নগরীতে এক সপ্তাহে কয়েক কোটি টাকার চার্জার ফ্যান-এসি-আইপিএস বিক্রি

সিদ্দিকুর রহমান ॥ রোদের তীব্রতার সাথে দিন দিন তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে। এতে বৃদ্ধি পেয়েছে অসহনীয় গরম। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। যার কারনে গরমে শিশু থেকে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা এমনকি মাঝ বয়সী মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। তাই কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে বৈদ্যুতিক পাখা আর এয়ারকন্ডিশনের (এসি) ঠান্ডা হিমেল বাতাসে শরীর জুড়িয়ে নিচ্ছেন তারা। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারনে সেগুলো সব সময় চালানো যাচ্ছে না। তাই বৈদ্যুতিক চার্জ সংরক্ষন করা পাখার চাহিদা বেড়ে গেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন  ব্রান্ডের এয়ারকন্ডিশন (এসি) বিক্রয়ের হিড়িক পড়েছে নগরীর প্রায় প্রতিটি নামীদামি কোম্পানীর শো-রুম গুলোতে। এমনকি বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা হিসেবে আইপিএসের বিক্রির সংখ্যা কিন্তু কম নয়। সরেজমিনে প্রায় প্রতিটি শো-রুম ঘুরে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। আর এর ফলে নগরীতে গত এক সপ্তাহে কয়েক কোটি টাকার চার্জার ফ্যান, এসি, আইপিএস, এবং ফ্যান বিক্রয় হয়েছে বলে ধারনা করা যায়। তাছাড়া প্রতিদিনই এই সকল পন্যের উপর সাধারন মানুষের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নগরীর সদর রোডস্থ শহীদ মিনার সংলগ্ন সিঙ্গার মেগা শো-রুমের ব্যবস্থাপক মো. আহসানুল কবির সুমন জানান, আসন্ন মাহে রমযানকে ঘিরে এবং রৌদ্রের খরতাপ থেকে মুক্তি পেতে এসি এবং আইপিএসের বিক্রির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক সপ্তাহে তার শো-রুম থেকে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ টি ১ এবং ২ টনের এসি বিক্রয় করেছেন। যা পূববর্তী বছরের তুলনায় এটা রেকর্ড সংখ্যক বিক্রি। এসময় তিনি আরো বলেন, এসির পাশাপাশি আইপিএস বিক্রির সংখ্যাও কোন অংশে কম নয়। যা প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৭ টা করে বিক্রি হয়েছে। আর এখন রৌদ্রের তাপমাত্র যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে এই সকল পন্যের বিক্রি চাহিদা আরো কয়েক গুন বেড়ে যাবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে নগরীর গীর্জামহল্লার বেস্ট ইলেকট্রনিক্স’র শাখা ব্যবস্থাপক এবিএম শফিকুল ইসলাম জানান, গরমের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে এসব পন্যের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তার শো-রুম গীর্জামহল্লা মার্র্কেটের দ্বিতীয় তলায় হওয়ায় সাধারন অনেক ক্রেতাদেরই নজরে পড়ে না। তারপরে থেমে নেই তাদের বিক্রি। নগরীর অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক্স শো-রুম গুলো থেকে এই শোরুমটিতে এসি এবং চার্জার ফ্যান বিক্রি বেড়েছে । গত এক সপ্তাহে তার শো-রুম থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ টির বেশি এয়ারকন্ডিশন (এসি)  বিক্রি হয়েছে। তাছাড়াও এই শো-রুমে প্রায় নামীদামী সকল ব্রান্ডের ইলেকট্রনিক্স পন্যের সমারোহ রয়েছে। সাধারন মানুষ তাদের ইচ্ছে অনুযায়ী যেকোন ব্রান্ডের পন্য এই শো-রুম থেকে সংগ্রহ করতে পারবে। আর এ ক্ষেত্রে দামের ব্যাপারেও রয়েছে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা।
অন্যদিকে ওয়ালটন, এলজি বাটার ফ্লাই শোরুমসহ অন্যাণ্য ব্র্যান্ডের শোরুম গুলোতে তাদের উৎপাদিত পন্যে এসি এবং আইপিএস বিক্রি হয়েছে রেকর্ড সংখ্যক। এদিকে নগরীর কাটপট্টি এবং গীর্জামহল্লা এলাকায় ইলেকট্রনিক্স এর দোকান গুলো ঘুরে দেখা গেছে, সাধারন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। সব দোকান গুলোর বিক্রয় প্রতিনিধিদের অন্য দিন গুলোর মতো বসে থাকার সময় নেয়। তারা সবাই ব্যস্ত বিভিন্ন ধরনের চার্জার ফ্যান বিক্রির জন্য। কাটপট্টি রোডের মের্সাস ইমন ইলেকট্রনিক্স, সেতু ইলেকট্রনিক্স, মের্সাস জয় ইলেকট্রনিক্স, ভেনাস ইলেকট্রনিক্স, চান ইলেকট্রনিক্স, খান ইলেকট্রনিক্স, তাজ ইলেকট্রনিক্স, ছুলেমান হাসিব ইলেকট্রনিক্স, জেমিনিস ইলেকট্রনিক্সসহ অন্যান্য দোকান গুলোর বিক্রয় প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় প্রতিটি দোকানেই গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন প্রকারভেদে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার চার্র্জার ফ্যান বিক্রি হয়েছে। তাছাড়া এই চার্জার ফ্যানের চাহিদা অনেক। একথায় বলা যায় চার্জার ফ্যান বিক্রয় রেকর্ড পূববর্তী বছর গুলো থেকে অনেক বেশি। তারা আরো বলেন, বর্তমানে এই প্রতিযোগীতা মূলক বাজারে বেশি লাভ করা সম্ভব নয়, সীমিত লাভ করেই এই ফ্যান গুলো বিক্রয় করা হচ্ছে। স্থান পরিবর্তনের সাথে সাথে চার্জার পাখার ক্রেতা ও দামের পার্থক্য রয়েছে। নগরীর অন্যান্য মার্কেট থেকে এখানে দোকান বেশি হওয়ায় ক্রেতার সমাগম বেশিই।
তবে এসময় তারা অভিযোগ করে বলেন, চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ঢাকার পাইকারী ব্যবসায়ীরা তাদেরকে ফ্যান দিচ্ছে না। দেখা গেছে, কয়েক মাস আগে অগ্রিম টাকা দিয়ে রাখার পরও চাহিদা মতো তারা চার্জার ফ্যান পাচ্ছে না। এক রকম কৃত্রিম সংকটে তৈরি করে রাখছে ঢাকার গুলিস্তানের নবাবপুরের পাইকারি ব্যবসায়ীরা। আর এর ফলেই এই সকল পন্যে বেশি দামে ক্রয় করতে হচ্ছে তাদের। আর এই প্রভাবটা পড়ছে সাধারন ক্রেতাদের উপর।
অন্যদিকে নগরীর গীর্জ্জামহল্লায় ইলেকট্রনিক্স পণ্য সামগ্রী বিক্রেতা মেসার্স জাকের রেডিও এন্ড ওয়াচ হাউজের স্বত্তাধিকারী সুপ্পি জানান, চার্জার ফ্যান বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। বিদ্যুতের লোডশেডিংকে পুজি করে বিভিন্ন কোম্পানী ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে বানিজ্যির জন্য ইলেকট্রেশিয়ানরা চার্জার পাখা তৈরি করেছে। সর্বনি¤œ ৮ ইঞ্চি থেকে ১৬ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়ে চার্জ দেয়া পাখা রয়েছে। এসব পাখার স্থায়িত্বের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই চার্জ দেয়া বৈদ্যুতিক পাখা ক্রয়ের সময় যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।
দাম সম্পর্কে তিনি বলেন, কোম্পানি ভেদে সর্বনি¤œ ৮০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়াও ব্রান্ডের মধ্যে ওয়ান ব্রান্ডের চার্জার পাখার দাম সর্বনি¤œ ২ হাজার ৩০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ টাকা, অন্যদিকে ডিফেন্ডার চার্জার পাখার দাম সর্বনি¤œ ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়। এই সব পাখার সাথে এলইডি বাল্ব যুক্ত থাকে। এসব পাখায় সর্বোচ্চ ২-৩ ঘন্টা পর্যন্ত বাতাস দিতে সক্ষম। তবে ফিট, লুসাই, সনেকা, সনি ব্রান্ডের পাখায় সর্বোচ্চ ৫ ঘন্টা বাতাস দিয়ে থাকে।
নগরীর গীর্জ্জা মহল্লায় মেসার্স ফাতেমা ইলেকট্রনিক্স, মেসার্স এএলওয়াচ ইলেকট্রনিক্স, শুকরিয়া ইলেকট্রনিক্স নামের দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র।
এদিকে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে রাজিব আহসান নামে ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, চার্জার ফ্যান গুলোর নকলে সয়লাব হয়ে আছে। যার ফলে সতর্ক অবস্থানে থেকে ক্রয় করতে হচ্ছে। আর ক্রেতার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা প্রচুর দাম হাকাচ্ছেন। যার ফলে দরদাম করে কিনতে হচ্ছে।