নগরীতে এসআই’র স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর গোরস্থান রোডে পাঁচ তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে এক এসআই’র স্ত্রী রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ১২টার দিকে স্বামীর সাথে মোবাইলে কথা বলা শেষে ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হলে শেবাচিম হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তবে গৃবধূর মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যা সে নিয়ে ধু¤্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত গৃহবধূর নাম সানজিদা আক্তার (২২)। সে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাসুম আহম্মেদ এর স্ত্রী। নিহত সানজিদা ঝালকাঠি’র নলছিটি উপজেলার ঝুমুরকাঠি গ্রামের আমজাদ হোসেন এর কণ্যা। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহত গৃহবধূ সানজিদা’র ননদ রুমি আক্তার জানান, ঈদুল ফিতরের পর দিন তার ভাই পুলিশের এএসআই মাসুম এর সঙ্গে সানজিদার আনুষ্ঠানিক ভাবে বিয়ে হয়। মাসুম ইতিপূর্বে বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালী মডেল থানায় কর্মরত থাকার সুবাধে বিয়ের পর থেকেই তারা বরিশালে বসবাস করে আসছিলো। কিন্তু সম্প্রতি তাকে পদন্নোতী দিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে সংযুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে মাসুম ঢাকায় কর্মরত। গত চার মাস ধরে মাসুম এর স্ত্রী সানজিদা বেগম বরিশাল নগরীর সিন্ডবি সড়ক সংলগ্ন গোরস্থান রোডে কোরিয়া প্রবাসী নাসির মিয়ার মালিকানাধীন (হোল্ডিং নং-৯০৬) পাঁচতলা বাড়ির ২য় তলার একটি ফ্লাটে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলো। গৃহবধূ সানজিদার সঙ্গে ননদ রুমি এবং এক দেবর বসবাস করত। রুমি জানান, গতকাল বুধবার বেলা ১২টার দিকে তার ভাবি সানজিদা ছাদে উঠে মাসুম এর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন। কথা বলার হঠাৎ সময় সানজিদাকে উত্তেজিত হতে দেখেন রুমি। এর কিছুক্ষন পরে রুমি তার ভাবি সানজিদাকে ডেকে আনতে বাড়ির ছাদে যান। সেখানে সানজিদাকে খুব বিমর্শ অবস্থায় দেখে রুমি তার হাত ধরে টেনে ঘরে নিয়ে আসার চেষ্টা করে। তখন সানজিদা উত্তেজিত হয়ে পাঁচ তলার ছাদ থেকে নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তাৎক্ষনিক ভাবে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধিন অবস্থায় বিকাল ৪টার দিকে সানজিদার মৃত্যু হয়।
এদিকে সানজিদার আত্মহত্যার বিষয়ে শ্বশুর বাড়ির লোকজন সাংবাদিকদের নিকট কোন তথ্য প্রকাশ করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। এমনকি প্রত্যক্ষদর্শী ননদ ঘটনার বর্ণনা দিতে চাইলে তাকেও অন্যত্র সরিয়ে নেন তারা।
বাড়িতে ভাড়া থাকা কয়েকজন প্রতিবেশী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে বলেন, পুলিশের এএসআই মাসুম পদোন্নতী পেয়ে ঢাকায় চলে যাবার পরে সেখানে পরকিয়ায় জড়িয়ে পরেন। বিষয়টি স্বামী-স্ত্রীর মাঝে জানাজানি হলে স্ত্রী সানজিদা মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ে। পাশাপাশি ঢাকায় স্বামীর সঙ্গে থাকবে বলে বায়না ধরে। কিন্তু নতুন পদোন্নতি বিধায় স্বামী-স্ত্রী এক সঙ্গে থাকা যাবে না বলে স্ত্রীকে জানায় মাসুম। এ নিয়ে তাদের মঝে বেশ কিছুদিন ধরেই বাদানুবাদ চলে আসছিলো। এর জের ধরেই সানজিদা আত্মহত্যা করতে পারে বলে ধারনা প্রতিবেশীদের। তাছাড়া ঘটনাটি হত্যা কিনা সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিৎ বলেও মনে করেন তারা।
এদিকে সানজিদার বাবা আমজাদ হোসেন এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেন। নিজেকে অনেকটা নিরুপায় দাবি করে বলেন, এ বিয়েত আমি রাজি ছিলাম না । মেয়ের মায়ের অনুরোধে মাছুমের সঙ্গে সানজিদার বিয়ে দেই। বিয়ের পর থেকেই সানজিদাকে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করে আসছিলো স্বামী মাসুম ও তার পরিবার। এ জন্য বেশ কয়েকবার মেয়েকে তাদের কাছ থেকে নিয়ে আসতে চেয়েও ব্যর্থ হয়েছি। তবে তিনি মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে কোন মামলায় যেতে রাজী নন জানিয়ে বলেন, ওদের (মাসুম) অনেক ক্ষমতা। ওর মায়ের সঙ্গে ক্ষমতাসিন দলের এক শীর্ষ নেতার সু-সম্পর্ক রয়েছে। মামলা করে নতুন করে কোন বিপদ ডেকে আনতে চাই না। এমনকি মেয়র মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে পত্রিকায় লেখা-লেখি না করার অনুরোধও জানান নিহত সানজিদার বাবা আমজাদ হোসেন।
ঘটনাস্থলে থাকা কোতয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি রহস্যজনক মনে হচ্ছে। তবে মেয়ের পরিবার থেকে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ কিংবা মামলা করা হলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তবে নিহতের ঘটনায় আপাতত একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।