দেশকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে সংস্কৃতি কর্মীদের ভূমিকা রয়েছে- নৌ মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এমপি বলেছেন, বিএনপির রাজনীতি আজ জন্ডিসে পরিনত হয়েছে। সাধারনত মানুষ জন্ডিসে আক্রান্ত হলে চোখে হলদে দেখে। বর্তমান সরকারে উন্নয়নের ফলে দেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হচ্ছে। কিন্তু দেশের এই উন্নয়ন গুলো বিএনপির চোখে পড়ছে না। তারা শুধু টেকসই বিহীন উন্নয়নের কথা বলে যাচ্ছে। “তিন দশকের সংগ্রাম-এগিয়ে চলা অবিরাম” এ শ্লোগানে গতকাল বুধবার বরিশালের ২৭টি সংগঠনের জোট সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের তিন দশক পূর্তি উৎসবের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি একথা বলেন।
এসময় তিনি আরো বলেন, জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করে দেশে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার আমলে সারের সংকটের সময় কৃষকদের রাজপথের আন্দোলনে ১৭ জন কৃষককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। শুধু এটাই নয়, বিএনপি আন্দোলনের নামে পেট্রোল বোমা দিয়ে মানুষ হত্যা, জ্বালাও-পোড়াও করে তারা জনগণের মন থেকে দূরে সরে গেছে। তাই চাইলেও মানুষকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে পারবে না। বিএনপির আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনাকে সরানো। যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে যা যা করা দরকার, তার সবই বিএনপি করেছে। জ্বালাও-পোড়াও, মানুষ খুন করেছে। বিদেশিদের শরণাপন্ন হয়েছে। উন্নয়নের দেশ এই বাংলাদেশকে ধ্বংস করার জন্য খালেদা জিয়া উঠে পড়ে লেগেছে। কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি। বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের সময় এদেশের বিরোধীতাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড কার্যকর করে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করেছে। তাছাড়াও এই দেশকে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসমুক্ত করার লক্ষ্যে সংস্কৃতি কর্মীদের ভূমিকা অনেক। আন্দোলনকে সংগ্রামকে সামনে রেখে সংস্কৃতি আরো বিকশিত হয়েছে।
বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি এ্যাড. এস এম ইকবালের সভাপতিতে উৎসবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিজন সাহান আরা বেগম। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন মঞ্চসারথী আতাউর রহমান, বরিশাল-২ আসনের সাংসদ এ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাট্যজন সৈয়দ দুলাল। সংগঠনের সাবেক সাধারন সম্পাদক সাইফুর রহমান মিরনের সঞ্চালনায় উদ্বোধণী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাংষ্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সাধারন সম্পাদক মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের শুভেচ্ছা স্মারক ও উত্তরীয় পরিয়ে দেয় সংগঠনটির নেতৃবৃন্দরা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিজন শান্তিদাস, ডা. সৈয়দ হাবিবুর রহমান, নজরুল ইসলাম চুন্নু, জীবন কৃষ্ণ দে, আজমল হোসেন লাবু, কাজল ঘোষ, শুভংকর চক্রবর্তীসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
উৎসবকে কেন্দ্র করে নগরীর চারটি ভেন্যুতে সপ্তাহব্যাপী বর্নাঢ্য নানা আয়োজন করেছে সমন্বয় পরিষদ। এর আগে আনন্দ শোভাযাত্রা ও নৃত্য এবং পরে চারণ কবি মুকুন্দ দাসের গান পরিবেশিত হয়। আজ ২ মার্চ অশ্বিনী কুমার হলে নাটক ও বিজয় বিহঙ্গ চত্ত্বরে আলোচনা সভা, আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য ও নাটক মঞ্চায়িত হবে। ৩ মার্চ অশ্বিনী কুমার হলে কর্মী সম্মিলনী, নাটক ও পলাশপুরে আলোচনা সভা, আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য ও নাটক মঞ্চায়িত হবে। ৪ মার্চ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাঠি খেলা, আলোচনা সভা, আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য ও যাত্রাপালা দেবী সুলতানা মঞ্চায়িত হবে। ৫ মার্চ অশ্বিনী কুমার হলে নাটক ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আলোচনা সভা, আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য ও কুষ্টিয়ার লালন একাডেমীর পরিবেশনায় লালনগীতি পরিবেশিত হবে। ৬ মার্চ অশ্বিনী কুমার হলে নাটক ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আলোচনা সভা, আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য ও কাজল রেখা বয়াতী ও তার দলের পরিবেশনায় জারী গান পরিবেশিত হবে। এ ছাড়া ৭ মার্চ সমাপনী অনুষ্ঠানের দিনে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান, আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য ও চাপাইনবাবগঞ্জের রসকস এর পরিবেশনায় গম্ভীরা গান পরিবেশিত হবে। ৪ মার্চ থেকে ৭ মার্চ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চারুকলা প্রদর্শনী হবে। বর্নাঢ্য এ আয়োজনে সকলের উপস্থিতি কামনা করেছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।