নগরীতে এসএসসি পরীক্ষার্থী খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সহপাঠীকে ‘ভাই’ না বলায় নগরীর রুপাতলীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে শাবল দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল রোববার রাত সোয়া আটটার সময় নগরীর রুপাতলী শেরে বাংলা সড়কের জাহিতুন নেছা মাদ্রাসার সামনে এই ঘটনা ঘটেছে। নিহত পরীক্ষার্থীর নাম আবু সালেহ (১৮)। সে ওই এলাকার মৃধা বাড়ির লিটন মৃধার ছেলে। সালেহ নগরীর আলেকান্দা নুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী। তার হত্যাকারী সহপাঠী সরকারী হাতেম আলী কলেজের একাদশ শ্রেনীর ছাত্র হৃদয়। সে একই এলাকার আতাউর রহমান সুজনের ছেলে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এঘটনায় তার মামা দেলোয়ারকে আটক করা হয়েছে। তার মাধ্যমে ঘাতক হৃদয়কে গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
নিহতের মামা মাসুম বিল্লাহ জানান, হৃদয় ও সালেহ একই সাথে পড়াশুনা করতো। সালেহ গত বছর পাশ করতে পারেনি। তাই এবারেও এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিল। সালেহ পাশ না করায় হৃদয় সিনিয়র হয়েছে। তাই হৃদয় তাকে ভাই বলে সম্বোধন করার জন্য সালেহকে বলে। কিন্তু সালেহ তাকে ভাই বলেনি। এ নিয়ে গত ১৮ নভেম্বর ব্যাডমিন্টন খেলায় তাদের মধ্যে মারামারি হয়। স্থানীয়রা বিষয়টি সমাধান করে দেয়। এরপরেও গতকাল সোয়া আটটার দিকে সালেহ কোচিং থেকে ফিরে মাদ্রাসার সামনে চায়ের দোকানে অপর এক সহপাঠীর সাথে কথা বলছিল। এই সময় আকস্মিক হৃদয় শাবল নিয়ে এসে সালেহ’র মাথায় সজোরে আঘাত করে। এতে গুরুতর আহত হয় সালেহ। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে শেবাচিম হাসাপাতালে এনে ভর্তি করার পর মারা যায় সে। নিহত সালেহ তার পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান ছিল। তাকে হারিয়ে মা-বাবা পাগল প্রায়। তাদের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
এদিকে এই ঘটনার পর পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শেবাচিম হাসপাতালে ছুটে যান। তারা সালেহ’র লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছেন। ঘটনাস্থলে থাকা সহকারী কমিশনার ফরহাদ সরদার বলেন, জুনিয়র সিনিয়র দ্বন্দ্বে এই ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকারী হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে তার মামা দেলোয়ার মৃধাকে তার নিজ এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে।  তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে