দন্ড, জরিমানা ও জাল পুড়লেও বন্ধ হচ্ছে না ইলিশ শিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ জেলেদের দন্ড, জরিমানা এবং জাল পুড়িয়ে ফেলেও দক্ষিণাঞ্চলের নদীতে মা ইলিশ শিকার বন্ধ হচ্ছে না। মৎস্য বিভাগের পর্যাপ্ত প্রচারাভিযান না করা, ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ইলিশ শিকারে জেলেদের উৎসাহিত করা এবং জেলেদের পুনর্বাসনের অপ্রতুলতা ও দুর্নীতিকে দায়ী করা হচ্ছে। এছাড়াও রয়েছে জনগণের সচেতনতার অভাব। যার কারনে মা ইলিশ রক্ষার কার্যক্রমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে পূরণ না হওয়ার শংকা দেখা দিয়েছে।
বরিশাল আঞ্চলিক মৎস অফিসের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক আজিজুল হক জানান, গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্য রাত থেকে মা ইলিশ রক্ষায় নদী এবং সাগরে নির্দিষ্ট এলাকায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেন সরকার। সরকারের এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে শুরু থেকেই কাজ করে যাচ্ছে নৌ বাহিনী, কোষ্টগার্ড, পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তবে প্রশাসন অভিযান চালালেও এর সবটুকু সফলতা নিয়ে নিচ্ছে মৎস বিভাগ।
আঞ্চলিক মৎস অফিস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাত থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন নদীতে সর্বমোট ৭৪০ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩৮ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানে মোট ৪১৩টি মামলা হয়েছে।
এসব অভিযানে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইলিশ শিকারের দায়ে ২৭৭ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। এছাড়া ছয় লাখ ৬৪ হাজার ৫৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
উদ্ধার হয়েছে ৩ দশমিক ৮৯ মেট্রিকটন ইলিশ, ২৭ দশমিক ৩৭ লাখ মিটার অবৈধ জাল এবং মাছ ধরার কাছে ব্যবহৃত ২৮টি নৌকা।
জেলা মৎস কর্মকর্তা ড. মো. ওয়াহেদুজ্জামান জানান, জেলায় ২৩৮ অভিযান ও ৯৩ ভ্রাম্যমাণ আদালত মাধ্যমে ৭২৯ কেজি ইলিশ, ছয় লাখ ৯৫ হাজার ১০০ মিটার জাল উদ্ধার করেছে। এসব অভিযানে ১৪৬টি মামলা হয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালতে এক লাখ ৪৬ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা আদায় ও ১০৪ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে।
এর পরে মা ইলিশ শিকারের জন্য সকল জেলেদের পুনর্বাসন কর্মসূচীতে নিয়ে আসার ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্টরা। পুনর্বাসন বঞ্চিত এবং মা ইলিশ রক্ষার উপকারীতা সম্পর্কে প্রচারণার অভাবে অজ্ঞাত জেলেরা ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ছত্রছায়ায় এমনকি প্রশাসনের সহায়তায় শিকারে নেমে পড়ে। এছাড়াও জনগণ নিষিদ্ধ সময়ে অল্পদামে মাছ ক্রয়ের সুবিধা পেয়ে জেলেদের শিকারে নেমে পড়তে উৎসাহিত করছে।
জেলা মৎস কর্মকর্তা ড. মো. ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, জেলায় ৫৭ হাজার ২৮৮ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। তবে বিভাগে এর সংখ্যা দুই লাখ ৫৫ হাজার ৪৮৬। এ সংখ্যক নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে এক লাখ ২৯ হাজার ৬৭৮ জনকে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ৪০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। একই সাথে ৪ হাজার ৬৭০ জেলেকে মাছ শিকারের জন্য জাল বিতরণ করা হয়েছে।
মৎস কর্মকর্তারা জানান, মৎস অফিসে পর্যাপ্ত জনবল নেই। আমরা অভিযানে গেলে প্রশাসনের সহযোগিতা নিচ্ছি। তাছাড়া প্রচারনার জন্য তথ্য অফিসকে চিঠি দেয়া হয়েছে বলেও জানান তারা।