দুই নেতার ঐক্যের সুর নেই ছাত্রদলে

রুবেল খান॥ ছাত্রদলের কারনে বাড়ছে বরিশাল জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি)তে গ্রুপিং। দলের মধ্যে কোন গ্রুপিং নেই বলে ঘোষনা করেছেন সিনিয়র নেতারা। কিন্তু তাদের সমর্থক ছাত্রদল নেতারাই আবার জিইয়ে রেখেছেন গ্রুপিং। আর ছাত্রদলে জিইয়ে রাখা গ্রুপিং এর জন্যেই দলের মধ্যে নতুন করে শুরু হচ্ছে কোন্দলের। বাড়ছে অপ্রীতিকর ঘটনাও।
এদিকে সিনিয়র নেতাদের অবমাননা করে গ্রুপিং এর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলা ছাত্রদল নেতারা। একই সাথে যারা গ্রুপিং করছেন তারা দলের স্বার্থান্বেষী মহল বলেও দাবী করছেন অনেকে। তবে গ্রুপিং নিয়ে ভিন্ন সুরে কথা বলছেন মহানগর ছাত্রদল। গ্রুপিং এর পক্ষপাতিত্ব করার পাশাপাশি এটা দোষের কিছু নয় বলে মন্তব্য করেছেন নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক খন্দকার আবুল হাসান লিমন।
সূত্রমতে, দীর্ঘদিন ধরেই বরিশাল বিএনপি’র অন্যতম অভিভাবক মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার ও জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আহসান হাবিব কামাল এবং বর্তমান দক্ষিণ জেলার সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন এর মধ্যে চলে আসছিলো গ্রুপিং এর রাজনীতি। বিশেষ করে কামাল-সরোয়ার দ্বন্দ্বই ছিলো মূল আলোচনায়। যা রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে সাধারন মহলেও বেশ আলোচিত ছিল। তবে ২০১৩ সালে বরিশাল সিটি নির্বাচনকে ঘিরে বরিশালে এই দুই নেতার দীর্ঘ দিনের পুরানো রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের অবসান ঘটে।
দুই নেতাই রাজনৈতিক শত্রুতা ভুলে এক প্লাটফর্মে উঠে আসলেও গ্রুপিং জিইয়ে রাখে তাদের সমর্থক কতিপয় ছাত্র নেতা। সেই থেকেই নির্বাচন পরবর্তী কিছুদিন না যেতেই জেলা ও মহানগর বিএনপিতে আবারো শুরু হয় রাজনৈতিক শত্রুতা। ছাত্রদলে গ্রুপিং এর সুযোগ কাজে লাগিয়ে জেলা বিএনপি’র কমিটি গঠন নিয়ে সাবেক এক সাধারন সম্পাদকের কুট-কৌশলে শত্রুতার জাল ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। এজন্য বরিশালে সরকার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভুমিকা রাখতে পারছিলো না বিএনপি’র স্থানীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা। সরকার বিরোধী আন্দোলনে নিস্ক্রিয় থেকে নিজেদের মধ্যেই গোলমাল পাকিয়ে বসেন নেতা-কর্মীরা।
অতঃপর আগামীতে বিএনপি’র আন্দোলন শক্তিশালী করতে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে গ্রুপিং এর রাজনীতি আরো ভুলতে বসেছেন সরোয়ার, কামাল ও চান। ইতোমধ্যে তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দলের মধ্যে গ্রুপিং নেই বলে ঘোষনা দেন। সর্বশেষ গত ৫ অক্টোবর একটি অনুষ্ঠানে এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার এবং মেয়র আহসান হাবিব কামাল বিএনপিতে কোন গ্রুপিং না রেখে সরকার বিরোধী আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হতে নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন। দুই নেতার নির্দেশে বরিশাল বিএনপিতে আবারো আশার প্রদীপ জ্বলতে শুরু করে। ঠিক সেই মুহূর্তে ছাত্রদলের একটি গ্রুপ আবারো সক্রিয় হয়েছে গ্রুপিং রাজনীতিতে। আর এ থেকে গ্রুপিং গড়াচ্ছে মূল দলেও।
সর্বশেষ গত ১৫ অক্টোবর নব গঠিত ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে নগরীতে বিশাল এক আনন্দ মিছিল করেছে জেলা ও মহানগর ছাত্রদল। এখানে জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এবং অধিকাংশ যুগ্ম আহ্বায়করাই উপস্থিত ছিলো। কিন্তু পূর্ব ঘোষিত এ কর্মসূচী এড়িয়ে ওই দিন সকালে আলাদা ভাবে আনন্দ মিছিল করেছে জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের অপর একটি গ্রুপ। মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ইয়াছিন আরাফাত মিন্টুর নেতৃত্বে মিছিলটিতে মামুন মোল্লা সহ আরো বেশ কিছু ছাত্রদল নেতা-কর্মী অংশ নেয়। যাদের দেখা যায়নি জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের মূল কর্মসূচীতে।
জেলা বিএনপি’র এক সিনিয়র নেতার মতে, বিএনপিতে কোন গ্রুপিং নেই দাবী করে বলেন, মেয়র আহসান হাবিব কামাল এবং সাবেক মেয়র এ্যাডঃ মজিবর রহমান সরোয়ার কাধে কাধ মিলিয়ে সিটি নির্বাচনে বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। তাদের ঐক্য এখনও আগের মতই অটুট। কিন্তু ছাত্রদলের কর্মকান্ডেই বলে দিচ্ছে দলের মধ্যে এখনো গ্রুপিং রয়েছে।
এদিকে জেলা ছাত্রদলের এক সিনিয়র নেতা অভিযোগ করেন, বিবাদমান কামাল-সরোয়ার দ্বন্দ্ব ভুলে তারা নিজেরাই সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। কিন্তু ছাত্র নেতা বা দলীয় সিনিয়র নেতাদের দলীয় কোন কর্মকান্ডে না ডাকা এবং পাশে না রাখার জন্যই গ্রুপিং থেকেই যাচ্ছে।
ছাত্রদলের মধ্যে গ্রুপিং এর বিষয়ে বরিশাল জেলা ছাত্রদরের আহ্বায়ক মাসুদ আলম মামুন আজকের পরিবর্তনকে বলেন, বরিশাল বিএনপি বা ছাত্রদলে কোন গ্রুপিং নেই। গত সিটি নির্বাচনই এর বড় প্রমান। তিনি বলেন, ১৫ অক্টোবরের আনন্দ মিছিলে মেয়র আহসান হাবিব কামাল, সাবেক মেয়র এ্যাডঃ মজিবর রহমান সরোয়ার এবং জেলা বিএনপি’র সভাপতি এবায়েদুল হক চান এর সমর্থকরা অংশ নিয়েছে। এ কর্মসূচীতে অংশগ্রহনে কোন বাধ্য বাধকতা ছিলো না। তিনি বলেন, যারা প্রকৃত ছাত্র নেতা তারা গ্রুপিং করছে না এবং তারা আনন্দ মিছিলে অংশ নিয়েছিলো। যারা আলাদা ভাবে কর্মসূচী পালন করেছে তারা আদৌ ছাত্রদলের কেউ কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জেলা ছাত্রদলের এই নেতা। তারা দলের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টির জন্যই এমনকি করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক খন্দকার আবুল হাসান লিমন বলেন, আলাদা ভাবে মিছিল করাটা দোষের কিছু নয়। তাছাড়া আলাদা ভাবে মিছিল করা মানেই যে গ্রুপিং তা ঠিক নয়। তাদের মনে হয়েছে বিধায় আলাদা ভাবে কর্মসূচী পালন করছে। তবে যেখানে দুটি কমিটি এক হয়ে কর্মসূচী পালন করেছে সেখানে আলাদা ভাবে আনন্দ মিছিল করাটা ঠিক হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।