ধূমপান মুক্ত করার জন্য যুব সমাজকে এগিয়ে আসার আহবান

সিদ্দিকুর রহমান॥ ঘন ঘন ধূমপান করে যেই জন, কিনে রাখা ভাল তার নিজের কাফন। যুব সমাজ দেশ ও জাতির কর্ণধার। কিন্তু বর্তমান সময়ে এই যুব সমাজই মাদকাসক্তে বেশি আসক্ত হয়ে পড়েছে। তাই এই দেশ ও সমাজকে ধূমপান মুক্ত করার জন্য যুব সমাজের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা কাজে লাগানোর আহবান জানিয়েছেন সাংসদ জেবুন্নেছা আফরোজ। গতকাল রোববার বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস উদযাপনে সকাল সাড়ে ১০টায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আবিস্কারের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরীর অশ্বিনী কুমার হলে বিশ্ব তামাক মুক্ত সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন বরিশালের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলে তারা মাদকাসক্তি ছেড়ে খেলাধুলার প্রতি আসক্ত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এছাড়াও বর্তমান যুব সমাজ বা নতুন প্রজন্মকে সাথে নিয়ে বরিশাল নগরীকে ধূমপান মুক্ত নগরী গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত ব্যক্তি জেলা প্রশাসক মোঃ শহীদুল আলম তার লেখা ধূমপান বিরোধী কিছু লাইন উচ্চারন করে বলেন, “ধূমপানে নেই যশ, নেই সম্মান, নেই অপার কোন সুখ। শুধু সে দাহ করে ছোট করে ফুটো করে ঝাঝড়া করে বুক।” এ সময় তার বক্তব্যে তিনি বলেন, ধূমপান করে মানুষ নিজের যেমন ক্ষতি করছে এবং সাথে সাথে পাশে থাকা অধূমপায়ী ব্যক্তি ও সমান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়াও যেকোন প্রতিষ্ঠানকে ধূমপান মুক্ত প্রতিষ্ঠান গড়ার লক্ষ্যে ওই সকল প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের ধূমপান বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে পরিবারের কোন সদস্য ধূমপায়ী থাকলে তাকে এই অবস্থা থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পরিবারের সদস্যদের মূখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। এছাড়াও শহরের বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে ধূমপান কারীদের বুঝাতে হবে এর কুফল সম্পর্কে এবং সচেতনতা মূলক ক্যাম্পেইন করার আহবান জানান হয়। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আবিস্কারের চেয়ারম্যান আবু বকর ছিদ্দিক সোহেলের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডাঃ এটিএম মিজানুর রহমান, আবিস্কারের উপদেষ্টা ডাঃ সৈয়দ হাবিবুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা আক্কাস হোসেন সাংবাদিক এসএম ইকবাল। এছাড়াও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক, রাজস্ব, শিক্ষা) আবদুল্লাহ আল মামুন, আবু ইউসুফ মোঃ রেজাউর রহমান, আবুল কালাম আজাদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কাজী হোসনেয়ারা, সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান সৈয়দ গোলাম মাহবুব, নাট্যজন সৈয়দ দুলাল, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক সুকুমার বিশ্বাস, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রউফ মিয়া প্রমুখ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস সম্মাননা-১৪ প্রাপ্তির গৌরব অর্জনের জন্য জেলা প্রশাসক মোঃ শহীদুল আলমকে সম্মাননা স্মারক দেয়া হয়। এছাড়াও ৫ জন আজীবন অধূমপায়ী মুক্তিযোদ্ধা এনায়েত হোসেন চৌধুরী, শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ লেঃ কর্নেল (অবঃ) শামসুদ্দিন খান, শিক্ষক মোঃ ফিরোজ হোসেন খান, চেম্বার অব কমার্সের সহ সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক, সমাজ সেবক মোঃ বজলুর রহমান। ধূমপান ছেড়েছেন এমন ৫জন মুক্তিযোদ্ধা মোকলেছুর রহমান, সাংবাদিক সৈয়দ মাহবুব হোসেন খোকন, এনজিও সমূহের সমন্বয়কারী কাজী জাহাঙ্গীর কবির, সমাজসেবায় চান মিয়া, বেসরকারি সংস্থা আরোহীকে সংবর্ধিত করা হয়। অন্যদিকে ধূমপান বিরোধী রিপোর্ট করার জন্য আলোকিত বাংলাদেশের ব্যুরো রিপোর্টার ও রিপোর্ট ৭১’র সম্পাদক সাইদুর রহমান পান্থকে সম্মাননা স্বরূপ ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়। এদিকে স্কুল পর্যায়ে ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে রচনা প্রতিযোগিতায় ১ম ফাহিমা আক্তার, ২য় রেজোয়ান মাহমুদ ও ৩য় সুষ্মিতা দাসকে ক্রেষ্ট দেয়া হয়। এছাড়াও সকাল ১০টায় বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস উদযাপনে অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেয় ডাঃ সৈয়দ হাবিবুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা আক্কাস হোসেন, রণজিৎ দত্ত, রফিকুল ইসলাম, কাওছার পারভিন, ইসহাক মিজান প্রমুখ। মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করেছে এন্টি টোবাকো মিডিয়া এ্যালায়েন্স (আত্মা), আবিষ্কার, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাষ্ট বন্টন সোসাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট, বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট, ডব্লিউ ট্রাষ্ট, বিএসডিপি, ডিএমইউএস ও আরডিপি, একলাব আরোহী, সারডো ও পিডিও।