দীর্ঘদিন ধরে পানি সংকটে থাকা সদর হাসপাতালে গভীর নলকূপ স্থাপন

রুবেল খান॥ অতঃপর পানির ব্যবস্থা হলো বরিশাল সদর (জেনারেল) হাসপাতালে। আজকের পরিবর্তনে সংবাদ প্রকাশের পর সদর হাসপাতালে স্থাপন করা হচ্ছে টিউবয়েল। ইতোমধ্যে এর কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দু-একদিনের মধ্যেই মর্টার যন্ত্রের মাধ্যমে হাসপাতালে পানি সরবরাহ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ।
এদিকে জরুরী অবস্থায় স্থাপন করা টিউবয়েলের পানিতে রোগীদের ভোগান্তি দূর হলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুরাবস্থা থেকেই যাচ্ছে। কেননা হাসপাতালের সাথে বাসভবনে পানি সরবরাহ দিতে হলে আরো ক্ষমতা সম্পন্ন পানি উত্তোলন যন্ত্র স্থাপন করতে হবে। তবে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় অচিরেই তা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা।
হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বরিশাল নগরীর সদর রোড, কাউনিয়া, নতুন বাজার, পলাশপুর, আমানতগঞ্জ, সদর উপজেলার চরবাড়িয়া, সায়েস্তাবাদ সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী সদর (জেনারেল) হাসপাতালে আসছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ রোগীই হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে। মেডিসিন, সার্জারী, গাইনী এবং ডায়রীয়া সহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা গ্রহণ করছে। ইতোপূর্বে এ হাসপাতালে ১৩০ থেকে দেড় শতাধিক রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়। কিন্তু সম্প্রতি হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কমে গেছে। যেসব রোগী ভর্তি অবস্থায় রয়েছে তারাও পানির অভাবে সদর হাসপাতাল থেকে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। গত ২০ দিন যাবত পানি বিহীন এমন দুরাবস্থার কারনে বর্তমানে হাসপাতালটিতে সর্বোচ্চ অর্ধশতাধিক রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে।
রোগীদের পাশাপাশি হাসপাতাল কম্পাউন্ডে থাকা চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ভোগান্তিতে পড়ছে। হাসপাতালের একমাত্র পানির পাম্পটিতে বিশুদ্ধ পানি না ওঠায় তারাও হাসপাতালের বাইরে থেকে বিভিন্ন ভাবে পানি সরবরাহ করছে। এছাড়া বিসিসি এবং ফায়ার সার্ভিস হাসপাতালের রোগীদের পানি সরবরাহ করে আসছে। এ নিয়ে গত ৩ অক্টোবর দৈনিক আজকের পরিবর্তনে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। যে কারনে নড়ে চড়ে বসেন বরিশাল স্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। এরই ধারাবাহিকতায় সংবাদ প্রকাশের পরদিন গত ৪ অক্টোবর থেকে সদর হাসপাতালের মূল ভবনের পাশে পানি সরবরাহের জন্য জরুরী ভিত্তিতে টিউবয়েল স্থাপন কাজ শুরু করে। যা এখন শেষ পর্যায়ে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী আজ বুধবার টিউবয়েল স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হবে। তবে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ পেতে আরো ২/১দিন সময় লেগে যাবে বলেও তারা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে বরিশাল স্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, রোগীদের দুরাবস্থার কথা ভেবে জরুরী ভিত্তিতে দু’ইঞ্চি পাইপের টিউবয়েল স্থাপন করা হচ্ছে। মটোরের মাধ্যমে এখান থেকে পানি সরবরাহ করে হাসপাতালের ৩নং এবং ৫নং ভবনে পানি সরবরাহ করা যাবে। দুটি ভবনের মধ্যে ৩ নম্বর ভবনটিতে পুরুষ এবং মহিলা মেডিসিন, সার্জারী এবং গাইনী ওয়ার্ড এছাড়া ৫নম্বর ভবনে ডায়রীয়া ওয়ার্ডের রোগীরা পানি পাবে। এ ডিপ টিউবয়েলটি স্থাপনে এক লক্ষ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হবে।
তিনি বলেন, মটোর দিয়ে দুটি ভবনের বাইরে অন্যকোথাও পানি সরবরাহ করা যাবে না। অন্যান্য স্থাপনা বা কোয়ার্টারে পানি সরবরাহ দিতে হলে অতি ক্ষমতা সম্পন্ন ডিপ টিউবয়েল এবং মটোর স্থাপন করতে হবে। তবে তা খুব ব্যয় বহুল। কিন্তু বরাদ্দ না থাকায় আপাতত কিছু করা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের ওই কর্মকর্তা।