ধারালো অস্ত্র সহ আটক-৪ নগরীর গাবতলা এলাকায় দু’জনকে নির্মমভাবে কুপিয়ে জখম

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর ২৩ নং ওয়ার্ডে এক ছাত্র সহ দুই যুবককে কুপিয়ে জখম করেছে কিশোর সন্ত্রাসী বাহিনী। এর মধ্যে এবছর এসএসসি পরীক্ষা দেয়া রুবেল নামের ছাত্র’র অবস্থা আশংকাজনক। তার পিঠ এবং হাত পা জুড়ে ধারালো অস্ত্রের বড় ধরনের জখম রয়েছে। এমনকি ধারালো অস্ত্রের কোপে ফুসফুসে জখম হয়ে রক্ত জমা হয়েছে।
গতকাল রোববার সন্ধ্যার দিকে নগরীর ২৩নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ সাগরদী এলাকাধীন গাবতলা সড়কের কুমার বাড়ি সামনে এই ঘটনা ঘটে। আহত রুবেল (১৮) সাগরদী ফকিরবাড়ি স্কুল এলাকার সেলিম হাওলাদার এর ছেলে। এছাড়া অপর আহত যুবক একই এলাকার বাছেত হাওলাদারের ছেলে হিরন। তাদেরকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় হামলাকারীর মা-ছেলে এবং বাবা সহ তিনজনকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে হামলায় ব্যবহৃত একটি ধারালো অস্ত্র। আটককৃতরা হলো গাবতলা এলাকার বাসিন্দা বাদশা হাওলাদারের ছেলে এবং একই এলাকার আনসার উদ্দিন মল্লিক কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র আরিফুর রহমান, একই এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেন, তার স্ত্রী শিল্পি বেগম ও ছেলে হৃদয় ওরফে হাসান খান। এরা সবাই ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এনামুল হক বাহার এর লোক হিসেবে পরিচিত। তাদের আটকের পরে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে রাতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
তবে হামলার সুনির্দিষ্ট কারন জানা যায়নি। কেউ বলছে পূর্ব শত্রুতার জের, আবার কেউ বলছে মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাছাড়া মেয়ে সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে বলেও জানিয়েছেন কেউ কেউ।
আহত যুবক হিরন হাওলাদার জানায়, গতকাল রোববার তিনি এবং রুবেল গাবতলা সড়কের বায়তুল মামুর জামে মসজিদে মিলাদ শেষে এক সাথে বাসায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে কুমার বাড়ি নামক স্থানে আমির হোসেন ওরফে নৌবাহিনী, তার ছেলে হৃদয় হাসান খান, স্ত্রী শিল্পি বেগম, একই এলাকার বাসিন্দা মেহেদী হাসান ও আরিফ হোসেন সহ বেশ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। এসময় তাদের দু’জনকেই এলোপাথারী ভাবে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। তবে এর মধ্যে রুবেল এর পিঠ এবং পায়ে বেশ কয়েকটি কোপ লেগেছে। তবে কি কারনে তাদের উপর হামলা হয়েছে সে সম্পর্কে কিছু জানা নেই বলে দাবী করেছে হিরন।
এদিকে কুপিয়ে জখমের পরে আশংকাজন অবস্থায় রুবেল এবং হিরনকে শেবাচিম হাসপাতালের সার্জারী বিভাগে ভর্তি করা হয়। এর পর পরই দ্রুত চিকিৎসার ফলে হিরন এর শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটলে মুমূর্ষ অবস্থায় রয়েছে রুবেল। হাসপাতালের সার্জারী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক জানিয়েছেন রুবেলের পিঠ জুড়ে ধারালো অস্ত্রের বড় ধরনের একটি জখম রয়েছে। তাছাড়া উড়–তে বড় ধরনের একটি কোপ রয়েছে। এতে করে তার শরীর থেকে ব্যাপক রক্তক্ষরন হয়েছে। রোববার রাত পর্যন্ত রুবেলের শরীরে ৭ ব্যাগ রক্ত সঞ্চালন করা হয়েছে। কিন্তু রক্ত থামানো যাচ্ছিলো না। চিকিৎসকরা ধারনা করে বলেন, পিঠে যে কোপটি দেয়া হয়েছে তা ভেতরে ফুসফুসে লেগে জখম হয়েছে রক্ত জমাট বেধেছে বলে মনে হচ্ছে। পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে। আপাতত তাকে পোস্ট অপারেটিভে নিবিড় পর্যবেক্ষনে রাখা হয়েছে। অক্সিজেন এর মাধ্যমে কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস প্রশ্বাস করানো হচ্ছে। ৭২ ঘন্টা না যাওয়া পর্যন্ত তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সার্জারী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসকরা। এ অবস্থায় তাকে ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসা দেয়ার পরামর্শও পরিবারকে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
এদিকে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের দায়িত্বে থাকা সহকারী পুলিশ কমিশনার মুঠোফোনে জানান, ঘটনার পর পরই ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে হামলায় অংশ নেয়া চারজনকে আটক করেছেন। পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে একটি ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করেছেন। আটককৃতরা হলো- গাবতলা এলাকার বাদশা’র ছেলে আরিফুর রহমান, একই এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেন, তার স্ত্রী শিল্পি বেগম ও ছেলে হৃদয়। হামলার কারন উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাছাড়া এই ঘটনায় মামলা হবে বলেও জানিয়েছেন ডিবি পুলিশের এই ওই কর্মকর্তা।
এদিকে হামলাকারী আরিফ এর বাবা বাদশা জানায়, তার ছেলে কোচিং করে বাসায় ফেরে। এসময় হৃদয় তাকে ফোন করে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এর পরপরই হামলা এবং আমার ছেলেকে আটকের খবর পেয়ে ডিবি কার্যালয় ছুটে আসেন তিনি।
হামলার কারন দাবী করে তিনি বলেন, যারা আহত হয়েছে তারা সম্প্রতি গাবতলা স্কুল এলাকায় মাদকের আসর বসায়। বিষয়টি নজরে আসলে আমার ছেলে আরিফ এবং অন্যরা তার প্রতিবাদ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওরা আমার ছেলেকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করলে পরে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে পত্রিকায় সংবাদও প্রকাশ হয়েছে।
তাছাড়া ওই দিনই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ভাবে সালিশ মিমাংসার আয়োজন করা হয়। তখন ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এনামুল হক বাহার একচেটিয়াভাবে সালিশ মিমাংসা করে উভয়কে মিলিয়ে দেয়। সালিশে পক্ষপাতিত্ব করায় ওই দিনের ঘটনার জের ধরেই গতকাল রোববার হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবী বাদশার।
তবে স্থানীয় কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি ২৩নং ওয়ার্ডে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে যারা হামলার শিকার হয়েছে তারা পরাজিত কাউন্সিলর প্রার্থী আমির হোসেন মিঠুর হয়ে প্রচার-প্রচারনা করে। আর যারা হামলা করেছে তারা বিজয়ী কাউন্সিলর এনামুল হক বাহার এর সমর্থক ছিলো। নির্বাচনকালীন পক্ষপাতিত্বের জের ধরেই গতকাল কাউন্সিলর বাহার এর লোকজন হামলার ঘটনা ঘটাতে পারে। অবশ্য হৃদয় এবং রুবেল এর মধ্যে মেয়ে সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো বলে দাবী করেছে তাদের বন্ধুরা।