নগরীতে ধর্ষণের শিকার কিশোরী গৃহবধূকে ঘর ছাড়া করল বাড়ির মালিক

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ধর্ষণের শিকার হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে এক সন্তানের জননী এক কিশোরী গৃহবধূ। এমনকি তাকে আইনী সহায়তায় এগিয়ে না এসে উল্টো কলংক দিয়ে সংসারের মালামাল আটকে রেখে গৃহ ছাড়া করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে ভাড়াটিয়া বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে। বরিশাল নগরীর আমতলার মোড় দূরানী বাড়িতে এই ঘটনাটি ঘটেছে। এমনকি ধর্ষক ও ভাড়া বাড়ির মালিকের হুমকিতে কাবু হয়ে পড়েছে গৃহবধূর দিনমজুর স্বামীও।
ধর্ষিতা গৃহবধূ (১৭) জানায়, তিনি ও তার স্বামী বাংলাবাজার এলাকার একটি স্টিল সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী তাউহিদ হাওলাদার প্রায় ৬ মাস যাবৎ আমতলা পানির টেংকি সংলগ্ন দূরানী বাড়ির ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর দুরানীর ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছেন। সেখানে বসবাসরত অবস্থায় একই এলাকার বাসিন্দা ও বিসিসি’র পরিচ্ছন্ন কর্মী আনসার এর ছেলে ফয়সাল তাকে বিভিন্ন ভাবে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো।
এর প্রেক্ষিতে গত ৮ই মার্চ রাত ৮টার দিকে তরুণী গৃহবধূ তার শিশু সন্তানকে নিয়ে শূন্য ঘরের শয়ন কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলো। এসময় একই এলাকার সুলতান এর ছেলে ইউনুস ও রাসেলের সহযোগিতায় ফয়সাল গৃহবধূর ঘরে প্রবেশ করে। এক পর্যায় গৃহবধূকে ফয়সাল ধর্ষণ করে বলে গৃহবধূ অভিযোগ করেন।
তিনি আরো জানান, ঘটনার সময় তার ডাক চিৎকারে বাড়ির মালিক ছুটে এসে বন্ধ দরজায় ধাক্কা দেয়। তখন ধর্ষক ফয়সাল দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দেয় এবং তাদের জানায় গৃহবধূ তাকে অবৈধ মেলামেশার জন্য ঘরে ডেকে নিয়েছে। ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর গায়ে এমন কলঙ্ক দিয়ে পালিয়ে যায় ফয়সাল। এমনকি ধর্ষক ফয়সালের কথা মতো বাড়ির মালিক জাহাঙ্গীর দুরানি গৃহবধূকে মিথ্যা কলঙ্ক দিয়ে তাদের সংসারের মালামাল আটকে রেখে ঘর থেকে নামিয়ে দেয়।
এদিকে ঘর থেকে নামিয়ে দেয়ার পরে ধর্ষক এবং তার তিন সহযোগির সাথে একাত্ম হয়ে গৃহবধূকে হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়া করে। ফলে তিনি ভয়ে আতংকে নিজ গ্রামের বাড়ি নলছিটির নাচন মহলে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এমনকি তার স্বামী তাউহিদকেও তাদের ভাড়া বাসায় প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন।
ধর্ষিতা গৃহবধূ জানায়, ঐ রাতে ঘটনার পর পরই তিনি এবং তার স্বামী তাদের এক পরিচিত আইনজীবীর কাছে করনীয় বিষয়ে পরামর্শ জানতে যায়। কিন্তু ঐ আইনজীবী তাকে আইনী সহায়তা না দিয়ে বিষয়টি নিয়ে নাড়া চাড়া না করে আমতলার মোড় থেকে অন্যত্র বাসা ভাড়া নিয়ে থাকার পরামর্শ দেন। যার ফলে ঐ দিন পুলিশ কিংবা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেনি বলে দাবী গৃহবধূ ও তার স্বামীর। তবে গতকাল ঐ গৃহবধূকে আইনী সহায়তা প্রদানের জন্য তা স্বামী শ্বশুর বাড়ি থেকে নগরীতে নিয়ে আসলে পরিবর্তন প্রতিবেদকের নিকট এই অভিযোগ করেন।