নকলে বাধা দিতে গিয়ে আইএইচটি’র শিক্ষক তাহেরুল ইসলাম বিপাকে

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ শিক্ষার মান উন্নয়নে সারাদেশে নকল মুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার। এজন্য শিক্ষকদের দেয়া হচ্ছে কড়া নির্দেশনা ও ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন প্রযুক্তি। কিন্তু সরকারের সেই মহৎ উদ্যোগকে বাস্তবে রূপ দিতে গিয়ে নিজেই চাকুরী হারানোর মহা শংকায় ভুগছেন নগরীর ইনস্টিটিউট অব হেলথ্ টেকনোলজী (আইএইচটি) এর একজন প্রভাষক। সরকার দলীয় ছাত্র নেতাকে নকলে বাঁধা এবং নকলে সহযোগিতার জন্য শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনে সহযোগিতা করায় প্রভাষক তাহেরুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু মেডিকেল টেনকোলোজিষ্ট পরিষদের জেলার সাধারণ সম্পাদক হয়েও তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে তিনি জামাত নেতা। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে একের পর এক ষড়যন্ত্র। অপরাধীরা সবাই জোটবদ্ধ হয়ে পত্রিকায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ এমনকি তা মহাপরিচালকের কার্যালয়ে প্রেরন করে ওই শিক্ষককে বদলির মহা পরিকল্পনা করছে ছাত্র-শিক্ষকদের একটি চক্র। এর ফলে নকল মুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ে তুলতে সরকারের লক্ষ্য বাধাগ্রস্থ হচ্ছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন শিক্ষক সমাজ।
জানাগেছে, নগরীর শেবাচিম কম্পাউন্ডে অবস্থিত আইএইচটিতে প্রভাষক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই ক্যাম্পাসটিতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কাজ করেন শিক্ষক তাহের সুমন। সেখানে তার যোগদানের পরে প্রথম উদ্যোগই ছিলো নকল মুক্ত শিক্ষাঙ্গন সৃষ্টির। সে অনুযায়ী প্রত্যেকটি পরীক্ষায় শিক্ষকদের নিয়ে টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে নকল ঠেকাতে কড়া নজরদারীর ব্যবস্থা করেন। অবশ্য তার এই উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষও সহায়ক ভুমিকায় ছিলেন।
সূত্র জানায়, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা উপেক্ষা করে আইএইচটি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসলাম হোসাইন ক্যাম্পাসে নকল করেন। তাকে নকল সরবরাহের সহযোগিতা করেন একজন মহিলা প্রভাষক। ওই নারী প্রভাষককে নকল সহ হাতেনাতে ধরে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এর মাধ্যমে বহিস্কার করা হয়।
শুধু তাই নয়, আইএইচটি ছাত্রলীগের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল আহমেদ পরীক্ষায় নকলের মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়। কিন্তু তাতেও বাঁধ সাধেন প্রভাষক তাহের সুমন। প্রত্যেকবারই তাকে নকলে বাঁধা দিয়ে আসছিলেন তিনি। আর তাই পরীক্ষার হলে নকল করতে না পেলে বছরের পর বছর ফেল করে আদুভাই সেজে আছে আইএইচটি’র ল্যাবরেটরী অনুষদের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল। নকল করে পাশ করতে না পারায় শাকিল প্রভাষক তাহেরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শুরু করেছে একের পর এক ষড়যন্ত্র।
আইএইচটি প্রভাষক তাহের তাহেরুল ইসলাম বলেন, শাকিল অনিয়মিত ছাত্র। সে ক্লাশ এবং ভালোভাবে খেলাপড়া করে না। এজন্য বার বারই পরীক্ষায় ফেল করে। চলতি বছরের ২৯ অক্টোবর শাকিল একটি বিষয়ে সাপলিমেন্ট পরীক্ষায় অংশ নেয়। কেন্দ্রে নকল করতে গিয়ে আমার হাতে ধরা পড়ে। এজন্য তাকে বহিস্কার করা হয়। তখন শাকিল আমায় দেখিয়ে দেয়ার হুমকিও দিয়েছিলো। কিন্তু তার হুমকিতে গুরুত্ব না দিয়ে নকলমুক্ত একটি শিক্ষাঙ্গন গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছিলাম।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে ইতিপূর্নে অনেক অনিয়ম ছিলো। সার্টিফিকেট এবং ভর্তি বানিজ্য ছিলো নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। অধ্যক্ষর সহায়তায় সেই অনিয়ম বন্ধের চেষ্টা করেছি। ছাত্রীরা রাত-বেরাতে ক্যাম্পাসে আসা যাওয়া করত। কিন্তু সেই নিয়ম পাল্টে সন্ধ্যাকালিন আইন করে দিয়েছি। কিন্তু বিষয়গুলো অনেকের ভালো লাগেনি। তাই এখন শিক্ষক-ছাত্রলীগ এক হয়ে আমাকেই সাইজ করতে উঠে পড়ে লেগেছে।
তিনি বলেন, শাকিল নামের ওই ছাত্রলীগ নেতাকে পরীক্ষায় নকলের সুযোগ করে দেয়ার জন্য বিভিন্ন স্থান হতে তদবির এসেছিলো। কিন্তু তাদের অনৈতিক তদবির আমি রাখতে পারেনি। কেননা আইএইচটি’র এক একজন ছাত্র’র উপর নির্ভর করছে এক একটি মানুষের জীবন। তাদের সেই তদবির রাখতে না পারায় আমাকে বানিয়ে দেয়া হয়েছে জামায়াত নেতা। অথচ আমি বঙ্গবন্ধু পরিষদের একজন সংগঠক। মিথ্যা প্রচার করে কোন লাভ না হওয়ায় এখন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করাচ্ছে। এমনকি প্রকাশিত সংবাদের কাটিং অভিযোগ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রেরন করা হচ্ছে। যাতে করে আমিকে আইএইচটি থেকে বদলি করা হয়। পত্রিকায় লেখা হচ্ছে আমি নাকি পরীক্ষায় নকলের সহযোগিতা করছি। এটা একদিকে যেমন হাস্যকর তেমনি দুঃখ্যজন মন্তব্য করে প্রভাষক তাহের সুমন বলেন, সরকারের নকল মুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ে তুলতে গিয়েই আজ আমি প্রশ্নের মুখোমুখি। এর সঠিক তদন্ত হলে বাস্তব প্রমানও মিলবে। সুযোগবাদীরা একাট্টা হয়ে আমার পেছনে লেগেছে। এমনটি হলে ভবিষ্যতে কেউ ভয়েও নকল মুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়তে এগিয়ে আসবে না। তাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।