ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্য ও উৎসাহ উদ্দীপনায় পবিত্র ঈদ উল আজাহা উদযাপিত

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্য্য ও ত্যাগের মহিমায় পালিত হয়েছে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। মহান সৃষ্টিকর্তার সানিধ্য লাভের জন্য পশু কোরবানীর মধ্যে দিয়ে দিনটি উদযাপন করেন ধর্মপ্রান মুসলমানরা। এর পূর্বে ঈদের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার সকালে নির্ধারিত সময়ে পবিত্র ঈদ উল আযহার নামাজ আদায় করেন ধর্মপ্রান মুসলমানরা। বরিশাল নগরীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় নগরীর বান্দ রোডের হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ্ ময়দানে। সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত এই ঈদের জামাতে অংশ গ্রহন করেন বিসিসি’র মেয়র মো. আহসান হাবিব কামাল, বরিশাল-২ আসনের এমপি এ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাড. খান আলতাফ হোসেন ভুলু, জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. আফজালুল করিম, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু প্রমূখ। এছাড়া চরমোনাই’র পীরের দরবারে বরিশাল বিভাগের সব থেকে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি নগরীর চারটি মসজিদে দুটি করে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে নামাজ আদায়ের পর পরই শুরু হয় পশু কোরবানী । বরিশাল নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের পাশাপাশি জেলা এবং অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পশু কোরবানীর মধ্যে দিয়ে পবিত্র ঈদ উল আযহা উদযাপন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী মা-বাবা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী এবং সন্তানদের নামে পশু কোরবানী দেয়া হয়েছে। এছাড়া অনেক স্থানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর নামেও পশু কোরবানী দেয়া হয়। সাধ ও সাধ্যের মধ্যে কেউ গরু আবার কেউ খাসি দিয়ে কোরবানী দিয়েছেন। কেউ একা এক ভাবে এবার ৭ জন মিলে সর্বচ্চ ৭ ভাগে পর্যন্ত কোরবানী দিয়েছেন। সকাল থেকে দিন ভর কোরবানী গরুর মাংস বানানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মুসলমানরা। কেউ কশাই দিয়ে আবার কেউ মৌসুমী কশাইদের মাধ্যমে মাংস বানানোর কাজ করেন। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে নিজেরাই সবাই মিলে কোরবানীর মাংস বানায়। দুপুর নাগাদ মাংস বানানো শেষে তা সমহারে ভাগ করা হয়। পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী আত্মিয়স্বজন, পারা-প্রতিবেশি এবং দুস্থদের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছেন কোরবানী দাতারা।
এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিসিসি’র নির্ধারিত স্থান ছাড়াও নগরের পাড়া মহল্লার অলিগলিতে ও বসত বাড়ির সামনে পশু কোরবানির কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর ফলে নগরের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অনেকটা বাধা গ্রস্থ হয়। তবে বিসিসি থেকে নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানী দেয়ার পর বর্জ্য সরিয়ে ফেলেন বিসিসি’র পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা।
অপর দিকে ঈদ উল আযহাকে ঘিরে র‌্যাব এবং পুলিশের নিরাপত্তা বলয়ে ঘিরে ছিলো মহানগরী এলাকা। বিশেষ করে কেন্দ্রিয় ঈদগাহ ময়দান সহ গুরুত্বপূর্ণ ৯টি ঈদগাহ ময়দানের প্রশাসনের কড়া নজরদারী ছিলো। যে কারনে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সরকারি কর্মদিবস থাকলেও নগরীতে ঈদের আমেজ কাটেনি। সরকারী দপ্তর গুলোতে উপস্থিতি ছিল তুলানামুলক কম। বড় বড় বিপনী বিতানগুলো ছিল বন্ধ। তবে নগরীর ও আশপাশের বিনোদন স্পগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভীড়।