দরপত্র নিয়ে দুর্নীতিতে শেবাচিম পরিচালকসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ অবশেষে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ঠিকাদারী সিন্ডিকেট সেভেন স্টার গ্রুপের বিরুদ্ধে দায়ের করা হলো দুর্নীতি মামলা। এই মামলায় হাসপাতালের ব্যাপক সমালচিত ও দুর্নীতিবাজদের সেল্টারদাতা শেবাচিম হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক স্বাচীপ নেতা ডা. কামরুল হাসান সেলিমকে প্রধান আসামী করা হয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবছরের পথ্য সরবরাহ সহ ৮ গ্রুপের দরপত্র নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে মো. মনিরুল ইসলাম নামে এক ঠিকাদার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলায় ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মু. কামরুল হাসান সেলিম এবং আলোচিত সেভেন স্টার গ্রুপের ৬টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ছাড়াও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি সহ ১৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দায়েরকৃত মামলাটি গ্রহণ করে বিচারক মোঃ আব্দুল হামিদ শুনানীর জন্য অপেক্ষমান রাখেন।
মামলার অন্যান্য বিবাদীরা হলো- দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি এবং হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ শহিদুল ইসলাম হাওলাদার, সদস্য সচিব ও মেডিসিন বহিঃর্বিভাগের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ আল মামুন, সদস্য ডাঃ সমরেন্দ্র সরকার, সমাজ সেবা অফিসার মিমি আক্তার, বরিশাল জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়ের সচিব। এছাড়াও আলোচিত সেভেন স্টার গ্রুপের সদস্য মেসার্স গ্রীণ ফ্যাশন, রশিদ এন্ড সন্স, সোনিয়া এন্টার প্রাইজ, জামাল ব্রাদার্স, নির্মান কনস্ট্রাকশন, ববি ইন্টারন্যাশনাল’র সত্ত্বাধিকারীদের বিবাদী করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানাগেছে, গত ১৭ মে শেবাচিম হাসপাতালের পথ্য সামগ্রীসহ ৮ গ্রুপের সামগ্রী সরবরাহের জন্য দরপত্রের আহবান করা হয়। উক্ত দরপত্রে উল্লেখিত ঠিকাদার বিবাদী সহ বাদী মনিরুল অংশগ্রহণ করে এবং ১৭ জুন দরপত্র জমা দেয়। পরে পরিচালক থেকে সিভিল সার্জন পর্যন্ত বিবাদীরা তার দরপত্রটি বৈধ মর্মে ঘোষণা দেয়। পরবর্তীতে উল্লেখিত ঠিকাদারের দ্বারা আর্থিকভাবে প্রভাবিত হয়ে অন্যান্য বিবাদীরা মনিরুলের দরপত্রটি বাতিল করেন। এছাড়াও উল্লেখিত বিবাদীরা পরস্পর যোগসাজশে পরিচালকের প্রত্যক্ষ মদদে দীর্ঘদিন থেকে হাসপাতালে লুটপাট করে আসছে। গত ১৬ জুলাই মনিরুল তার দরপত্রটি যাচাই বাছাই এর জন্য অনুরোধ করলেও পরিচালকসহ ১ম ৭জন বিবাদী তা গ্রহণ না করে তার জমা দেয়া পে-অর্ডারের আড়াই লাখ টাকা নিয়ে তালবাহানা শুরু করে। পরবর্তীতে উল্লেখিত ঠিকাদারদের কাজ দেয়ার বাহানা করলে মনিরুল পরিচালকসহ দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির কাছে আপত্তি জানায়। এ সময় বিবাদীরা তাকে আশ্বস্ত করলে পরে ওই আদেশই বহাল রাখে। ঘটনায় মনিরুল তার দরপত্রটি গ্রহণ আবেদনের পাশাপাশি কার্যাদেশ পাওয়ার আবেদন জানিয়ে মামলা করেন।
উল্লেখ্য, হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর থেকে সিন্ডিকেটের সেভেন স্টার নামক ঠিকাদারী সংস্থার কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পথ্য বিভাগ। প্রতি বছর লোক দেখানো দরপত্র আহ্বান করা হলেও গুছ প্রক্রিয়ায় পথ্য সরবরাহের দরপত্র হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। যুগের পর যুগ সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করে আসছে গ্রুপটি। তাদের পাশাপাশি ঠিকাদারদের কাছ থেকে পাওয়া মোটা অংকের উৎকোচ এবং রোগীদের ভাগ্যের কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং পথ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে মা এন্টার প্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কালোতালিকা ভুক্ত করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে আদালতে মামলা গড়ালেও তৎকালিন সময় আইনের মার প্যাচে পার পেয়ে যান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং ঠিকাদারী সংস্থার মালিকরা।
শুধু মাত্র পথ্য বিভাগই নয়, মোটর সাইকেট স্ট্যান্ড, পোশাক ধোলাই, ভাড়ি যন্ত্রপাতি ক্রয়, এমএসআর সামগ্রী সরবরাহ সহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই সেভেন স্টার গ্রুপের তৎপরতা থেকেই যায়। সে কারনে যুগের পর যুগ সাধারন ঠিকাদাররা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং ঠিকাদার সিন্ডিকেটের কারনে কার্যাদেশ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন বলেও অভিযোগ করেন সাধারন ঠিকাদাররা।