দুর্গাপূজার রং-বেরং এর আলোয় দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মন্ডপে অধিবাসের মধ্যে দিয়ে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে দূর্গাপূজা। আজ বুধবার হবে সপ্তমী পূজা। দুর্গাপূজাকে ঘিরে প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও রং বেরং এর আলোক সজ্জায় সেজেছে গোটা নগরী। সাজ সজ্জায় যেন কমতি নেই কোথাও। শুধু দৃষ্টিনন্দিত দৃশ্য। বিশেষ করে দুর্গাপূজার আলোর ঝলকানিতে রাতের নগরী জ্বল জ্বল করছে। পূজা মন্ডপ ছাড়াও সড়কের যতদুর চোখ যায় শুধু দেখা মেলে আলোর ঝালকানি সৃষ্টি করেছে উৎসব মুখর পরিবেশের।
বরিশাল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক মানিক মুখার্জী কুডু জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও জাকজমক পূর্ন আয়োজনের মধ্যে দিয়ে দেবী দূর্গাকে বরন এবং বিদায় জানানো হবে। গত বছরের তুলনায় এবার দূর্গাপূজা মন্ডপের সংখ্যা ১৭টি বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া মোট ৫৮৪টি পূজামন্ডপের মধ্যে ৬টি ব্যক্তিগত এবং দুটি মানবিক পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তাছাড়া জেলার মধ্যে আগৈলঝাড়া উপজেলায় সর্বোচ্চ ১৪১টি মন্ডপে এবং মুলাদী উপজেলায় সর্বোনি¤œ ১০টি মন্ডপে শারদীয় দূর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।
এছাড়া বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডে ২০টি, সদর উপজেলায় ৩৭টি পূজামন্ডপে দূর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। তাছাড়া উজিরপুর উপজেলায় ১১৩টি, গৌরনদী উপজেলায় ৮০টি, বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ৭১টি, বানারীপাড়া উপজেলায় ৫৬টি, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় ২৩টি, বাবুগঞ্জ উপজেলায় ২২টি এবং হিজলা উপজেলায় ১৩টি মন্ডপে দূর্গাপূজার আয়োজন ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে সরেজমিনে দেখাগেছে, নগরীর মধ্যে নতুন বাজার শ্রী শ্রী শংকর মঠ ও ফলপট্টির মহানগর পূজামন্ডপে জমকালো আয়োজন করা হয়েছে। এদুটি পূজা মন্ডপের ভেতর থেকে শুরু করে বাইরে পর্যন্ত সাজানো হয়েছে নববধূর রুপে। শংকর মঠ কম্পাউন্ডের মধ্যে পুকুরে লাইটিং করা টাওয়ার, দুই পাশে পদ্মফুল, চার পাশে টুনিবাতি, ১২টি প্রতীমার ডিজাইন সহ ব্যাপক সাজসজ্জা করা হয়েছে শংকর মঠে। এর বাইরে মঠটিতে রয়েছে আরো বিশেষ কিছু আকর্শন। এছাড়া মহানগর পূজা মন্ডপও সাজানো হয়েছে দৃষ্টিনন্দিত করে। দেবী দূর্গার নৌকায় আগমন ঘটবে তাই পানশী নৌকার আলোকে সাজানো হয়েছে তোড়ন। মহানগর পুজা মন্ডপের সামনে সড়কে আলোকসজ্জা ছাড়াও প্রতি বছর মন্ডপের তোড়ন তৈরীতেই থাকে বিশেষ আকর্শন।
শুধু এদুটি পূজা মন্ডপিই নয়, নগরীর প্রায় সব কটি পূজা মন্ডপই সেজেছে নববধূর সাজে। মন্ডপের পাশাপাশি তৎ সংলগ্ন সড়ক গুলোও আলোক সজ্জায় সাজানো হয়েছে। বিশেষ করে নগরীর হাসপাতাল রোডে অর্থাৎ সদর হাসপাতাল থেকে নতুন বাজার আবার নতুন বাজার থেকে নথুল্লাবাদ পর্যন্ত সড়কেটিতে আলোক সজ্জা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সদর রোড শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের মন্দির, কালিবাড়ি রোডের পাশানময়ি কালি মন্দির, বাজার রোড বড় কালিবাড়ি মন্দির, বগুরা রোডে শ্রী শ্রী গৌরী মঠ, শীতলাখোলা ঘোষবাড়ি মন্দির, টিয়াখালী সার্বজনিন দূর্গামন্দির, কাশিপুর মুখার্জী বাড়ির শতাধীক বছরের পুরানো মন্ডপ, কাউনিয়া গোষবাড়ি, জিয়া সড়ক সার্বজনিন দুর্গা মন্দির, হাসপাতাল রোড কারিকর বিড়ি সার্বজনিন পূজা মন্দির, ঝাউতলা সার্বজনিন দুর্গামন্দির, ডা. হেম শংকর দূর্ড়াপূজা, ভাটিখানা সার্বজনিন পূজা মন্ডপকে ঘিরে আশ পাশের সড়ক গুলোকে নানা রং এর বাতি এবং ঝাড়বাতি দিয়ে বর্নিল সাজে সাজানো হয়েছে। এছাড়া ফলপট্টি এবং চক বাজার সড়কও সেজেছে নবধূর সাজে। দেখে মনে হয় যেনে দেবীর আগমনকে ঘিরে সাজ সজ্জার প্রতিযোগিতা চলছে। বিশেষ করে রাতে এসব স্থানগুলো বেশ দৃষ্টিনন্দিত এবং দর্শনীয় হয়ে উঠছে। অবশ্য প্রতি বছরই নগরীতে দূর্গাপূজার সাজ সজ্জার উপরে পুরস্কার পেয়ে থাকেন আয়োজকরা। আর তাই সাজ সজ্জার উপরে বার্তি উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে আয়োজকদের মাঝে।