্টান্ন ভান্ডারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত র‌্যাবের বিশেষ অভিযান অব্যাহত ছিলো। ফলে জরিমানা এবং জরিমানা দেয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়লেও তাৎক্ষনিক ভাবে তা জানা যায়নি। র‌্যাব সূত্র জানিয়েছে, নোংরা পরিবেশ, বেশি মূল্য রাখা এবং বিএসটিআই’র অনুমোদন না থাকার অপরাধে প্রতিষ্ঠান গুলোতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
র‌্যাব সূত্র আরো জানায়, নগরী সহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে র‌্যাবের এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারি আইন অমান্যকারী এবং অসাধু ব্যবসায়ী যেই হোকনা কেন তাদেরকেও আইনের আওতায় আসতে হবে।