নগরীতে বসবে কোরবানীর ৮ পশুর হাট

রুবেল খান ॥ বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের তিনটি স্থায়ী হাট সহ নগরীর ৮ স্থানে বসছে কোরবানীর পশুর হাট। কোরবানীর বাকি আর মাত্র ৯ দিন। কিন্তু এখনো চলছে এসব পশুর হাটের প্রস্তুতি। নগরীর এই ৮ হাটের পাশাপাশি সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মহাসড়কের পাশেও চলছে পশুর হাটের প্রস্তুতি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানিয়েছে, নগরীতে পশুর হাট ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এ বছর বিসিসি’র স্থায়ী নগরীর রূপাতলী ২৪ নং ওয়ার্ডের সোনারগাও টেক্সটাইল মিল সংলগ্ন, কাশিপুরের বাঘিয়া ও নগরীর কশাইখানা গরুর হাট ছাড়াও ৫টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর অনুমতি দিয়েছে।  আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল শুক্রবার বিভিন্ন স্থানে ৫টি পশুর হাটের অনুমতি দিয়েছেন সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল। নগর উন্নয়ন এবং বিসিসি’র আয় বাড়ানোর লক্ষ্যেই এবার বেশি স্থায়ী পশুর হাটের ইজারা দেয়া হয়েছে বলে নগর ভবনের হাট বাজার ও ষ্টল শাখা সূত্র নিশ্চিত করেছে।
নগর ভবনের হাট বাজার ও ষ্টল শাখার পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ জানান, অস্থায়ী যে সব হাটের অনুমতি দেয়া হয়েছে সেগুলো হলো- নগরীর কাউনিয়া টেক্সটাইল সংলগ্ন বটতলা, কালুশাহ সড়ক মীরা বাড়ির পুল সংলগ্ন বালুর মাঠ, কালিজিরা বাজার, নবগ্রাম রোড এবং নজরুল ইসলাম সড়কে অস্থায়ী পশুর হাট। কোরবানীর ঈদের ৭ দিন পূর্ব থেকে এ হাটগুলো বসবে। তবে এর মধ্যে কালিজিরা বাজার ও কাউনিয়া টেক্সটাইল সংলগ্নে গত বছরেও পশুর হাট বসেছিলো। বাকি তিনটি নতুন। এছাড়া কালুশাহ সড়ক মীরা বাড়ির পুল সংলগ্ন বালুর মাঠে যে পশুর হাটের অনুমোদন দেয়া হয়েছে সে হাটটি বসানো হবে সিএন্ডবি রোডের সদর উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে।
আবুল কালাম আজাদ আরো জানান, অস্থায়ী হাটের ইজারার জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে ৮টি আবেদন নগর ভবনে জমা হয়েছে। তার মধ্যে তিনটি বাদ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে মহা সড়কের পাশে হাটের আয়োজন এবং পরিবেশ বিপর্যয়ের কথা ভেবে মেয়র আহসান হাবিব কামাল বাকি হাটগুলোর অনুমোদন দেননি বলে দাবী করেন এই কর্মকর্তা।
তবে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে অস্থায়ী হাটের কিছু ভিন্ন চিত্র। অস্থায়ী হাট গুলোর মধ্যে বেশির ভাগ পশুর হাট বসানোর আয়োজন করা হয়েছে ঘনবসতি পূর্ন এলাকা  এবং রাস্তার উপরে। বিশেষ করে নবগ্রাম রোড, থানা কাউন্সিল ও নজরুল সড়কে। এজন্য ঐ তিনটি এবং স্থায়ী একটি হাট সহ চারটি পশুর হাট ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদের জন্য খুবই ঝুকিপূর্ন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। এর মধ্যে নগরীর হাটখোলার কশাইখানায় বিসিসি’র স্থায়ী পশুর হাটটি প্রতি বছর জনবহুল এলাকায় রাস্তা দখল করে হাট বসিয়ে আসছে স্থানীয় আসলাম নামের প্রভাবশালী ব্যক্তি। তিনি পরিবেশ বা সরকারের আইনের তোয়াক্কা না করেই ক্ষমতার জোরে চলাচলের পথ দখল করে হাট বসিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে এ নিয়ে পত্রিকায় একাধিক সংবাদ প্রকাশ হলেও বিসিসি অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। তবে সিটি কর্পোরেশনের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে জনগণের ভোগান্তি রোধকল্পেই পশু বিক্রির হাটের সংখ্যা এবার বৃদ্ধি করা হয়েছে।