নকলসহ আটকের ছাত্রলীগ নেতাকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মুলাদীতে এইচএসসি’ পরিক্ষার হলে নকল সরবরাহ কালে আটকের পর পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদককে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে আটক করা হলেও ঘটনার আড়াই ঘন্টা পর উপজেলা চেয়ারম্যান তাকে ছাড়িয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে ঘটনার পরে তাকে আটককারী মুলাদী থানার এসআই ফারুক হোসেন নিশ্চিত করলেও পরে কৌশলগত ভাবে বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। এমনকি আটকের বিষয়টি সত্য নয় বলেও দাবী করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা এক শিক্ষক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, মুলাদী পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল হাওলাদার পরীক্ষা শুরুর পর থেকেই মুলাদী হাইস্কুল কেন্দ্রের আশে পাশে ঘুরঘুর করে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ছাত্রলীগ নেতা হওয়ার দাপট দেখিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করে। এসময় কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্বে থাকা মুলাদী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন তাকে বাধা দেয়। এ নিয়ে তার সাথে ছাত্রলীগের ঐ নেতার কথা কাটাকাটিও হয়। এক পর্যায় পুলিশের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ছাত্রলীগ সাধারন সম্পাদক জুয়েল কেন্দ্রের ১২নং কক্ষে প্রবেশ করে তার অনুসারী ছাত্রলীগ কর্মী হালিমকে নকল সর্বরাহ করে।
বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে এসে ছাত্রলীগ নেতা জুয়েলকে আটকের নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী পুলিশ তাকে আটক করেন। তবে সময় সল্পতার কারনে তাকে ভ্রাম্যমান আদালতের আওতায় আনার সুযোগ হচ্ছিল না।
এদিকে বিষয়টি জানতে পেরে মুলাদী উপজেলা চেয়ারম্যান মিঠু খান তাকে ছাড়িয়ে নিতে লবিং শুরু করেন। এমনকি আটকের আড়াই ঘন্টা পর অর্থাত দুপুর ১টায় জুয়েলকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নেয় বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার পর পরই যোগাযোগ করা হলে মুলাদী থানার এসআই ফারুক হোসেন মুঠোফোনে বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন এবং বলেন একটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে বিকালে পূণরায় বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি আটকের বিষয়টি পুরোপুরি ভাবেই এড়িয়ে যান। বলেন জুয়েল নামের কাউকে তারা আটক করেননি।
এ বিষয়ে সত্যতা জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসউদ যোগাযোগ করা হলে তিনিও এমন ঘটনা ঘটেনি বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের নিকট দাবী জানিয়েছেন।