নগরীতে বর্ণিল আয়োজনে ঘুড়ি উৎসব অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ইট-কাঠের নগরে হারিয়ে যাওয়া লোকজ ঐতিহ্য ঘুড়ির সঙ্গে পরিচিতি ঘটাতে বর্ণিল আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঘুড়ি উৎসব। প্রায় অর্ধশতাধিক রঙ বেরঙের ঘুড়ির সঙ্গে শিশু-কিশোর বয়স্ক মানুষ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় উৎসবে।
গতকাল শুক্রবার বিকেল সোয়া চারটায় নগরের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে নান্দনিক ওই উৎসবের উদ্বোধন করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কাজল ঘোষ। উৎসবের আয়োজন করে প্রথম আলো বরিশালের বন্ধুসভা ।
উদ্বোধনী পর্বে কাজল ঘোষ বলেন, নগরে এখন ঘুড়ি দেখাই যায় না। নগরের শিশুরা ঘুড়ির সঙ্গে পরিচিত হয় কেবল বইয়ের ছবি দেখে। ঘুড়ি উৎসবের আয়োজনের মাধ্যমে বাঙালির লোক ঐতিহ্যের অন্যতম একটি বিষয়ের সঙ্গে নতুন করে পরিচিতি ঘটানো হয়েছে। এটা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। নগরের সব বয়সের মানুষদের নিয়ে আরো আড়ম্বরপূর্ণভাবে উৎসবের আয়োজন করার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরপরই শুরু হয়ে যায় ঘুড়ি ওড়ানো প্রতিযোগিতা। হরেক রকম ঘুড়ি আকাশে উড়তে দেখে বঙ্গবন্ধু উদ্যানে উপস্থিত শিশু-কিশোরা আনন্দে দৌড়ঝাপ শুরু করে। কেউ কেউ আবার একজনের হাতের ঘুড়ি নিয়ে ওড়ানোর চেষ্টা করে। পুরো উদ্যানের আকাশে উড়তে থাকে ঘুড়ি। এরই মধ্যে আকাশে ওড়ানো ঘুড়ি কেউ কৌশলে কেটে দিচ্ছে। কারোর সুতো ছিড়ে ঘুড়ি হারিয়ে যায়। একনাগাড়ে পৌনে ছয়টা পর্যন্ত চলে ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতা শেষে অনুষ্ঠিত হয় পুরষ্কার বিতরণী পর্ব। পুরষ্কার বিতরণ করেন, আঞ্চলিক দৈনিক পরিবর্তন পত্রিকার সম্পাদক কাজী মিরাজ মাহমুদ, প্রথম আলো বন্ধুসভার উপদেষ্টা এম এ মামুন, এবং উদ্বোধক কাজল ঘোষ। এসময় উপস্থিত ছিলেন, প্রথম আলো বন্ধুসভার সভাপতি আসিক ইসলাম, সহ-সভাপতি তন্ময় কুমার নাথ, সাধারণ সম্পাদক ফারজানা আক্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক অনিরুদ্ধ সরকারসহ বন্ধুসভার সদস্যরা। ঘুড়ি ওড়ানো প্রতিযোগিতায় বিজয় হন অমিতাভ গোস্বামী, মেহেদী হাসান আরমান, মো. রাসেল হাওলাদার। তাঁদের প্রত্যেককে পুরষ্কার হিসেবে দেওয়া হয় মুক্তিযুদ্ধে ইতিহাসসহ পাঁচটি বই এবং একটি ব্যাগ।