দক্ষিনাঞ্চল থেকে নৌযানের অভাবে ঝুঁকি নিয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলে যাতায়াত

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ নৌযানের অভাবে বরিশাল সহ দক্ষিনাঞ্চল থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ঈদ পরবর্তি কর্মজীবী ও শ্রমজীবী মানুষের কর্মস্থলে ফেরা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নৌযান থাকা সত্বেও রাষ্ট্রীয় জাহাজ চলাচল প্রতিষ্ঠান-বিআইডব্লিউটিসি বরিশালÑচট্টগ্রাম উপকূলীয় নৌপথে ২০১১-এর মধ্যভাগ থেকে তার যাত্রী পরিবহন বন্ধ রেখেছে এক অজানা কারনে। অথচ উপকূলীয় নৌপথে যাত্রী পরিবহন সরকার ‘গন দায়বদ্ধ সেবা খাত’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এজন্য সরকার প্রতিবছর সংস্থাটিকে নগদ ভর্তুকিও প্রদান করছে।
অপরদিকে উচ্চ আদালতের নির্দেশে বরিশালÑলক্ষ্মীপুর রুটে নিরাপদ নৌ যোগাযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে বরিশাল থেকে নৌপথে লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর হাটে পৌছে সেখান থেকে চট্টগ্রাম ও সন্নিহিত এলাকায় যাতায়াতও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গত দু দিন ধরে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারনে বরিশাল, পাটুয়াখালী, ভোলা ও নোয়াখালী অঞ্চলে ২নম্বর সতর্ক সংকেত জারীর মধ্যেই বরিশাল থেকে লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর হাটের নৌ যোগাযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে সরকারী নৌ বানিজ্য-প্রতিষ্ঠান, বিআইডব্লিউটিসি’র ইজারা দেয়া সী-ট্রাক ‘খিজির-৮’ এ দুর্যোগের মধ্যেও ক্ষমতায় কয়েকগুন বেশি যাত্রী বহন করছে দায়িত্বশীলদের চোখের সামনে দিয়েই। এর পরেও ঈদ পরবর্তি কর্মস্থলমুখি অনেক শ্রমজীবী ও কর্মজীবী মানুষ চট্টগ্রাম অঞ্চলে পৌছতে পারছে না।
ঝড়ঝঞ্ঝার মৌসুম বিধায় সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর ইতোপূর্বেই ১৫মার্চ থেকে ১৪অক্টোবর পর্যন্ত ভাটি মেঘনায় এক ইঞ্জিন বিশিষ্ট অভ্যন্তরীন রুটের সব ধরনের নৌযানের চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এরই সুবাদে একটি প্রতিষ্ঠান বিআইডব্লিউটিসি থেকে সারা বছরের জন্য সী-ট্রাক ‘খিজির-৮’ ইজারা নিয়ে তা শধুমাত্র মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বরিশালÑলক্ষ্মীপুর রুটে পরিচালনা করে আসছে। বাকি সময়ে তা সংস্থার কর্মকর্তাদের যোগসাজসে নানা অজুহাতে বন্ধ রাখা হয়।
এরই মধ্যে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের অনুমোদিত নকশা ও ইনল্যান্ড শিপিং অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী দ্বি-স্তর বিশিষ্ট ‘এমভি পারিজাত’ নামের একটি নৌযান তৈরী করে বেসরকারী একটি প্রতিষ্ঠান। প্রায় ১৩১ফুট দৈর্ঘ ও ৩৫ফুট প্রস্থ বিলাসবহুল এ নৌযানটি ইলেক্টো-হাইড্রোলিক পরিচালন পদ্ধতি সহ জিপিএস সহ সব ধরনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি স্থাপন করা হয়েছে। সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর নৌযানটি দেশের উপকূলীয় যেকোন রুটে সারা বছর চলাচল উপযোগী বলে সার্ভে সনদও প্রদান করেছে।
কিন্তু নৌযানটির চলাচল বাধাগ্রস্থ করে ঈদেও সময় মনপোলী ব্যবসা করার লক্ষ্যে একটি কুচক্রী মহল ইতোপূর্বে কয়েক দফা উচ্চ আদালতের স্মরনাপন্ন হলেও সেখান থেকে কোন ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। তবে বিআইডব্লিউটিএ’র একটি মহল নৌযানটির সময়সূচী প্রদানে নানা ভাবে কালক্ষেপন করার মধ্যেই চেয়ারম্যানের নির্দেশে গত ১৬জুলাই শেষ বেলায় সাময়িক অনুমোদন প্রদান করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ১৭জুলাই থেকে এমভি পারিজাত বরিশালÑলক্ষ্মীপুর রুটে যাত্রী পরিবহনও শুরু করে।
কিন্ত এ নৌযানটি চলাচলের বিষয়টি নিয়ে হাইকার্টের একটি বেঞ্চে রিট নিস্পত্তির অপেক্ষায় থাকার মধ্যেই একটি অবকাশকালীন বেঞ্চ থেকে গত বৃহস্পতিবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে আবেদনকারীর আইনজীবী বিআইডব্লিউটিএ সহ সংশ্লিষ্ট মহলে চিঠি পাঠিয়েছন। ফলে গত শুক্রবার থেকে এমভি পারিজাত-এর চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বরিশাল থেকে লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাট রুটে যাত্রী পরিবহনও সীমিত হয়ে পড়েছে। গত দু দিনই কয়েক হাজার যাত্রী এ নৌপথে চট্টগ্রাম সহ সন্নিহিত এলাকায় যাতায়াতের লক্ষ্যে বরিশাল বন্দরে ভীড় করলেও মাত্র ২শ আসনের একটি সী-ট্রাক ক্ষমতার আড়াই থেকে তিনগুন যাত্রী নিয়ে ভয়াল ভাটি মেঘনা পাড়ি দিলেও সব যাত্রী বহন করতে পারেনি। ঝড়ঝঞ্ঝার মৌসুম বিধায় উপকূল পাড়ী দেয়ার অনুমোদনধারী নৌযান সংকটে একটি মাত্র সীÑট্রাক ছাড়া অন্য কোন নৌযানও চলছে না এ নৌপথে। ফলে সরকারী নৌযানের ইজারাদারের পোয়াবারো হলেও যাত্রীদের চলাচল করতে হচ্ছে চরম ঝুঁকি নিয়ে।
বিষয়টি নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র দায়িত্বশীল মহলে আলাপ করা হলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বরিশাল থেকে সারা বছরই বিপুল সংখ্যক যাত্রী চট্টগ্রাম অঞ্চলে যাতায়াত করে থাকে। কিন্তু ১৫মার্চ থেকে ১৪অক্টোবর পর্যন্ত ঝড়ঝঞ্ঝার মৌসুম বিধায় ভাটি মেঘনায় অভ্যন্তরীন রুটের নৌযান চলাচলে বিধি নিষেধ থাকে। এরই মধ্যে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের অনুমোদিত নকশা ও ইনল্যান্ড শিপিং অর্ডিন্যন্স অনুযায়ী বেসরকারী সেক্টরে একটি মাত্র যাত্রীবাহী নৌযান চালু হলেও তার চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে উচ্চ আদালতের নির্দেশে। ফলে একমাত্র সীÑট্রাক ঈদ পরবর্তি সময়ে যাত্রী ভীড় সামাল দিতে না পারলেও কিছুই করার নেই। আদালতের নির্দেশ অনুসরন করার কথা জানিয়ে কর্তৃপক্ষের অসহাত্বের কথা জানান ঐ কর্মকর্তা।
অপরদিকে রাষ্ট্রীয় জাহাজ চলাচল প্রতিষ্ঠান বিআইডব্লিউটিসি’র নৌযানে মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী বহন করার বিষয়ে সংস্থার একাধীক কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হল তাদের প্রায় কেউই কোন মন্তব্য করতে রাজী না হলেও বিষয়টি নিয়ে খোজ খবর নেবেন বলে জানিয়েছেন।