নগরীতে মেয়াদউত্তীর্ন কোমল পানীয় নিয়ে প্রতারনা চলছে

জুবায়ের হোসেন॥ ঋতু পরিবর্তনে এসেছে গ্রীষ্মকাল। এই ঋতুর রোদের তাপে বেড়েছে গরম। গরমে বেড়েছে তৃষ্ণা। তৃষ্ণার সাথে সমান তালে নগরীতে কোমল পানীয়ের চাহিদা। আর এর সুযোগ নিয়েছে কোমল পানীয় বিক্রিকারী প্রতিষ্ঠান। এসব কোমল পানীয়ের সিংহভাগের মেয়াদউত্তীর্ণ ও নি¤œমানের। এমন পানীয় পান করলে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমনে পেটের সমস্যায় ভুগতে হবে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা। কিন্তু বিএসটিআই’র কোন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হচ্ছে না বলে অসাধু ব্যবসায়ীরা রমরমা বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন দায়িত্ব নিয়ে কিছু কাজ করলেও বিএসটিআই উদাসীন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নগরীর বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকায় বেশি বিক্রি হচ্ছে এমন মেয়াদউত্তীর্ণ কোমল পানীয়। দেশি বিদেশি বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সঠিক মেয়াদের মধ্যেই দেয়া হয় মেয়াদউত্তীর্ণ। তবে তাতে পুরাতন সীল রিমুভার দিয়ে তুলে নতুন মেয়াদ সেটে দেয়া হয়। এই বিষয়টির প্রমাণ মিলেছে গত ৮ মার্চ মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক অভিযানের মাধ্যমে। ওই অভিযানে হাটখোলার সারপট্টি এলাকায় এক গুদামঘর থেকে সেভেন আপ, পেপসি, মিরিন্ডা, ডিউ’র উদ্ধার হয়। একইসাথে আটক করা হয় ৫ জনকে যারা মেয়াদউত্তীর্ণ পানিয়তে নতুন মেয়াদ এর সীল দিয়ে বিক্রির প্রস্তুত করছিলো। আটককৃতদের কাছে পাওয়া যায় নতুন মেয়াদ দেয়ার সীল ও কালি। তবে এরা একটি প্রতিষ্ঠানই নয় এমন আরও অনেক চক্র রয়েছে যারা প্রতিনিয়ত করছে একই কাজ। এ বিষয়ে ঐ সকল কোমল পানীয় কোম্পানী সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে, মূলত মেয়াদউর্ত্তীর্ন কোমল পানীয় গুলো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে কোম্পানীর উদ্দেশ্যে ফেরত পাঠানোর নির্দেশনা রয়েছে। কোম্পানী ফেরত নিয়ে তা বিনষ্ট করে ফেলে। তবে কিছু অসাধু ডিলার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক করছে দুর্নীতি। কিছু সংখ্যক ডিলার ও দোকানী দ্বীগুণ মুনাফার লোভে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে সংগৃহীত ঐ সকল পন্য পুনরায় নতুন মেয়াদ দিয়ে বিক্রির জন্য বাজারে ছাড়ে। কখনও কখনও ব্যবসায়ীরা সব জেনেও নেয় ওই বিষ। কারন এজন্য তাদের দিতে হয় অর্ধেক মূল্য। তবে এ সকল সাটানো নতুন মেয়াদ একটু লক্ষ্য করলেই পরিষ্কার বোঝা যায়। নগরীর একাধিক দোকান ঘুরে এই পার্থক্য পাওয়া গেছে। কোম্পানীর দেয়া মেয়াদটি একেবারেই স্পষ্ট হয়ে থাকে। কিন্তু নকল মেয়াদটি খেয়াল করলে পাওয়া যায় খুব সুক্ষ পার্থক্য। এটি বেশির ভাগই অস্পষ্ট হয়ে থাকে। অনেক সময়তো সাটানো মেয়াদের পেছনে পূর্বেরই উত্তীর্ণ মেয়াদটিও কিছুটা দেখা যায়। এমনি একই কোম্পানীর দুটি পানীয়র মেয়াদের সীলের পার্থক্য দেখিয়ে এক ক্রেতার কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই পার্থক্য বোঝা খুবই কঠিন। নামী কোম্পানীর এ সকল পানীয় ক্রয়ের সময় অনেকেই বুঝে বিশ্বাস করে নেন। কারন এরা স্বনামধন্য কোম্পানী ও দীর্ঘদিন বিভিন্ন দেশে তাদের ব্যবসা করে আসছে। কিন্তু আমাদের নগরীর মানুষরাই ধোকা দিচ্ছে আমাদের।
এ বিষয়ে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ এর মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ ভাস্কর সাহা জানান, এমন পানীয় পেটে গেলে তাৎক্ষণিক পেট খারপ হবে। এই পানীয়তে মেয়াদউত্তীর্ণের কারনে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস উৎপন্ন হয়। যা শুধু পেট খারাপই নয় ডায়রিয়া সহ অন্যান্য পেটের রোগের কারণ হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এর ফলাফল আরও খারাপ হতে পারে। তিনি আরও বলেন, এমন পানীয় যারা বাজারে সরবরাহ করছে তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লীষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেয়া উচিত। তবে ব্যবস্থা গ্রহনের প্রসংগে বিএসটিআই বরিশাল এর উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।