দক্ষিনাঞ্চল জুড়ে দ্বিতীয় দিনের মত দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া

বিশেষ প্রতিবেদক॥ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি নি¤œচাপে পরিণত হয়ে গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পায়রা সমুদ্র বন্দরের ১০কিলোমিটার পূর্বে কার্যত স্থির ছিল। তবে এ নি¤œচাপের প্রভাবে দক্ষিনাঞ্চল সহ গোটা উপকূল জুড়ে গতকালও দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছিল। জনজীবন অনেকটাই স্থবির। সাগর এখনো মাঝারী মাত্রায় উত্তাল থাকায় উপকূল ও সাগর মোহনার নদ-নদীতে জেলেরা মাছ ধরতে যাচ্ছেনা। আবহাওয়া বিভাগ থেকে সবধরনের জেলে নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। নি¤œচাপটি গতকাল শেষ রাত থেকে সন্ধ্যা পর্যন্তই পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ১০ কিলোমিটার পূর্বে ২২ ডিগ্রী উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০.২ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশ একই স্থানে স্থির ছিল। ফলে এটি আরো ঘনিভূত হবার আশংকা রয়েছে।
এদিকে ভাটি মেঘনা উত্তাল থাকার পাশাপাশি প্রবল স্রোতের ভাঙনে ভোলার ইলিশাঘাট এলাকার ঘাট ভেঙে যাওয়ায় গতকাল দ্বিতীয় দিনের মত ভোলাÑলক্ষ্মীপুর ফেরি সার্ভিস বন্ধ ছিল। কবে নাগাদ ঘাট মেরামত করে এ ফেরি সার্ভিস চালু সম্ভব হবে তা বলতে পারছে না কেউ। ফলে চট্টগ্রাম-বরিশাল ও খুলনা বিভাগের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ঐ ফেরি সেক্টরের দু প্রান্তের ঘাটে বিপুল সংখ্যক যানবাহন আটকে রয়েছে।
অপরদিকে টানা তিন দিনের লাগাতার বর্ষনে সমগ্র দক্ষিনাঞ্চলে স্বাভাবিক জন জীবন এখনো প্রায় বিপর্যস্ত। বরিশাল সহ দক্ষিনাঞ্চলের সব নদী বন্দরগুলোতে দুই নম্বর সতর্ক সংকেত জারী রাখায় অনধিক ৬৫ফুট দৈর্ঘের সব যাত্রীবাহী নৌযানের চলাচল বন্ধ ছিল গতকালও। গতকাল সকালের পূর্ববর্তী ২৪ঘন্টায় পটুয়াখালীতে ৬৫মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। বরিশাল সহ দক্ষিনাঞ্চলের অন্যন্য জেলাগুলোতেও গতকালও দিন রাত মাঝারী বর্ষণ অব্যাহত ছিল। গতকাল দুপুরের পরে বরিশালে বর্ষনের মাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পায়।
গত রবিবার উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় নি¤œচাপে পরিনত হয়। এটি আরো ঘনীভূত হয়ে ভাটি মেঘনা ও বুড়িশ্বর মোহনা দিয়ে দেশের উপকূল অতিক্রম করার সম্ভবনা রয়েছে। মৌসুমী বায়ুর অক্ষ ভারতের রাজস্থান, সুস্পষ্ট লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল মধ্য প্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং নি¤œচাপের কেন্দ্রস্থল হয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে বলে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের দক্ষিণাংশে সক্রিয় ও উত্তরাংশে মোটামুটি সক্রিয় থাকলেও তা উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থা থাকায় উপকূলভাগ জুড়ে ঝড়ো হাওয়ার সাথে বৃষ্টি সহ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অব্যাহত রয়েছে।
এ মৌসুমী নি¤œ চাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়া অব্যাহত থাকার কথা জানিয়ে এটি আরও ঘণীভূত হবার কথাও বলেছে আবহাওয়া বিভাগ। নি¤œচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ৪০ কিলোমিটার। যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। বরিশালের পায়রা সহ দেশের সবকটি সমুদ্র বন্দরকে গতকালও ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতের আওতায় রাখে আবহাওয়া বিভাগ।
বরিশাল সহ দক্ষিনাঞ্চলের সবগুলো নদী বন্দরে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত গতকাল দ্বিতীয় দিনের মত বহাল থাকায় ছোট মাপের নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে অনেক স্থানীয় রুটের যাত্রীদের দূর্ভোগ অব্যাহত থাকলেও বিকল্প কিছু করারও ছিলনা। এছাড়া বরিশালÑখুলনা মহাসড়কের বেকুঠিয়া ও বরিশালÑভোলাÑচট্টগ্রাম মহাসড়কের ভেদুরিয়াÑলাহারহাট ফেরি সেক্টরেও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
লাগাতার বর্ষণের সাথে উজানের ঢলের পানি ও ফুসে ওঠা সাগরের বাড়তি উচ্চতার জোয়ার নিয়ে দক্ষিনাঞ্চলের নদ-নদীগুলো বেশীরভাগ এলাকাতেই দুকুল ছাপিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে কৃষকের দুঃশ্চিন্তাও ক্রমশ বাড়ছে। এ অঞ্চলের প্রধান খাদ্য ফসল আমনের বীজতলা গত মাসের আকষ্মিক প্রবল বর্ষনে একবার ক্ষতিগ্রস্ত হবার পরে গত তিন দিনের দূর্যোগে অনেক এলাকায়ই পানির তলায় চলে গেছে। ফলে মধ্য শ্রাবনেও অনেক এলাকায়ই রোপা আমনের ভবিষ্যত এখনো অনিশ্চিত। গতরাতে এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মাওয়াÑকাওড়াকান্দী, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও চাঁদপুরÑশরিয়তপুর সেক্টরে ফেরি সার্ভিস অব্যাহত থাকলেও পদ্মার প্রবল স্রোতে ফেরিগুলো চলছিল অতি সন্তর্পনে। অপরদিকে বরিশাল সহ দক্ষিনাঞ্চল থেকে গতরাতে একাধীক সরকারীÑবেসরকারী যাত্রীবাহী নৌযান ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেলেও যাত্রী সংখ্যা ছিল কিছুটা কম।