দ্বিতীয় দিনেও ছয় রুটে বাস চলাচল বন্ধ ॥ শ্রমিকদের মারধর

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল ও ঝালকাঠি মিনিবাস মালিক সমিতির দন্দে দ্বিতীয় দিনেও বরিশাল থেকে ছয় রুটে সরাসরি কোন চলাচল করতে পারেনি। তাছাড়া গতকাল মঙ্গলবার বরিশাল থেকে পটুয়াখালী রুটেও বরিশালের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা করেছে ঝালকাঠি বাস মালিক ও শ্রমিকরা। এ সময় তারা ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলাধীন দপদপিয়া জিরো পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে এক বাস চালকসহ তিনজনকে মারধর ও বিক্ষোভ করেছে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে।
এদিকে গত সোমবার সকাল থেকে নগরীর রূপাতলী বাস টার্মিনাল থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ঝালকাঠি, পিরোজপুর, মঠবাড়িয়া, ভান্ডারিয়া, খুলনা ও বাগেরহাটের উদ্দেশ্যে সরাসরি কোন বাস না ছাড়ায় ভোগান্তিতে পড়তে দেখা গেছে যাত্রীদের। তেমনি ভাবে উল্লেখিত অঞ্চল থেকেও কোন বাস বরিশালে আসতে পারেনি। অবশ্য ঝালকাঠির বাস বরিশালে প্রবেশ না করলেও রূপাতলী বাস টার্মিনাল থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দুরে ঝালকাঠির রায়াপুর এলাকায় অস্থায়ী ভাবে কাউন্টার স্থাপন করেছে ঝালকাঠি মিনিবাস মালিক সমিতি। সেখান থেকেই ঝালকাঠি সহ ছয়টি রুটের যাত্রীদের বাসে উঠতে হচ্ছে। এতে করে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে যাত্রীদের। বৃদ্ধ-শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের যাত্রীদের কেউ পায়ে হেটে, কেউ অটোরিক্সা, মাহেন্দ্র এবং কেউবা আবার ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল যোগে পৌছাতে হচ্ছে রায়াপুর অস্থায়ী বাস টার্মিনালে। আবার রায়াপুর থেকেও একই ভাবে যাত্রীদের পৌছতে হচ্ছে নগরীর রূপাতলী বাস টার্মিনালে।
তবে গত দু’দিন বরিশাল থেকে ছয় রুটে দুই মালিক সমিতির দ্বন্দ্বের কারনে এমন সংকট সমাধান করেনি প্রশাসন। অবশ্য সংকট সমাধানের জন্য আজ বুধবার বিকাল তিনটায় ডিআইজি’র কার্যালয়ে বরিশাল-পটুয়াখালী মালিক সমিতি ও ঝালকাঠি মালিক সমিতি এবং শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ঝালকাঠি মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিলন মাহমুদ বাচ্চু বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে ওই ছয় রুটে বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, খুলনা ও বাগেরহাট সমিতির বাস সমন্বয় করে চলাচল করলেও বরিশাল-কুয়াকাটা রুটে ঝালকাঠি সমিতির কোন বাস চলতে দেয়া হচ্ছে না। কিন্তু বরিশাল-কুয়াকাটা রুটে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলাধীন ৮ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। যা বরিশাল ও পটুয়াখালী মালিক সমিতি ব্যবহার করছে। তাই ওই ৮ কিলোমিটার সড়কের ন্যায্য হিস্যা’র দাবীতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেয়া আল্টিমেটাম অনুযায়ী গত সোমবার সকাল থেকে বরিশাল থেকে ঝালকাঠিতে কোন বাস যেমন প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না তেমনি ঝালকাঠি থেকেও কোন বাস বরিশালে যাচ্ছে না। অবশ্য যাত্রীদের যাতে ভোগান্তি না হয় সে জন্য রূপাতলী থেকে তিন কিলোমিটার দুরে রায়াপুর নামক স্থানে অস্থায়ী বাস টার্মিনাল স্থাপন করে দেয়া হয়েছে। সেখান থেকেই ঝালকাঠি সহ অন্যান্য রুটের বাস চলাচল করছে।
তিনি বলেন, দাবী আদায়ের জন্য মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু দাবী না মানায় গতকাল মঙ্গলবার সকালে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের ঝালকাঠি’র নলছিটি উপজেলাধীন দপদপিয়া জিরো পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেছেন। সেখানে বরিশাল এবং পটুয়াখালী’র বাস চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন তারা। তবে বিভাগীয় প্রশাসন বিষয়টি সুরাহার আশ্বাস দেয়ায় কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সংক্ষিপ্ত এক সমাবেশ করে তারা ফিরে আসেন। আজ বুধবার ৮ কিলোমিটার সড়ক নিয়ে সমাধান না দিলে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ওই সড়ক বরিশালের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে।
অপরদিকে বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন বলেন, গতকালও বরিশাল থেকে ঝালকাঠি সহ ৬টি রুটে আমাদের বাস চলতে দেয়নি ঝালকাঠি সমিতি। এমনকি তারা নলছিটি জিরো পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে আমাদের ১৯৩ নম্বর বাসের তিন শ্রমিককে তারা মারধর করেছে। ওই বাসটি সকালে বাকেরগঞ্জ থেকে ছেড়ে বরিশালে আসছিলো। মারধরের শিকার শ্রমিকরা হলো চালক লাল মিয়া, সুপারভাইজার সালাম ও হেলপার হিমু।
তিনি বলেন, বিভাগীয় প্রশাসন বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। এজন্য আমরা তাৎক্ষনিক ভাবে বিষয়টি নিয়ে কোন ঝামেলায় যাইনি। তবে সমাধান না হলে বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতি পাল্টা আন্দোলনের ডাক দিবে বলেও হুমকি দেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন।