দুধর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী রাজা কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সাপুড়ে মান্না পাহাড়িকে হত্যা চেষ্টার মামলার প্রধান আসামি দুধর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম রাজাকে জেলে পাঠিয়েছে আদালত। অপরদিকে তার ভাই রবিউল ইসলাম বাদশা হাওলাদার সহ ২ আসামির জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। গতকাল বুধবার অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করে রাজা ও বাদশা। আদালতের বিচারক অমিত কুমার দে রাজার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং তার ভাই বাদশা ও জেলে থাকা মামলার অন্যতম আসামি ফিরোজ সিকদারের জামিন মঞ্জুর করেন। এর মধ্যে ফিরোজ সিকদারকে ৭ দিনের অন্তবর্তীকালীন জামিন দেয়া হয়। জেলে যাওয়া সন্ত্রাসী তরিকুল ইসলাম রাজা নগরীর জিয়া সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। আদালত সুত্র জানায়, দীর্ঘদিন থেকে এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলো। মাদক ব্যবসা আরো প্রসারিত করার জন্য চলতি বছরের ৯ এপ্রিল নগরীর জিয়া সড়কের বাসিন্দা মান্না পাহাড়ীকে সাপের বাক্সে চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা বহনের প্রস্তাব দেয় মাদক ব্যবসায়ি তরিকুল ইসলাম রাজা। অস্বীকার করলে মান্না পাহাড়ীকে গত কয়েক মাস ধরেই নানাভাবে হুমকী দিতে থাকে রাজা ও তার লোকজন। এ নিয়ে থানায় মান্না পাহাড়ী সাধারন ডায়েরী করলে তার উপর ক্ষিপ্ত হয় রাজা। ৩০ এপ্রিল থানায় রাজার বিরুদ্ধে একটি সাধারন ডায়েরী করেন মান্না পাহাড়ী। এতে রাজার পক্ষ নিয়ে মুঠোফোনে মান্নাকে হুমকী দেয় কাউন্সিলর ইসরাত আমান রুপা। হুমকিতে সাপুড়ে মান্না পাহাড়ীকে মেরে ফেলার হুমকীসহ বেঁচে থাকতে চাইলে রাজাকে বিরক্ত না করার জন্য মান্নাকে বলে দেন কাউন্সিলর রুপা। এ ঘটনায় মান্না পাহাড়ী রুপার বিরুদ্ধেও একটি সাধারন ডায়েরী করেন। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইনে সংবাদ প্রকাশ হলে মান্না পাহাড়ীর উপর আরো ক্ষিপ্ত হয় কাউন্সিলর রুপা। পরে রুপার নির্দেশেই রাজা ও তার লোকজন মিলে মান্না পাহাড়ীকে গত ১৯ জুলাই রাতে জিয়া সড়কে মদিনা মসজিদের সামনে মান্না পাহাড়ীকে হত্যার উদ্দেশ্যে উপর্যপুরী কুপিয়ে জখম করে সন্ত্রাসীরা। ২০ জুলাই মান্নার স্ত্রী কাজল বেগম বাদী হয়ে নগরীর ২২নং ওয়ার্ডের জিয়া সড়ক এলাকার বাসিন্দা ও যুবলীগ কর্মী তরিকুল ইসলাম রাজা, সরজিৎ চন্দ্র রায়, মোঃ ফিরোজ, মাসুদ মোল্লা, রফিকুল ইসলাম বাদশাকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় কাউন্সিলর রুপাকে হুকুমের আসামী করা হয়। মামলা দায়ের পর পরই কাউন্সিলর রুপাকে তার ব্রাউন কম্পাউন্ড বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ২০ জুলাই ওই মামলার হুকুমের আসামী সিটি কর্পোরেশনের সংরক্ষিত (১৬, ১৭, ১৮ নং ওয়ার্ড) নারী কাউন্সিলর ইসরাত আমান রুপাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে রুপা জামিনে রয়েছেন। এদিকে মামলার বাদী কাজল বেগম অভিযোগ করেছেন, জামিনে বের হয়েই সন্ত্রাসীরা পুনরায় তার বাসার সামনে ঘোরাফেরা করছে এবং মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দিচ্ছে। এব্যাপারে কোতয়ালী থানায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে।