ধারালো অস্ত্র উদ্ধার, আটক-৩ বিএম কলেজে ছাত্র ও বহিরাগত ছাত্রলীগের পাল্টা ধাওয়া, ক্যাম্পাসে ব্যাপক ভাংচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বরিশাল ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ শিক্ষার্থীদের সাথে বহিরাগত জেলা ছাত্রলীগ কর্মীদের অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এসময় বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ বন্ধ সহ তাদের বিচারের দাবীতে শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষর ভবন সহ কলেজের বিভিন্ন বিভাগের দরাজা-জানালা ভাংচুর করে। পরে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। সেই সাথে ১১ মার্চ বুধবার বেলা ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের আধাঘন্টা ব্যাপী এই তান্ডবের ঘটনায় বহিরাগত ছাত্রলীগের তিন কর্মীকে দুটি ধারালো অস্ত্র সহ আটক করে পুলিশ। এই ঘটনায় কোন ছাত্র বা বহিরাগতদের মধ্যে কেউ আহত হয়নি বলে জানিয়েছেন মডেল থানা পুলিশ। আটককৃতরা হলো- তন্ময়, ইমরান ও শুভ দত্ত। এরা বিএম কলেজ সংলগ্ন নতুন বাজার এলাকার ছাত্রলীগ কর্মী।
বিএম কলেজ আবাসিক হলের ছাত্র ও রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের সুজন জানান, বহিরাগত ছাত্রলীগ কর্মী হিরা ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে মুসলিম হলের সামনে পুকুর পাড়ে প্রেমিকার সাথে আড্ডা দিচ্ছিল। এসময় মুসলিম হলের কয়েকজন ছাত্র তাদের দু’জনকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে। এ নিয়ে প্রেমিক যুগলের সাথে কলেজ ছাত্রদের বাক বিতন্ডা হয়।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হিরা তার বহিরাগত সহযোগি ছাত্রলীগ কর্মী রাতুল, সাকিব ও মল্লিক, তন্ময়, ইমরান ও শুভ দত্ত সহ অন্যদের নিয়ে ধারালো অস্ত্র সাজে সজ্জিত হয়ে ক্যাম্পাসের মুসলিম হলে প্রবেশ করে এবং ছাত্রদের খোঁজা খুজি করে। তখন আবাসিক হলের ছাত্ররা প্রতিবাদ করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এক পর্যায় বহিরাগত ছাত্রলীগ কর্মীরা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় কলেজের আবাসিক তিন হলের বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা বিচারের দাবীতে কলেজ অধ্যক্ষ’র কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। তারা অধ্যক্ষের ভবন সহ বিভিন্ন বিভাগের দরজা-জানালা ভাংচুর চালায় বলে কলেজের একাধিক সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিশ্চিত করেছেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে গেলে খবর পেয়ে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। সেই সাথে ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি লাঠি সোটা এবং দুটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার ও তিন ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
বিএম কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফজলুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, একদল বহিরাগত ক্যাম্পাসের ভেতরে আবাসিক হলে প্রবেশের পাশাপাশি বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে। ছাত্রদের পরিচয়পত্র দেখে বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশকে বলা হয়েছে।
কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন আটকের বিষয়টি সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কলেজ প্রশাসন বিষয়টি প্রত্যক্ষ করছেন। বহিরাগত রোধে তারাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তাছাড়া পূর্বে থেকেই ক্যাম্পাসের মূল ফটকে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।