নগরীতে বানিজ্য ও আনন্দ মেলার নামে যাত্রা জুয়া থামছেনা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ এখনো থামছে না বরিশাল আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলা ও কাশিপুর দিঘির পার আনন্দ মেলার নামে যাত্রা, জুয়া আর অশ্লিল নৃত্য। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় একের পর এক সংবাদ প্রকাশ হলেও কর্নপাত হচ্ছে না প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের। তাদের এমন রহস্যজনক নিরবতায় ঘরে ঘরে সৃষ্টি হচ্ছে কলহ। আর বাড়ছে অপরাধ প্রবনতা। ধ্বংসের দারপ্রান্তে এগোচ্ছে যুব সমাজ।
এদিকে প্রশাসনের নাকের ডগায় বিকাল থেকে রাত ভর হুই হুল্লর আর অশ্লিলতা চললেও তা প্রতিহত না করায় প্রশাসনের কার্মকান্ড নিয়ে প্রশ্নের জট বেধেছে। একের পর এক সংবাদ প্রকাশের পরেও প্রশাসনের নজর পড়ছে না, নাকি তারা নজর দিচ্ছে না এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। এমনকি রাজনৈতিক ও মুসল্লি সমাজও এখন রয়েছেন নিরব দর্শকের ভূমিকায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বরিশাল নগরীর বিভিন্ন স্থানে একের পর এক গড়ে উঠছে যাত্রার নামে অশ্লিলতা আর প্রকাশ্য জুয়ার আসর। বানিজ্য মেলা এবং আনন্দ মেলার নামে এসব অশ্লিলতা এবং জুয়া পরিচালনা করছেন ক্ষমতাসিন দলের নেতা-কর্মীরা। তাদের পাশাপাশি অশ্লিলতা আর জুয়া পরিচালনায় সহযোগিতার করছেন বরিশাল মহানগর পুলিশ। এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে সংশ্লিদের কাছ থেকে।
জানাগেছে, গত ১৫ মার্চ নগরীর বান্দ রোডে চেম্বার অব কর্মাস এর আয়োজেন আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলা শুরু হয়। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে মেলার মেয়াদ। কিন্তু শেষ হয়নি ভারাইটি শো আর যাত্রার নামে ষোড়শি নর্তকিদের অশ্লিল নৃত্য আর উলঙ্গ দেহ প্রদর্শন। তার পাশাপাশি বানিজ্য মেলায় বেশ জমেছে জুয়ার আশর। সম্প্রতি ওয়ানটেন, ওয়ান শুটার, বউ খেলা, বউটা, হাউজি আর দৈনিক সবুজ বাংলা র‌্যাফেল ড্র’ নামক জুয়া বন্ধ করে দেয় মহানগর পুলিশ। তবে বন্ধ করা হয়নি যাত্রা ও ভ্যারাটি শোর নামে অশ্লিল নৃত্য আর উলঙ্গ দেহ প্রদর্শন। অন্যান্য জুয়া এখনো বন্ধ থাকলেও এক দিন পরেই আবার শুরু হয়েছে হাউজি আর দৈনিক সবুজ বাংলা র‌্যাফেল ড্র নামক জুয়া। ক্ষমতাসিন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ আর ছাত্রলীগের যৌথ পরিচালনায় যাত্রা, জুয়া আর অশ্লিলতা চলছে। যাত্রার আর ভ্যারাইটি শো-র নর্তকিদের দিয়ে যাত্রী প্যান্ডেলের মধ্যে দেহ ব্যবসা সহ অনৈতিক কার্যক্রলাম সংঘটিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়াগেছে। পুলিশ সদস্যরা এসবের পতিবাদ না করলেও রাতভর ডিউটি বা টহল ফেলে রেখে পোশাক পড়ে প্রত্যক্ষ করছেন নর্তকিদের অশ্লিল নৃত্য আর উলঙ্গ দেহ। কেউ আবার ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন হাউজির শিট কাটায়। কেউ কেউ আবার অশ্লিলতা পরিচালনা কারিদের কাছ থেকে আনছে চা-পান খরচের টাকা।
এদিকে অন্যতম জুয়া সবুজ বাংলা র‌্যাফেল ড্র’ কর্তৃপক্ষ মোটর সাইকেল, টিভি, ফ্রিজ, স্বর্ণালংকারের প্রলভন দেখিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকেট বিক্রি করছেন। এর এসব করে গত এক মাসে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে আয়োজক ও পরিচালকরা।
এদিকে বানিজ্য মেলার পাশাপাশি কাশিপুর বাজার সংলগ্ন দিঘির পাড়েও থেমে নেই অশ্লিলতা। তারা ভর জুয়া আর যাত্রার নামে অশ্লিল নৃত্য ও দেহ প্রদর্শন প্রত্যক্ষ করছে এলাকার উদিওমান যুব সমাজ। জোনাকি র‌্যাফেল ড্র’র নামে তারাও হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। যাত্রা-জুয়ার কবলে পড়ে ঘরে ঘরে চুরি আর ছিনতাই বেড়েছে। বাড়ছে পরিবারের মধ্যে কলহ। মা বাবার সাথে ছেলে, স্ত্রীর সাথে স্বামী আবার ভাই বোনদের মধ্যে হচ্ছে টাকার জন্য মারামারি। এমনটি প্রতিনিয়ত ঘটে চললেও নিরব দর্শকের ভুমিকায় প্রাশাসনের কর্তৃব্যক্তিরা। অভিযোগ উঠেছে অশ্লিলতা আর জুয়া পরিচালনার জন্য প্রশাসনকে মোটা অংকের উৎকোচ প্রদান করা হয়। যে কারনে তারা নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করছে।
এছাড়া একটি সময় নগরীতে যাত্রা জুয়া বন্ধের দাবীতে নগরীর বিশাল মানববন্ধন আর বিক্ষোভ কর্মসূচির পাশাপাশি আল্টিমেটাম দিতে দেখা গেছে আলেম, ওলামা, মুসল্লি এবং আওয়ামীলীগ ও যুবলীগ নেতা-কর্মীদের। আ’লীগ নেতাদের নেতৃত্বেই এসব আন্দোলন গড়ে উঠেছিলো। কিন্তু যখন নগরীর প্রান কেন্দ্রে বানিজ্য মেলার নামে অশ্লিলতা চলছে তখন আ’লীগ কিংবা মুসল্লি সবাই নিরব। কেননা এই অশ্লিলতা আ’লীগ যুবলীগ, ছাত্রলীগ আর শ্রমিক লীগই পরিচালনা করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল মেট্রো পলিটন পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী বলেন, চলমান বানিজ্য মেলা এবং আনন্দ মেলায় কোন প্রকার অশ্লিল নৃত্য হচ্ছে না। বিষয়ে আমাদের নজরদারী রয়েছে। অশ্লিল নৃত্য হলে সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।