দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২৮ মে ভোট গ্রহণ জমে উঠেছে গুঠিয়া ইউপি নির্বাচনী প্রচারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ জমে উঠেছে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। প্রার্থীদের পাশাপাশি ভোটারদের মাঝে দেখা দিয়েছে উৎসব মুখর পরিবেশ। দীর্ঘ ১৭ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে চলা ইউপির ভোট যুদ্ধে চেয়ারম্যান পদে লড়াই করছে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি সহ চার প্রার্থী। নির্বাচনকে ঘিরে বরাবরের ন্যায় আওয়ামী লীগ মনোনিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এবং সমর্থকদের বিরুদ্ধে রয়েছে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন থেকে সতর্কও করা হয়েছে ক্ষমতাসিন দলের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ডা. দেলোয়ার হোসেনকে।
উজিরপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানান, উজিরপুর পৌরসভা এবং গুঠিয়া ইউনিয়নের সীমানা নিয়ে গত ১৭ বছর যাবৎ আইনী জটিলতা চলে আসছিলো। অবশেষে জটিলতা কাটিয়ে পঞ্চম ধাপে গত ২১ এপ্রিল দেশের অন্যান্য ইউপি’র পাশাপাশি উজিরপুরের বৃহত্তর গুঠিয়া ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৮ মে এই ইউপিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর পূর্বে গত ২৮ এপ্রিল প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছেন প্রার্থীরা।
এই ইউনিয়নে মোট ১৮ হাজার ৫৮৩ জন ভোটারের বিপরীতে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চার জন প্রার্থী। এরা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ডা. দেলোয়ার হোসেন, বিএনপি মনোনিত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহীন হাওলাদার ও বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন মনোনিত হাত পাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. শাখাওয়াত হোসেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রাজধানীর উত্তরা মহানগর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সমবায় সম্পাদক আওরাঙ্গজেব হাওলাদার। তাছাড়া ইউপি’র সাধারণ সদস্য (মেম্বার) পদে ৪৪ জন এবং মহিলা সদস্য পদে ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
তবে শুরু থেকেই আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ডা. দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। শুধুমাত্র ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীই নয়, তার বিরুদ্ধে ভোটারদের হুমকি, নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের হয়রানির অভিযোগ করেছেন ক্ষমতাসিন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আওরাঙ্গজেব হাওলাদারও।
গুঠিয়া ইউপি নেতৃবৃন্দ জানান, আওয়ামী লীগের হয়ে যিনি নির্বাচন করছেন সেই ডা. দেলোয়ার হোসেনকে বিএনপি থেকে ধরে এনে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়েছে। ইতিপূর্বে সে এনপিপির মনোনয়ন নিয়ে বরিশাল-২ আসনে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন। এর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করে। এর পর বিএনপি ক্ষমতায় আসলে ২০০১ সালে সাবেক সাংসদ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এর হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। সেই থেকে তিনি বিএনপি’র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলো। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে ২০১৫ সালে সাবেক সংসদ মনিরুল ইসলাম মনি’র হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা বনে যান ডা. দেলোয়ার হোসেন। এমনকি ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নও পেয়ে যান তিনি।
ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী এবং সমর্থকরা বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে আওরাঙ্গজেব হাওলাদারকে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মনোনিত করেছেন।
অপরদিকে বিএনপি’র প্রার্থী মো. শাহীদ হাওলাদার জানান, আওয়ামী লীগ দলীয় এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদ্বয় তার নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করছে। আগামী ২২ মে নির্বাচনের দিন ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি ধামকি দিচ্ছে। এমনকি ধানের শীষের কর্মী সমর্থকদের নানাভাবে ভয়ভীতি ও হয়রানি করছে বলে অভিযোগ তোলেন। তার দাবী সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষভাবে ভোট গ্রহণ হলে এ ইউনিয়ন থেকে তিনিই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবে। কেননা এখন পর্যন্ত জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে তিনিই এগিয়ে আছে বলে দাবী করেছেন।
তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. দেলোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অবশ্য তার কর্মী সমর্থকরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা বলেন, আওয়ামী লীগের দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনী আচারণ বিধি লঙ্ঘন করছে। বিদ্রোহী প্রার্থী আওরাঙ্গজেব হাওলাদার নৌকা প্রতীকের কর্মী সমর্থকদের ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. জসিম উদ্দিন বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ এখনো শান্তিপূর্ণ রয়েছে। তবে ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচারণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পেয়েছেন তারা। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে শোকজ করা হয়েছিলো। এমনকি সে শোকজের জবাবও দিয়েছেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনী মাঠে তাদের মনিটরিং টিম কাজ করছে। তাছাড়া উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং ভ্রাম্যমান আদালত আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্ব পালন করছে বলে জানান তিনি।